Electricity Bill: পশ্চিমবঙ্গে বছরে ২৫-৩০ হাজার টাকার বিদ্যুৎ বিলে ছাড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর। প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ মাত্র ২ টাকা! কারা পাবেন?

পশ্চিমবঙ্গে কারেন্ট বিলে বিরাট ছাড়! গতকাল বিদ্যুৎ বিলে (Electricity Bill) বিরাট ছাড়ের ঘোষণা হয়েছে। সেচের কাজে ইউনিট প্রতি ২ টাকা ভর্তুকি দেওয়া হবে। এতে কৃষকদের চাষের উৎপাদন খরচ অনেকটাই কমবে। সরকারের এই পদক্ষেপে গ্রামীণ কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। দ্রুত এই সুবিধা কার্যকর করার উদ্যোগ শুরু হয়েছে।

CM Suvendu Adhikary on Electricity Bill – কি কি সুবিধা পাবেন?

কৃষকরা ইউনিট প্রতি ২ টাকা বিদ্যুৎ বিল ছাড় (Electricity Bill) পাবেন। এর ফলে বছরে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হবে। এই ভর্তুকির জন্য সরকারের ৩০০ কোটি টাকা বাড়তি খরচ হবে। সেচের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পেতে তিনটি নতুন সাব-স্টেশন খোলা হয়েছে। এর ফলে চাষের সেচ ব্যবস্থার মান আগের চেয়ে উন্নত হবে।

কাদের জন্য এই সুবিধা?

রাজ্যের প্রায় ৪ লক্ষ কৃষক এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। মূলত সেচ পাম্প ব্যবহারকারী কৃষকদের জন্য এই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ধান এবং আলু চাষিরা এই ছাড়ের ফলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন। প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের সহায়তার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে কৃষকদের সার্বিক আর্থিক উন্নতি ত্বরান্বিত হবে।

কিভাবে আবেদন করবেন?

নিকটবর্তী বিদ্যুৎ বণ্টন অফিসে গিয়ে কৃষকরা সরাসরি আবেদন করতে পারবেন। নির্ধারিত ফর্ম পূরণ করে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সঙ্গে জমা দিতে হবে। পর্ষদের অফিশিয়াল পোর্টাল থেকেও অনলাইনে আবেদন করা সম্ভব। বিদ্যুৎ ও কৃষি বিভাগ তথ্য খতিয়ে দেখে আবেদন মঞ্জুর করবে। এরপর সরাসরি বিদ্যুৎ বিলে এই ছাড় সমন্বয় করা হবে।

আরও পড়ুন, প্যান কার্ড থাকলেই ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত দিচ্ছে সরকার ..

কি কি নথি লাগবে?

আবেদনকারীর আধার কার্ডের একটি জেরক্স কপি জমা দিতে হবে। চাষের বৈধ জমির হালনাগাদ পর্চা বা খতিয়ান থাকা জরুরি। সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ বিলের একটি কপি সাথে দাখিল করতে হবে। পরিচয় ও ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে ভোটার কার্ড জমা দিতে হবে। এর পাশাপাশি কৃষকের নিজস্ব ব্যাংক পাসবইয়ের প্রতিলিপি প্রয়োজন হবে।

আর কি কি ঘোষণা হলো?

ধানের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বাড়িয়ে কুইন্টাল প্রতি ২৭০০ টাকা করা হয়েছে। পিএম-কিষাণ সম্মান নিধির অনুদান বাড়িয়ে বছরে ৯০০০ টাকা করা হয়েছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ১২৫ দিনের নিশ্চিত কাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গ্রামীণ যোগাযোগ বাড়াতে মেমারিতে নতুন রাস্তা তৈরির কথা ঘোষণা হয়েছে। আলু চাষিদের আর্থিক সুরক্ষায় আলাদা বিশেষ প্যাকেজ আনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

উপসংহার

বিদ্যুৎ বিলে এই ছাড় রাজ্যের কৃষকদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ। সেচের খরচ কমায় চাষিরা এখন অনেক নিশ্চিন্তে কৃষিকাজ করতে পারবেন। সরকারের অন্যান্য ঘোষণাও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে বড় ভূমিকা রাখবে। সঠিক সময়ে এই সুবিধা নিশ্চিত হলে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পাবে। এই সরকারি উদ্যোগ পশ্চিমবঙ্গের কৃষকদের মুখে চওড়া হাসি ফুটিয়েছে।

শেয়ার করুন: Sharing is Caring!