পশ্চিমবঙ্গের বকেয়া ডিএ মামলার রায় পাওয়ার পর ২ কিস্তি ডিএ পেয়েছেন সরকারি কর্মীরা। তবে Grant in Aid Arrear DA বা সরকার পোষিত কর্মীরা অর্থাৎ শিক্ষক শিক্ষিকা শিক্ষাকর্মী ও পঞ্চায়েত, পুরসভা ও বিভিন্ন স্বশাসিত সস্থার কর্মীরা এখনও বকেয়া ডিএ এর কোনও টাকা পাননি। তবে কি তারা বকেয়া টাকা পাবেন না? কোন আইনি প্রক্রিয়ায় বাধা আছে, বিস্তারিত জেনে নিন।
Grant in Aid কর্মীরা বকেয়া ডিএ এর টাকা পাবেন না?
একদিকে বহু আন্দোলন আর ১০ বছরের মামলা চলার পর বকেয়া ডিএ পেতে শুরু করেছেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মীরা। আগের সরকারের আমলে প্রথম কিস্তির ডিএ ক্রেডিট হবার পর অনেকেই ভেবেছিলেন গ্রান্ট ইন এইড কর্মীরা হয়তো পরে পাবেন। কিন্তু নতুন সরকার দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়ার পর যখন গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীরা এবার ও পেলেন না, তখনই আক্রোশ এসে পড়ে নতুন সরকারের উপর। এবার মূল সমস্যাটা কোথায়, এবং কেন তারা ডিএ পাচ্ছেন না, সেটা নিয়ে সহজ ভাষায় আলোচনা করা হলো।
Grant in aid কর্মীরা কেন DA পাচ্ছেন না?
প্রথমে একটা কথা জেনে রাখা ভালো যে, সরকারি কর্মীরা তাদের দাবি দাওয়া এর জন্য স্যাট এ মামলা করেন, আর শিক্ষক শিক্ষিকা ও গ্রান্ট ইন এড কর্মীরা হাইকোর্টে মামলা করেন। কিন্তু ডিএ বঞ্চনার অভিযোগে ২০১৬ সালে SAT এ মামলা করেন রাজ্য সরকারি কর্মীরা। অর্থাৎ প্রথম থেকেই শিক্ষক এবং অন্যান্য গ্রান্ট ইন-এড কর্মীরা এই মামলায় যুক্ত ছিলেন না। তবে মামলাটি যখন SAT থেকে কলকাতা হাইকোর্টে আসে, তখন কনফেডারেশন অফ স্টেট গভ এমপ্লয়ীস শিক্ষকদের পার্টি হতে ডেকেছিলেন, কিন্তু তখন কোনও সংগঠন যুক্ত হয়নি।
তাই আইনত ভাবে মামলাটি শুধুমাত্র সরকারি কর্মীরাই পার্টি থাকেন। তবে মামলা চালানোর খরচ থেকে শুরু করে সমস্ত বিষয়ে শিক্ষক শিক্ষিকা ও গ্রান্ট এড কর্মীদের অবদান ছিলো। কিন্তু যখন তারা ডিএ পেলেন না, তখনই বিতর্কের শুরু হলো। শিক্ষকদের একাংশের মত, “ডিএ মামলার খরচের একটি বড় অংশ গ্রান্ট ইন-এইড কর্মীরা দিয়েছে। তাই তারা বকেয়া পাবেন না, এটা আগে জানাজানি হলে তারা কন্ট্রিবিউট করতেন না। লুকোচুরির এটাও একটা বড় কারণ।”
তাহলে কি তারা ডিএ এরিয়ার পাবেন না?
প্রথমত আগের সরকার ডিএ পরিশোধের প্রথম কিস্তিতে গ্রান্ট ইন এইডদের যুক্ত করেন নি। তাই দ্বিতীয় কিস্তিতেও তারা ডিএ পাননি। এদিকে গ্রান্ট ইন-এইড কর্মীদের জন্য নতুন করে মামলা হয়েছে। সেখানে আবার রাজ্য সরকার সময় চেয়েছে। অর্থাৎ মামলা যেহেতু আবার হয়েছে, এখানে একটা বিষয় পরিষ্কার, যে গ্রান্ট ইন এড দের বকেয়া DA পেতে নতুন করে সরকারি অর্ডার প্রয়োজন। তবে রাজ্য সরকার নিজে থেকেই জানিয়েছেন, যে গ্রান্ট ইন-এইড কর্মীরাও ডিএ পেয়ে যাবেন।
আরও পড়ুন, অক্টোবর মাসে কত টাকা বেতন পাবেন দেখুন
জটিলতার মূল কারণ গুলো
- রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা পরিচালিত হন West Bengal Service Rules দ্বারা, যেখানে তাঁদের সরাসরি নিয়োগকর্তা রাজ্য সরকার।
- অপরদিকে, শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী পরিচালিত হন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা পর্ষদ/সংসদের নিয়মে।
- পুরসভা ও পঞ্চায়েত কর্মীরা স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন আইন (Municipality Act / Panchayat Act) দ্বারা পরিচালিত হন।
- সরকার এঁদের বেতন সরাসরি না দিয়ে ‘গ্রান্ট-ইন-এইড’ (অনুদান) হিসেবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে বরাদ্দ করে।
- ফলে সার্ভিস রুলের এই আইনি বিভাজনে রাজ্য সরকারের কোনও অর্ডার গ্রান্ট ইন-এড কর্মীদের জন্য নতুন করে ম্যাচিং অর্ডারের প্রয়োজন হয়। অথবা মূল বিজ্ঞপ্তিতে গ্রান্ট ইন এইড কর্মীদের কথা উল্লেখ থাকে।
- তাই বকেয়া DA এ পেতেও অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে। যার কারনেই মামলা হয়েছে।
সরকারের অবস্থান ও সামগ্রিক পরিস্থিতি
গ্রান্ট ইন-এইড কর্মীদের কথা ওঠার সাথে সাথেই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সকলকে দেওয়া হবে। সুতরাং সরকার সকলকেই ডিএ দিতে বদ্ধ পরিকর। এদিকে কলকাতা হাইকোর্টে গ্রান্ট ইন এইড কর্মীদের দায়ের করা মামলায় ও রাজ্য সরকার জানিয়েছে যে নীতিগতভাবে এই কর্মীদেরও বকেয়া ডিএ মেটানো হবে, তবে প্রশাসনিক ডেটা তৈরি এবং বিশাল আর্থিক ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত বিশেষজ্ঞ কমিটি (ইন্দু মালহোত্রা কমিটি)-র সুপারিশ ও অর্থ দপ্তরের চূড়ান্ত অনুমোদন সাপেক্ষেই এই বকেয়া ধাপে ধাপে কার্যকর করার কথা ভাবা হচ্ছে।