পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ (SIR) শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে, কিছুদিনের মধ্যেই পুর্নাঙ্গ নির্দেশিকা (Government Order) প্রকাশিত হবে। এই প্রক্রিয়ায় বুথ লেভেল অফিসারদের ভূমিকা (BLO Duty) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অনেক সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষক শিক্ষিকা এই দায়িত্ব পালনে অনীহা দেখাচ্ছেন। যার জেরে রাজ্য নির্বাচন কমিশন (West Bengal Election Commission) এই পরিস্থিতিতে কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে। যদি সরকারি কাজে (Government of West Bengal) কোনো অবহেলা দেখা যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যা সরকারি কর্মী (Government Employees) এবং রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
Government Order on SIR Mandatory BLO Duty
সর্বশেষ জানা তথ্য অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত হাজারেরও বেশি BLO Officer তাদের কর্মস্থলে যোগ দেননি। এর ফলে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে বিলম্ব হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন আগেই কয়েকশো BLO-কে কারণ দর্শানোর নোটিশ (Show Cause Notice) পাঠিয়েছে। এখন নতুন নির্দেশিকায় (Government Order) তাদের অবিলম্বে কাজে ফিরে আসার আদেশ দেওয়া হয়েছে। ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুসারে এই দায়িত্ব পালন করা তাদের বাধ্যতামূলক। যদি তারা অসহযোগিতা চালিয়ে যান, তাহলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হবেন।
BLO Officer নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ
চার হাজারেরও বেশি BLO-দের নিয়োগে অনিয়মের খবর উঠেছে। অনেক যায়গায় পার্শ্ব শিক্ষকদের (Para Teacher) সহকারী শিক্ষক হিসেবে দেখিয়ে এই কাজে লাগানো হয়েছে। এই অভিযোগগুলো রাজ্য নির্বাচন কমিশনের (CEO West Bengal) কাছে পৌঁছেছে। তারা জেলা শাসকদের (DM) কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে। এই অনিয়মগুলো সার্বিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে এ নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে।
DA আন্দোলনের প্রভাব ও প্রতিবাদ
DA আন্দোলনের নেতা ভাস্কর ঘোষ এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছেন। তিনি বলছেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য স্কুল বন্ধ রাখা অযৌক্তিক। এই আন্দোলন সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে বিদ্রোহের আগুন জ্বালিয়েছে। BLO রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ করেন, যা অনেক সময় নেয়। কিন্তু এই অতিরিক্ত দায়িত্ব তাদের নিজস্ব কাজে বাধা সৃষ্টি করছে। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ এই বিষয়ে আরও প্রতিবাদের পরিকল্পনা করছে।
আরও পড়ুন, সরকারি কর্মীদের জন্য ৫টি নির্দেশ। ভালো করে জেনে নিন।
কমিশনের আশ্বাস ও ট্রেনিং ব্যবস্থা
নির্বাচন কমিশন BLO দের সাত দিনের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করেছে। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা প্রক্রিয়াটি ভালোভাবে বুঝতে পারবেন। কমিশন আশ্বাস দিয়েছে, এই কাজে নিয়োজিত কাউকে অন্য কোনো দায়িত্ব দেওয়া হবে না। তাদের বদলি করা যাবে না, যাতে তারা নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারেন। যদি কোনো অজুহাত দেখানো হয়, তাহলে তা গ্রাহ্য হবে না। এই পদক্ষেপগুলো দিয়ে কমিশন সময়মতো কাজ শেষ করার চেষ্টা করছে।
ভোটার তালিকা সংশোধনের গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
ভোটার তালিকা সংশোধন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি। এতে কোনো ত্রুটি থাকলে গণতন্ত্রের উপর প্রভাব পড়ে। পশ্চিমবঙ্গে এই কাজটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা জরুরি। সরকারি কর্মচারীদের এই দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করতে হবে। যদি অবহেলা চলতে থাকে, তাহলে রাজ্যের নির্বাচনী ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। সবাইকে একযোগে কাজ করলে এই সমস্যা সমাধান হবে।
আরও পড়ুন, বাড়ি বসে কাজ করে এক্সট্রা ইনকাম করতে হলে এখানে দেখুন।
চূড়ান্ত সতর্কতা ও রাজ্যের পরিস্থিতি
রাজ্য নির্বাচন কমিশন (CEO West Bengal) কোনো ধরনের ঢিলেমি সহ্য করবে না। এই নির্দেশিকা সরকারি কর্মচারীদের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা। BLO-দের কাজে ফিরে আসা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় আইনি পদক্ষেপ অবশ্যম্ভাবী। এই ঘটনা রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভবিষ্যতে এরকম সমস্যা এড়াতে আরও কড়া নিয়ম চালু হতে পারে।