Annapurna Yojana Form: পশ্চিমবঙ্গে অন্নপূর্ণা যোজনা ফর্ম প্রকাশ। জানুন আবেদন পদ্ধতি ও যোগ্যতার সমস্ত খুঁটিনাটি

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের (Government of West Bengal) পক্ষ থেকে রাজ্যের মহিলাদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার উদ্দেশ্যে (Annapurna Yojana Form) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের (Annapurna bhandar) আবেদনপত্র বা অন্নপূর্ণা যোজনা ফর্ম প্রকাশ করেছেন। এই নতুন কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো গ্রামীণ ও শহরের পিছিয়ে পড়া নারীদের আর্থিক সুরক্ষা প্রদান করা। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে যে, যোগ্য উপভোক্তারা অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই সরকারি অনুদানের আওতায় আসতে পারবেন। রাজ্য রাজনীতি এবং সমাজকল্যাণের ক্ষেত্রে এই নতুন উদ্যোগ একটি বিশেষ মাইলফলক হতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য আবেদনের সম্পূর্ণ রূপরেখা ইতিমধ্যেই তৈরি করা হয়েছে।

Annapurna Yojana Form – অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম প্রকাশ

নবান্নে আয়োজিত একটি বিশেষ প্রশাসনিক বৈঠকের মাধ্যমে এই বহুপ্রতীকিত অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম প্রকাশ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে এই ফর্মের আনুষ্ঠানিক উন্মোচন করে প্রকল্পের কাজ শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে রাজ্যের যোগ্য মহিলারা প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। পূর্ববর্তী ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের উপভোক্তাদের নাম ক্রমান্বয়ে এই নতুন তালিকায় স্থানান্তরিত করা হবে। তবে নতুন তালিকায় যাতে কোনো অনিয়ম না থাকে, তার জন্য কঠোর স্ক্রিনিং বা ঝাড়াই-বাছাই করা হবে। প্রশাসন আশাবাদী যে এই ভাতার টাকা সরাসরি মহিলাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে।

মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা

অন্নপূর্ণা যোজনা ফর্ম প্রকাশের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রকল্পের রূপরেখা স্পষ্ট করে দেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে নির্দিষ্ট আবেদনপত্রটি (Annapurna Yojana Form) অত্যন্ত নির্ভুলভাবে পূরণ করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, দেশের বৈধ নাগরিক তালিকায় নাম না থাকলে কেউ এই সুবিধা পাবেন না। একই সাথে তিনি জানান, পূর্ববর্তী প্রকল্পে বহু ভুয়ো আবেদনকারীর নাম যুক্ত ছিল, যা এবার কঠোরভাবে বাদ দেওয়া হবে। আয়কর দাতা কিংবা সরকারি ও আধা-সরকারি চাকুরিজীবী পরিবারের মহিলারা এই সুবিধার আওতায় আসবেন না। তবে সিএএ (CAA) বা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনে আবেদনকারীরাও এই প্রকল্পে সুবিধা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। কম বেশি প্রায় ৩০ লাখ নাম এই প্রকল্প থেকে বাদ যেতে পারেন।

অন্নপূর্ণা যোজনা ফর্ম কিভাবে ফিলাপ করবেন?

অন্নপূর্ণা যোজনা ফর্ম পূরণ করার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ কিন্তু সতর্কতামূলক করা হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষের অসুবিধা না হয়।

  • প্রথমে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যেতে হবে
  • এরপর আবেদনকারীকে নাম, জন্মতারিখ এবং সঠিক যোগাযোগের ঠিকানা ফর্মে উল্লেখ করতে হবে।
  • এরপর পরিবারের সমস্ত সদস্যের বিস্তারিত বিবরণ লিখতে হবে।
  • এরপর ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ দিতে হবে
  • ফর্মে ছবি যুক্ত করতে হবে
  • এরপর জমা করতে হবে

