সারা দেশের ছাত্র ছাত্রীদের জন্য Muskaan Scholarship 2026 নামে আরেকটি প্রাইভেট স্কলারশিপ (Private Scholarship Program) চালু হলো। আমাদের দেশের অনেক প্রতিভাবান ছাত্র-ছাত্রী কেবল আর্থিক অনটনের কারণে উচ্চশিক্ষা লাভ করা থেকে বঞ্চিত হন। মেধা থাকা সত্ত্বেও পরিবারের দুর্বল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জন্য অনেকের পড়াশোনা মাঝপথে থমকে যায়। এই ধরণের প্রতিকূল পরিস্থিতি কাটিয়ে শিক্ষার্থীদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং শিক্ষাদানের প্রক্রিয়াকে নিরবচ্ছিন্ন রাখতে, স্বনামধন্য ‘ভ্যালভোলিন’ (Valvoline) নামক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের তরফ থেকে এই বিশেষ মুসকান স্কলারশিপ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। যার সাথে ভারতের জনপ্রিয় ক্রিকেটার বিরাট কোহলির নাম ও জড়িয়ে রয়েছে।
Muskan Scholarship Details
এই বিশেষ কল্যাণমূলক প্রকল্প অর্থাৎ Muskaan Scholarship Program এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে যুক্ত রয়েছেন দেশের প্রখ্যাত ক্রিকেটার বিরাট কোহলি। সাধারণত মোটর বাইক বা বিভিন্ন ইঞ্জিনের তেল প্রস্তুতকারী এই সংস্থাটি কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে প্রতি বছর এই বৃত্তি প্রদান করে থাকে। বিশেষ করে যারা সমাজের প্রান্তিক স্তরে থেকে কঠোর পরিশ্রম করেন, তাদের সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে এটি সাহায্য করে। চলতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে এই প্রকল্পের জন্য অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া ইতিপূর্বেই সক্রিয় করা হয়েছে। যোগ্য এবং ইচ্ছুক ছাত্র-ছাত্রীরা আগামী ২০শে আগস্ট ২০২৬ তারিখের মধ্যে এই বৃত্তির জন্য নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন।
মুসকান স্কলারশিপের পরিমাণ ও সুবিধা
এই শিক্ষাবৃত্তি প্রকল্পের মাধ্যমে নির্বাচিত ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার খরচ চালানোর জন্য বিশেষ আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বার্ষিক এককালীন ১২,০০০ (বারো হাজার) টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়ে থাকে। এই প্রাপ্ত অর্থ সরাসরি ছাত্র-ছাত্রীদের নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত বা ক্রেডিট করা হয়। শিক্ষার্থীরা এই স্কলারশিপের টাকা তাদের পড়াশোনা সংক্রান্ত বিভিন্ন দরকারী কাজে অত্যন্ত সহজেই ব্যবহার করতে পারবেন। যেমন বিদ্যালয়ের বার্ষিক টিউশন ফি জমা দেওয়া, পড়ার বই ও খাতা কেনা অথবা স্কুল ইউনিফর্ম তৈরি করার ক্ষেত্রে এই অর্থ ব্যয় করা যাবে। এই টাকা দরিদ্র পরিবারের অভিভাবকদের ওপর থেকে শিক্ষার বাড়তি খরচের বোঝা অনেকটাই লাঘব করবে।
মুসকান স্কলারশিপে কারা আবেদন করতে পারবেন?
