বর্তমান সময়ে পরিচয়পত্র হিসেবে আধার কার্ডের (Aadhaar Card) গুরুত্ব অপরিসীম। সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে শুরু করে স্কুলে ভর্তি পর্যন্ত সবক্ষেত্রেই এটি অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সম্প্রতি ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (UIDAI) শিশুদের আধার কার্ড (Baal Aadhaar Card) তৈরির ক্ষেত্রে কিছু পরিবর্তন এনেছে। বিশেষ করে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য এই নির্দেশিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো আধার কার্ড তৈরির প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ এবং নির্ভুল করে তোলা। সঠিক তথ্যের অভাবে অনেক অভিভাবকই সমস্যার সম্মুখীন হন, তাই নতুন নিয়মগুলো জেনে রাখা প্রয়োজন।
৫ বছরের নিচে শিশুদের বাল আধার কার্ডের নিয়ম
৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের যে আধার কার্ড দেওয়া হয় তাকে মূলত ‘বাল আধার’ (Bal Aadhaar) বলা হয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এই বয়সের শিশুদের আধার কার্ড করাতে হলে বাবা অথবা মায়ের আধার থাকা এখন বাধ্যতামূলক। আগে নথিপত্র নিয়ে শিথিলতা থাকলেও বর্তমানে অভিভাবকদের বায়োমেট্রিক তথ্য যাচাই করা হয়। শিশু যেহেতু ছোট, তাই তার হাতের ছাপ বা চোখের মণি স্ক্যান করা সম্ভব হয় না। পরিবর্তে বাবা অথবা মায়ের একজনের ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করে শিশুর আবেদন সম্পন্ন করা হয়। আধার সেন্টারে শিশুর একটি লাইভ ছবি তোলা হয় যা কার্ডে ব্যবহৃত হবে।
বাল আধারের জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র
শিশুর আধার কার্ড তৈরির ক্ষেত্রে নথিপত্র সংগ্রহের বিষয়টি বেশ সংবেদনশীল। প্রধান নথি হিসেবে শিশুর জন্ম শংসাপত্র বা বার্থ সার্টিফিকেট থাকা অত্যন্ত জরুরি। যদি শিশুর জন্ম শংসাপত্র না থাকে, তবে হাসপাতালের ডিসচার্জ সার্টিফিকেট ব্যবহারের সুবিধা দেওয়া হতে পারে। তবে স্থায়ী পরিচয় হিসেবে বার্থ সার্টিফিকেটকেই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। এর সাথে বাবা অথবা মায়ের যে কোনো একজনের বৈধ আধার কার্ড জমা দিতে হবে। মনে রাখবেন, অভিভাবকদের আধারে যদি ঠিকানা ভুল থাকে তবে শিশুর কার্ডেও সেই ভুল চলে আসবে। তাই আবেদন করার আগে নিজের আধার তথ্য যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
Baal Aadhaar Card Biomatric Update
বাল আধার বা নীল রঙের আধার কার্ডটি আজীবনের জন্য বৈধ নয়। শিশু যখন ৫ বছর বয়সে পদার্পণ করে, তখন বাধ্যতামূলক বায়োমেট্রিক আপডেট (MBU) করাতে হয়। কারণ ছোটবেলার চেহারার সাথে বড় হওয়ার পর শিশুর শারীরিক বৈশিষ্ট্যের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পর শিশুর হাতের দশটি আঙুলের ছাপ এবং চোখের মণির স্ক্যান নেওয়া হয়। এই আপডেট প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন না করলে শিশুর কার্ডটি সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে যেতে পারে। সরকারি নিয়ম অনুসারে ৫ থেকে ৭ বছর বয়সের মধ্যে এই আপডেট করালে কোনো ফি লাগে না।
১৫ বছর বয়সে দ্বিতীয়বার বাধ্যতামূলক
শিশুর বয়স যখন ১৫ বছর হবে, তখন তাকে দ্বিতীয়বার বায়োমেট্রিক তথ্য আপডেট করতে হয়। এটি মূলত কিশোর অবস্থা থেকে পূর্ণবয়স্ক অবস্থায় পদার্পণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই সময়ে পুনরায় শিশুর বর্তমান ছবি এবং ফিঙ্গারপ্রিন্ট আধার ডেটাবেসে নথিভুক্ত করা হয়। ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সের মধ্যে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হলে তা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যায়। অনেকেই মনে করেন একবার আধার হয়ে গেলে আর কিছু করার প্রয়োজন নেই। কিন্তু এই বায়োমেট্রিক আপডেট না করালে ভবিষ্যতে বড় কোনো সরকারি কাজের ক্ষেত্রে কার্ডটি ব্যবহার করা যাবে না।
আরও পড়ুন, প্রচুর রেশন কার্ড বাতিল কলো রাজ্য সরকার, এখানে চেক করে দেখুন।
বাল আধার কার্ডের আবেদন করার সহজ পদ্ধতি
শিশুর আধার করার জন্য নিকটস্থ আধার এনরোলমেন্ট সেন্টারে বা আধার সেবা কেন্দ্রে যেতে হবে। বর্তমানে অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করার সুবিধা থাকলেও সশরীরে সেন্টারে যাওয়া বাধ্যতামূলক। সেন্টারে গিয়ে প্রথমে একটি নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করতে হয় যা বিনামূল্যে পাওয়া যায়। ফর্মের সাথে প্রয়োজনীয় নথিপত্রের মূল কপি এবং ফটোকপি সাথে রাখতে ভুলবেন না। আধার অপারেটর আপনার নথিপত্র যাচাই করে শিশুর ছবি তুলবেন এবং আপনার বায়োমেট্রিক গ্রহণ করবেন। প্রক্রিয়া শেষ হলে আপনাকে একটি এনরোলমেন্ট স্লিপ দেওয়া হবে যা দিয়ে আবেদনের স্থিতি চেক করা যাবে।
FAQs
আধার কার্ড সংক্রান্ত জালিয়াতি এড়াতে সর্বদা অনুমোদিত আধার সেন্টারগুলোতেই যোগাযোগ করুন। ৫ বছরের নিচের শিশুদের ক্ষেত্রে কোনো ফি দেওয়ার প্রয়োজন হয় না কারণ এটি বিনামূল্যে দেওয়া হয়। অনেকেই শিশুর আধারে মোবাইল নম্বর লিঙ্ক করতে ভুলে যান, যা পরবর্তীতে সমস্যা তৈরি করে। তাই আবেদনের সময় নিজের সচল মোবাইল নম্বরটি অবশ্যই আধারের সাথে যুক্ত করবেন। Aadhaar কার্ডটি তৈরি হয়ে গেলে তা পোস্টের মাধ্যমে অথবা অনলাইন থেকে ডাউনলোড করে নেওয়া যাবে। সচেতন নাগরিক হিসেবে আপনার সন্তানের ডিজিটাল পরিচয় সুরক্ষিত রাখতে এই পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত কার্যকরী।
