Annapurna Yojana: অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে এক দিকে খুশির খবর ও অন্যদিকে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য রাজনীতিতে এখন অন্যতম চর্চিত বিষয় হলো নতুন প্রকল্প অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana). এই সরকারি প্রকল্পকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মনে যেমন বিপুল উৎসাহ রয়েছে, তেমনই প্রশাসনিক স্তরে চলছে কড়া নজরদারি। সম্প্রতি মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের এক বিশাল জনসভা থেকে এই প্রকল্প নিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikary). তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো রকম অনিয়ম বা দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। একই সঙ্গে তিনি যোগ্য প্রাপকদের জন্য একটি অত্যন্ত বড় ও খুশির খবরও শুনিয়েছেন এই সভা থেকে।

Annapurna Yojana – যোগ্য মা-বোনেদের জন্য বড় ও খুশির খবর

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর ভাষণে স্পষ্ট জানান যে, রাজ্যের কোনো যোগ্য নারী এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন না। তিনি তথ্য দিয়ে বলেন যে, ইতিমধ্যে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ মা-বোন ও দিদির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই প্রকল্পের টাকা সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলার কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই জেলা থেকে মোট ১৫ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছিল। তার মধ্যে কোনো রকম ধর্ম, বর্ণ বা দলীয় ভেদাভেদ না করে ১২ লক্ষ যোগ্য মহিলার অ্যাকাউন্টে গত ১ জুলাই ৩ হাজার টাকা করে পাঠানো হয়েছে। বাকি আবেদনপত্রগুলো খতিয়ে দেখার কাজও অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।

অযোগ্যদের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা

খুশির খবরের পাশাপাশি অনিয়ম রুখতে অত্যন্ত কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি পূর্বতন সরকারের আমলের প্রসঙ্গ টেনে এনে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরেন। তিনি জানান, আগের সরকারের আমলে চালু থাকা মহিলাদের প্রকল্পে প্রায় ১০ লক্ষ পুরুষ আবেদনকারীর নাম যুক্ত ছিল। নারীদের জন্য বরাদ্দ টাকা কীভাবে পুরুষদের অ্যাকাউন্টে যাচ্ছিল, তা নিয়ে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এই ধরনের বড়সড় জালিয়াতি রুখতেই বর্তমানে অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদনপত্রগুলো অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে স্ক্রুটিনি বা ঝাড়াই-বাছাই করা হচ্ছে।

টাকা ঢুকেছে কিনা দেখুন

৩০ অগাস্ট পর্যন্ত চলবে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া

প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে রাজ্য জুড়ে এখন ব্লক স্তরে জনতা শিবিরের মাধ্যমে ফর্ম জমা নেওয়ার কাজ চলছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ৩০ অগাস্ট পর্যন্ত এই ভেরিফিকেশন বা Annapurna Yojana আবেদনপত্র যাচাইয়ের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে চালানো হবে। এনকোয়ারি অফিসার এবং বিশেষ ডেটা ব্যাঙ্কের মাধ্যমে প্রতিটি তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখে তবেই সবুজ সংকেত দেওয়া হচ্ছে। এই যাচাই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো ভুয়ো ও অযোগ্য আবেদনকারীদের তালিকা থেকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া। এর ফলে প্রকৃত অভাবী ও যোগ্য মহিলারাই কেবল এই বড় আর্থিক সহায়তার সুবিধা পাবেন।

সরকারের নতুন লক্ষ্য ও রাজনৈতিক তরজা

বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পূর্বতন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। এর পাশাপাশি মহিলাদের জন্য ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে সরাসরি দ্বিগুণ অর্থাৎ ৩,০০০ টাকা করা হয়েছে। তবে এই নাম বদল ও ভেরিফিকেশনের জেরে অনেকের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে সরব হয়েছেন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ফেসবুক লাইভে এসে অভিযোগ করেন যে, লক্ষাধিক মা-বোনের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ায় তারা হাহাকার করছেন। এই রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝেই মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে, যাচাই পর্ব শেষ হলেই সমস্ত যোগ্য নারী তাঁদের অধিকার বুঝে পাবেন।

শেয়ার করুন: Sharing is Caring!