নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মহিলাদের সরকারি বাসে বিনামূল্যে ভ্রমনের সুবিধা (Free Bus Service for ladies) দিতে বড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গের নতুন শাসক দল। বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভারতীয় জনতা পার্টির দেওয়া সংকল্পপত্রের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল মহিলাদের ক্ষমতায়ন। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, এবার রাজ্যজুড়ে মহিলাদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সরকারি বাস পরিষেবা চালু হতে চলেছে। অত্যন্ত দ্রুততার সাথে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার এই বড় ঘোষণাটি জনসমক্ষে নিয়ে এসেছে। আগামী ১ জুন থেকেই সমগ্র রাজ্যজুড়ে এই নতুন নিয়ম কার্যকর করা হবে। রাজ্য সরকারের এই নারীবান্ধব কল্যাণকামী উদ্যোগের ফলে সাধারণ ও কর্মজীবী মহিলারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবেন।
Free Bus Service: কারা পাবেন বিনামূল্যে সরকারি বাস পরিষেবার সুবিধা?
রাজ্যের সমস্ত স্তরের নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতেই এই অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাধারণ গৃহবধূ থেকে শুরু করে কর্মজীবী মহিলা এবং ছাত্রীরাও এই সুবিধার আওতাভুক্ত হবেন। চাকরি এবং পড়াশোনার সূত্রে যে সমস্ত মহিলারা নিয়মিত যাতায়াত করেন, তাঁরা Free Bus Service প্রকল্পের মাধ্যমে বিশেষভাবে উপকৃত হবেন। স্কুল, কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা প্রতিদিন যাতায়াতের ক্ষেত্রে এই নিখরচায় ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। এছাড়া বয়োজেষ্ঠ্য বা প্রবীণ মহিলারাও পেনশনের নথিপত্র দেখিয়ে এই সুবিধার অংশীদার হতে পারবেন। মূলত পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা যেকোনো নারীই এই জনকল্যাণমুখী সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য।
এই সুবিধা পেতে কি কি লাগবে?
বিনামূল্যে সরকারি বাস পরিষেবা সুবিধা পাওয়ার জন্য মহিলাদের কাছে একটি বিশেষ ডিজিটাল স্মার্ট কার্ড (Digital Smart Card) থাকা আবশ্যক। এই কার্ড পাওয়ার জন্য আবেদনপত্রের সঙ্গে আবেদনকারীর সাম্প্রতিক তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি জমা দিতে হবে। পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড বা পাসপোর্টের জেরক্স কপি লাগবে। এছাড়া ১০০ দিনের কাজের জব কার্ড, আয়ুষ্মান ভারত কার্ড বা ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলেও আবেদন করা যাবে। চাকুরিজীবীদের ক্ষেত্রে অফিসের সার্ভিস আইডি কার্ড এবং ছাত্রীদের ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছবিসহ আইডেন্টিটি কার্ডের প্রয়োজন হবে।
কিভাবে আবেদন করবেন?
সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এই কার্ড পাওয়ার আবেদন প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ ও সরল রাখা হয়েছে। যোগ্য মহিলারা তাঁদের নিজস্ব এলাকার বিডিও (BDO) কিংবা এসডিও (SDO) অফিসে গিয়ে ফর্ম সংগ্রহ করতে পারবেন। প্রয়োজনীয় নথিপত্র সহ সম্পূর্ণ পূরণ করা আবেদনপত্রটি নির্দিষ্ট অফিসেই সশরীরে গিয়ে জমা দিতে হবে। সেখান থেকেই সমস্ত নথির সঠিক যাচাইকরণের পর আবেদনকারীকে বিশেষ কিউআর কোড যুক্ত ‘স্মার্ট কার্ড’ দেওয়া হবে। এই বিশেষ কার্ডটি সংগ্রহ করার পর থেকেই মহিলারা সরকারি বাসে নিখরচায় যাতায়াত করার সুযোগ পাবেন।
বিনামূল্যে সরকারি বাস পরিষেবা নিয়ে সরকারি নির্দেশিকা
রাজ্য সরকারের পরিবহন দফতরের পক্ষ থেকে ইতিমিধ্যেই এই বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। ১ জুন থেকে রাজ্যের সমস্ত রুটের সরকারি বাসে এই নিয়ম কঠোরভাবে বলবৎ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ডিজিটাল স্মার্ট কার্ড হাতে পাওয়ার আগের দিনগুলিতেও বিকল্প উপায়ে বিনামূল্যে সফর করা যাবে। বাসে যাতায়াত করার সময় কর্তব্যরত কন্ডাক্টরকে তালিকায় থাকা যেকোনো একটি আসল পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। বাসের কন্ডাক্টর সেই পরিচয়পত্র খতিয়ে দেখে যাত্রীকে একটি নিখরচার ‘জিরো ভ্যালু টিকিট’ বা ‘থার্মাল পেপার টিকিট’ প্রদান করবেন।
অন্যান্য প্রকল্পের টাকা কবে ঢুকবে?
বাসে বিনামূল্যে সফরের পাশাপাশি রাজ্যের অন্যান্য সামাজিক কল্যাণকামী প্রকল্পগুলি নিয়েও জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই বিভিন্ন প্রকল্পের বকেয়া টাকা উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পাঠানোর প্রক্রিয়া গতি পেয়েছে। সরকারি সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই একাধিক প্রকল্পের আর্থিক অনুদান সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকবে। বিশেষ করে মহিলাদের আর্থিক সহায়তার প্রকল্প অন্নপূর্ণা ভান্ডার এবং সামাজিক সুরক্ষার (Social Security Scheme) টাকা দ্রুত ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নথিপত্র যাচাইকরণের কাজ সম্পন্ন হলেই ধাপে ধাপে সমস্ত যোগ্য সুবিধাভোগীদের অ্যাকাউন্টে টাকা চলে যাবে।
উপসংহার
নতুন রাজ্য সরকারের (Government of Wet Bengal) এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গের নারী সমাজের সার্বিক উন্নয়নে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করল। যাতায়াতের খরচ সম্পূর্ণভাবে কমে যাওয়ায় সাধারণ পরিবারগুলির মাসিক বাজেটে অনেকটাই সাশ্রয় হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এই প্রকল্পটি রূপায়ণের মাধ্যমে সরকার প্রমাণ করল যে তারা জনকল্যাণে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালনে সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ। সাধারণ ও কর্মজীবী নারীদের পাশাপাশি ছাত্রীদের পড়াশোনার ক্ষেত্রেও এই পদক্ষেপ অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে। সামগ্রিকভাবে, এই বাস পরিষেবা চালু হওয়ার ফলে রাজ্যের নারী কল্যাণে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে।