Ration items list: পশ্চিমবঙ্গে জুন মাসের রেশন তালিকা। কোন কার্ডে বিনামূল্যে রেশন কি কি পাবেন দেখুন

পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার আসার পরও বহাল থাকলো আগের মতো বিনামূল্যে রেশন তালিকা তথা (Free Ration Items List). সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জুন মাসেও বিনামূল্যে রেশন দেওয়া অব্যাহত থাকছে। পশ্চিমবঙ্গের কোটি কোটি মানুষ প্রতি মাসে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সাশ্রয়ী ও বিনামূল্যে রেশন তথা খাদ্যশস্য পেয়ে থাকেন। ২০২৬ সালের জুন মাসের জন্য খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তর কর্তৃক একটি নতুন রেশন তালিকা এবং নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে। মাসের শুরুতেই দেখে নিন, কোন কার্ডে কি কি রেশন সামগ্রী বিনামূল্যে দেওয়া হবে।

Ration items list – পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন রেশন তালিকা

পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন প্রশাসনিক ব্যবস্থার অধীনে এই জুন মাসের রেশন তালিকাটি প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো রেশন বণ্টন প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা আনা এবং প্রতিটি যোগ্য সুবিধাভোগীর কাছে সঠিক সময়ে খাদ্যশস্য পৌঁছে দেওয়া।

রেশনে বিনামূল্যে কী কী দেওয়া হয়?

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বর্তমান খাদ্য সুরক্ষা নীতি অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত যোগ্য পরিবারগুলোকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ খাদ্যশস্য (Free ration) প্রদান করা হয়। রেশনের মাধ্যমে মূলত দুটি প্রধান খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়:

  • চাল: বাংলার মানুষের প্রধান খাদ্য হিসেবে উচ্চ মানের চাল বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়।
  • গম/আটা: চালের পাশাপাশি আটা বা গম তৈরির জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ গম বিনামূল্যে দেওয়া হয়ে থাকে।
  • ডাল/ চিনি: বিভিন্ন সময়ে ডাল, চিনি সহ প্রভৃতি সামগ্রী দেওয়া হয়।

জুন মাসে কোন কার্ডে কি পরিমাণ রেশন দেওয়া হবে?

জুন মাসের নতুন তালিকা অনুযায়ী, বিভিন্ন ক্যাটাগরির রেশন কার্ডের জন্য খাদ্যশস্যের বরাদ্দ সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে:

  • AAY (অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা): পরিবার পিছু ১৫ কেজি থেকে ২০ কেজি চাল/গম।
  • PHH (অগ্রাধিকার প্রাপ্ত পরিবার): মাথাপিছু ২ কেজি থেকে ৩ কেজি চাল/গম।
  • SPHH (বিশেষ অগ্রাধিকার প্রাপ্ত পরিবার): মাথাপিছু ২ কেজি থেকে ৩ কেজি চাল/গম।
  • RKSY-1 (রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা যোজনা-১): মাথাপিছু ৫ কেজি চাল।
  • RKSY-2 (রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা যোজনা-২): মাথাপিছু ২ কেজি চাল।

তালিকা ডাউনলোড করুন

রেশন কার্ড চালু রাখতে কী কী নথি দিতে হবে?

রেশন সুবিধা নিরবচ্ছিন্নভাবে বজায় রাখতে হলে গ্রাহকদের তাদের রেশন কার্ডটি সচল বা সক্রিয় রাখতে হবে। খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের নির্দেশিকা অনুযায়ী নিচের কাজগুলো করা বাধ্যতামূলক:

  • আধার লিঙ্ক (Aadhaar Seeding): রেশন কার্ডের সাথে পরিবারের প্রতিটি সদস্যের আধার কার্ডের লিঙ্ক থাকা বাধ্যতামূলক।
  • ই-কেওয়াইসি (e-KYC): রেশন দোকানে গিয়ে বায়োমেট্রিক বা আঙুলের ছাপ দিয়ে ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করতে হবে।
  • মোবাইল নম্বর সংযুক্তিকরণ: কার্ডের সাথে একটি সচল মোবাইল নম্বর যুক্ত রাখতে হবে।

জাল রেশন কার্ড রুখতে সরকারের পদক্ষেপ

রেশন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং দুর্নীতি দমনে সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ডিজিটাল রেশন কার্ড এবং আধার ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক করার ফলে মৃত ব্যক্তি বা অযোগ্য ব্যক্তিদের নামে থাকা লক্ষ লক্ষ জাল কার্ড বাতিল করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া রেশন দোকানে ‘পস’ (Point of Sale – PoS) মেশিনের মাধ্যমে বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন করে তবেই রেশন দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে প্রকৃত সুবিধাভোগীরাই খাদ্য পাচ্ছেন।

উপসংহার

পরিশেষে বলা যায়, জুন মাসের এই নতুন রেশন তালিকা এবং কড়া নির্দেশিকা পশ্চিমবঙ্গের খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করবে। বিনামূল্যে রেশন প্রদানের মাধ্যমে সরকারের এই জনকল্যাণমুখী উদ্যোগ তখনই সম্পূর্ণ সফল হবে যখন সাধারণ মানুষ তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হবেন এবং সঠিক সময়ে নিজেদের কার্ডের ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করবেন।

শেয়ার করুন: Sharing is Caring!