এই জনকল্যাণমূলক শিক্ষা বৃত্তিতে আবেদন করার জন্য নির্দিষ্ট কিছু শিক্ষাগত ও সামাজিক যোগ্যতার মাপকাঠি নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের যেকোনো স্বীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নবম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী (Class 9-12) পর্যন্ত পাঠরত পড়ুয়ারা এখানে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারী ছাত্র-ছাত্রীকে অবশ্যই পূর্ববর্তী শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় ন্যূনতম ৬০ শতাংশ বা তার বেশি নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। এর পাশাপাশি আবেদনকারীর পরিবারের বার্ষিক আয় কোনোভাবেই ৮ লক্ষ টাকার বেশি হওয়া চলবে না। এই প্রকল্পে বিশেষ করে মেকানিক, গাড়ির চালক বা ইঞ্জিন সংক্রান্ত পেশার সাথে যুক্ত অভিভাবকদের সন্তানদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। মূলত কঠোর পরিশ্রমী শ্রমজীবী পরিবারের সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতেই এই নিয়ম রাখা হয়েছে।
আবেদনের শর্তাবলী
মুসকান স্কলারশিপের সুবিধা পেতে গেলে আবেদনকারীকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম ও শর্তাবলী বাধ্যতামূলকভাবে মেনে চলতে হবে। প্রথমত, ছাত্র-ছাত্রীকে ভারতের একজন স্থায়ী নাগরিক হতে হবে এবং বর্তমানে কোনো বিদ্যালয়ে নিয়মিত পড়াশোনা করতে হবে। পূর্ববর্তী ক্লাসের চূড়ান্ত পরীক্ষায় ৬০% বা তার বেশি নম্বর না থাকলে আবেদনপত্র সরাসরি বাতিল বলে গণ্য হবে। পারিবারিক আয়ের ক্ষেত্রে সরকারের বৈধ কর্তৃপক্ষের দেওয়া আয়ের সার্টিফিকেট বা প্রমাণপত্র জমা দেওয়া আবশ্যক। যদি কেউ ভুল বা অসত্য তথ্য দিয়ে ফর্ম পূরণ করেন, তবে তার আবেদন বাতিল করা হবে। আবেদনের সমস্ত প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট সময়সীমা অর্থাৎ ২০শে আগস্টের মধ্যে অনলাইনের মাধ্যমেই সম্পন্ন করতে হবে।
কি কি নথি লাগবে
অনলাইনে মুসকান স্কলারশিপের আবেদন প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে। আবেদনকারীর নিজস্ব পরিচয়পত্র হিসেবে আধার কার্ড বা ভোটার কার্ডের স্পষ্ট ছবি বা পিডিএফ ফাইল প্রয়োজন হবে। বর্তমান শিক্ষাবর্ষে যে বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন, তার রসিদ, স্কুল আইডি কার্ড বা স্কুল প্রধানের দেওয়া বোনাফাইড সার্টিফিকেট লাগবে। বিগত শিক্ষাবর্ষের উত্তীর্ণ হওয়ার বৈধ মার্কশিট এবং অভিভাবকের বার্ষিক আয়ের শংসাপত্র অবশ্যই সঙ্গে রাখতে হবে। যেহেতু নির্দিষ্ট কিছু পেশার সন্তানদের এখানে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, তাই অভিভাবকের পেশা সংক্রান্ত প্রমাণপত্র থাকা জরুরি। এছাড়া স্থানীয় ঠিকানার প্রমাণ, প্রার্থীর নিজস্ব পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি এবং ব্যাঙ্কের পাসবুকের প্রথম পাতার ছবি লাগবে।
কিভাবে আবেদন করবেন?
এই বৃত্তি পাওয়ার জন্য সম্পূর্ণ আবেদন পদ্ধতি অনলাইনের মাধ্যমে ঘরে বসেই খুব সহজে করা সম্ভব। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের প্রথমে এর অফিসিয়াল পোর্টাল অথবা ‘Buddy4Study’ নামক নির্দিষ্ট আবেদন পৃষ্ঠায় প্রবেশ করতে হবে। সেখানে গিয়ে ‘Start Application’ বোতামে ক্লিক করে নতুন একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি বা রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এরপর স্ক্রিনে আসা আবেদনপত্রে নিজের নাম, ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পারিবারিক তথ্য নির্ভুলভাবে টাইপ করতে হবে। পরবর্তী ধাপে পূর্বে উল্লিখিত সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র নির্দিষ্ট সাইজ অনুযায়ী সেখানে আপলোড করতে হবে। সবশেষে ফর্মটি ভালোভাবে মিলিয়ে দেখে ‘Submit’ অপশনে ক্লিক করলেই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে যাবে।
উপসংহার
দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের কাছে মুসকান স্কলারশিপ নিঃসন্দেহে একটি অত্যন্ত আশাপ্রদ এবং ইতিবাচক সুযোগ। এর মাধ্যমে সমাজের পিছিয়ে পড়া মেধার সঠিক মূল্যায়ন ও আর্থিক প্রতিবন্ধকতা দূর করার একটি সৎ চেষ্টা করা হয়েছে। বেসরকারি উদ্যোগে গৃহীত এই ধরণের প্রকল্প দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে এবং স্কুলছুট কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে। সঠিক সময়ে যোগ্য ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে এই তথ্য পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি যাতে তারা এর সুফল ভোগ করতে পারে। তাই যোগ্যতার শর্তাবলী পূরণ হলে দেরি না করে অবিলম্বে এই বৃত্তির জন্য আবেদন করা উচিত। এই ধরণের ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাই আগামী দিনে দেশের ভবিষ্যৎ নাগরিকদের এক স্বাবলম্বী ও শিক্ষিত সমাজ গঠনে সাহায্য করবে।