অনলাইন ও অফলাইনে ফর্ম প্রকাশ

সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে রাজ্য সরকার অনলাইন এবং অফলাইন—উভয় পদ্ধতিতেই ফর্ম পূরণের ব্যবস্থা রেখেছে। যারা প্রযুক্তিতে অভ্যস্ত, তারা সরাসরি রাজ্য সরকারের নির্দিষ্ট পোর্টাল বা ওয়েবসাইটে গিয়ে ডিজিটাল ফর্ম ফিলাপ করতে পারবেন। অন্যদিকে, প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জন্য অফলাইনে ফর্ম সংগ্রহ এবং জমা দেওয়ার বিশেষ বন্দোবস্ত করা হয়েছে। আগামী ১৫, ১৬ এবং ১৭ তারিখ রাজ্যজুড়ে বিশেষ ‘জনকল্যাণ শিবির’ আয়োজন করা হবে যেখানে অফলাইনে ফর্ম দেওয়া হবে। প্রতিটি পৌরসভা এবং পঞ্চায়েত স্তরে ওয়ার্ডভিত্তিক ক্যাম্প করে এই আবেদন প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হবে। ডিজিটাল ও শারীরিক দুই মাধ্যমেই যাতে সাধারণ মানুষ সাহায্য পান, তার জন্য বিধায়করাও এই কাজে যুক্ত থাকবেন।

ফর্ম ফিলাপ করতে এখানে দেখুন।

কি কি ডকুমেন্টস লাগবে?

অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পে আবেদন করার জন্য নির্দিষ্ট কিছু নথিপত্র বা ডকুমেন্টস সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রথমত, আবেদনকারীর একটি আধার কার্ড থাকতে হবে যা অবশ্যই সচল ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সাথে যুক্ত বা লিঙ্ক করা থাকবে। নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র হিসেবে ভোটার কার্ড বা ভারতীয় তালিকার নথিপত্র আবেদনের সাথে যুক্ত করতে হবে। এর পাশাপাশি পরিবারের আয়ের স্থিতি নির্ধারণের জন্য স্বঘোষিত আয়ের শংসাপত্র জমা দেওয়া প্রয়োজন হতে পারে। যারা সিএএ-র অধীনে আবেদন করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে সেই সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে। সমস্ত নথির জেরক্স কপিতে আবেদনকারীর নিজস্ব স্বাক্ষর বা সেলফ-অ্যাটেস্টেড থাকা অত্যন্ত জরুরি।

অন্নপূর্ণা যোজনা ফর্ম জমা দেওয়ার সময়ীমা

সরকারের পক্ষ থেকে এই বৃহৎ আবেদন প্রক্রিয়াটি (Annapurna Yojana Form) সম্পন্ন করার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আগামী ১ জুন থেকে এই প্রকল্পের আবেদনপত্র গ্রহণ এবং স্ক্রিনিং বা যাচাইকরণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য প্রশাসনকে মোট ৯০ দিনের একটি সময়সীমা বা লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। এই তিন মাস সময়কালের মধ্যে সমস্ত ব্লকে এবং পৌরসভায় ধাপে ধাপে আবেদনের কাজ শেষ করা হবে। প্রতি সপ্তাহে কতজন এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত বা এনরোলমেন্ট করলেন, তার খতিয়ান জনসমক্ষে আনা হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি নির্দিষ্ট সময়ের আগেই শেষ করে চূড়ান্ত তালিকাটি রাজ্য সরকারের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে আপলোড করা হবে।

উপসংহার

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনা বা অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্প রাজ্যের নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ। প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকার এই প্রত্যক্ষ আর্থিক সাহায্য সাধারণ পরিবারের মহিলাদের দৈনিক চাহিদাপূরণে অনেকটাই সাহায্য করবে। ভুয়ো আবেদনকারীদের বাদ দিয়ে প্রকৃত অভাবী ও যোগ্য মানুষের কাছে সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই এখন প্রশাসনের মূল চ্যালেঞ্জ। স্বচ্ছ তালিকা তৈরি এবং আধার লিঙ্কের মাধ্যমে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানো দুর্নীতির পথ বন্ধ করবে। যতদিন না এই প্রকল্প পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে, ততদিন আগের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধাই সচল থাকবে। সামগ্রিকভাবে, এই প্রকল্প সফল হলে রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক নতুন জোয়ার আসবে বলে আশা করা যায়।

শেয়ার করুন: Sharing is Caring!