Banglar Yuva Shakti: যুবশক্তি প্রকল্পে আবেদন শুরু হলো। কিভাবে আবেদন করবেন, কি কি নথি লাগবে জেনে নিন

পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের পাশে দাঁড়াতে শুরু হলো যুবশক্তি প্রকল্প (Banglar Yuva Shakti). কর্মহীন তরুণ প্রজন্মের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর। আগের বেকার ভাতার নিয়মে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এবার ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যোগ্য প্রার্থীরা যাতে ঘরে বসেই সরকারি আর্থিক সুবিধা পান, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

Banglar Yuva Shakti: বেকার ভাতা যুবশক্তি প্রকল্প

রাজ্যের যুবক-যুবতীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলাই হলো এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। চাকরি বা কর্মসংস্থানের খোঁজ চলাকালীন প্রার্থীরা যেন নিজেদের দৈনন্দিন খরচ চালাতে পারেন। এই যুবশক্তি ভরসা কার্ডের মাধ্যমে উপভোক্তাদের সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ভাতা পাঠানো হবে। বর্তমান সময়ের চাকরির বাজারের কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে বহু তরুণ-তরুণী প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে নতুন উৎসাহ পাবেন।

যুবশক্তি প্রকল্পে কত টাকা পাবেন?

নতুন এই প্রকল্পে শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে দুটি আলাদা ভাগে ভাতার পরিমাণ ঠিক করা হয়েছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী মাধ্যমিক উত্তীর্ণ প্রার্থীরা প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা করে পাবেন। অন্যদিকে স্নাতক বা গ্র্যাজুয়েট প্রার্থীরা প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। সব ঠিক থাকলে আগামী অক্টোবর মাস থেকেই এই ভাতার আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। এরপর নভেম্বর মাস থেকেই আবেদনকারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নিয়মিত টাকা পাঠানো শুরু হবে বলে জানা যাচ্ছে।

আবেদনের যোগ্যতা ও শর্তাবলী

এই প্রকল্পে আবেদন জানাতে হলে প্রার্থীদের কিছু নির্দিষ্ট সরকারি শর্ত পূরণ করতে হবে। প্রথমত আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের একজন স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। প্রার্থীর বয়স ন্যূনতম ২১ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৪০ বছরের মধ্যে হওয়া আবশ্যক। আবেদনকারীকে সম্পূর্ণ কর্মহীন হতে হবে এবং তাঁর ন্যূনতম মাধ্যমিক পাশ যোগ্যতা থাকতে হবে। এছাড়া অন্য কোনো সরকারি বৃত্তি বা ভাতার সুবিধা পেয়ে থাকলে এই প্রকল্পের সুযোগ পাওয়া যাবে না।

আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র

আবেদন করার সময় কোনো রকম ভুল এড়াতে কিছু জরুরি নথিপত্র আগে থেকেই হাতের কাছে রাখতে হবে। আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সময় সামান্য ভুল বা নথি বাদ পড়লে নাম বাতিল হতে পারে। তাই সব ডকুমেন্টের স্পষ্ট কপি গুছিয়ে রাখা অত্যন্ত দরকারি। এই নথিগুলো সঠিকভাবে যাচাই করার পরেই প্রশাসনের তরফ থেকে ভাতার অনুমোদন দেওয়া হবে। এখন থেকেই নিচের তালিকায় থাকা প্রয়োজনীয় কাগজগুলো প্রস্তুত করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

  • পরিচয়পত্র ও ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে আধার কার্ড এবং ভোটার কার্ড
  • বয়সের স্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে জন্ম শংসাপত্র অথবা মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড
  • শিক্ষাগত যোগ্যতার মার্কশিট ও মূল সার্টিফিকেট
  • সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ রঙিন ছবি
  • আধার লিঙ্কযুক্ত ব্যাংকের পাসবই জমা দিতে হবে
  • Employment Exchange এর সার্টিফিকেট লাগতে পারে

আরও বিস্তারিত এখানে দেখুন

কীভাবে আবেদন করবেন

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে যে আবেদন পদ্ধতি অনলাইন ও অফলাইন উভয় মাধ্যমেই সম্পন্ন হতে পারে। তবে এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত যেহেতু বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়নি, তাই সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরই নিশ্চিত করে বলা যাবে। তবে আবেদনকারীরা সমস্ত ডকুমেন্টস রেডি করে রাখুন। সম্পূর্ণ অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তি জারি হলেই নির্দিষ্ট পোর্টাল এবং আবেদনের প্রতিটি ধাপ পরিষ্কার জানা যাবে। তার আগে থেকে কোনও অপরিচিত ওয়েবসাইডে নিজের ডিটেইলস দেবেন না।

শেয়ার করুন: Sharing is Caring!