প্যান কার্ড থাকলেই ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত দিচ্ছে সরকার | Personal Loan on PAN Card স্কিমে এইভাবে আবেদন করুন

জরুরি আর্থিক প্রয়োজনে ব্যক্তিগত ঋণ বা পার্সোনাল লোন (Instant Personal Loan) আমাদের সবচেয়ে বড় ভরসা। তবে অনেকেই জানেন না যে নিজের প্যান কার্ড ব্যবহার করে খুব সহজেই এই প্যান কার্ড ঋণ পাওয়া সম্ভব। বর্তমানে ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থার কল্যাণে লোন পাওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি অনেক সহজ হয়ে গেছে। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার আসার ফলে একের পর কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা এবার রাজ্যেও চালু হচ্ছেন। তাই আপনি যদি পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হয়ে থাকেন তবে ব্যাংকে দীর্ঘক্ষণ লাইনে না দাঁড়িয়ে ঘরে বসেই আপনি এই সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারেন। সঠিক তথ্য জানা থাকলে প্যান কার্ডের মাধ্যমে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যেতে পারে।

Personal Loan on PAN Card Scheme – প্যান কার্ড লোন আসলে কী?

প্যান কার্ড মূলত প্রতিটি ভারতীয় নাগরিকের আর্থিক পরিচিতি ও কর সংক্রান্ত হিসাব বহন করে। Personal Loan on PAN Card ঋণ প্রদানকারী সংস্থাগুলো এই কার্ডের নম্বর দিয়ে গ্রাহকের আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড যাচাই করে। আধার কার্ডের সঙ্গে প্যান কার্ড যুক্ত থাকলে কেওয়াইসি ভেরিফিকেশন কয়েক মিনিটের মধ্যে শেষ হয়। এই ডিজিটাল যাচাইকরণ প্রক্রিয়া লোন অনুমোদনের সময়কে অনেক কমিয়ে দেয়। ফলে খুব কম নথিপত্র জমা দিয়েই ব্যক্তিগত ঋণ পাওয়ার পথ সহজ হয়ে যায়।

প্যান কার্ড লোন পাওয়ার যোগ্যতা ও শর্তাবলী

ব্যক্তিগত ঋণের আবেদন করতে হলে আবেদনকারীর বয়স ২১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে। ঋণপ্রার্থীর নিজস্ব প্যান কার্ড এবং তার সঙ্গে আধার কার্ডের সংযোগ থাকা বাধ্যতামূলক। আবেদনকারীর প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ নিশ্চিত আয়ের উৎস থাকা জরুরি। চাকরিজীবী কিংবা নিজস্ব পেশা বা ব্যবসায় যুক্ত যে কেউ এই ঋণের জন্য আবেদন জানাতে পারেন। আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হলে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত লোন অনুমোদন করে দেয়।

সিবিল স্কোর বা ক্রেডিট স্কোরের গুরুত্ব

পার্সোনাল লোন পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আবেদনকারীর ক্রেডিট স্কোর (CIBIL Score). পূর্বে নেওয়া ঋণ বা ক্রেডিট কার্ডের বিল আপনি সময়মতো পরিশোধ করেছেন কিনা, তা এর মাধ্যমে বোঝা যায়। ভালো পেমেন্ট হিস্ট্রি থাকলে সিবিল স্কোর স্বাভাবিকভাবেই অনেক উন্নত থাকে। একটি চমৎকার ক্রেডিট স্কোর থাকলে ব্যাংক কম সুদের হারে দ্রুত ঋণ দিতে আগ্রহী হয়। বর্তমানে পেটিএম বা গুগল পে-এর মতো ডিজিটাল অ্যাপ ব্যবহার করে বিনামূল্যে নিজের ক্রেডিট স্কোর যাচাই করা যায়।

পার্সোনাল লোনের জন্য অনলাইনে আবেদন

প্রথমে আপনার ঠিক কত টাকা ঋণের প্রয়োজন, সেই বাজেট পরিষ্কারভাবে নির্ধারণ করে নিন। এরপর বিভিন্ন ব্যাংক এবং নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সুদের হারের তুলনা করুন। নির্দিষ্ট ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা বিশ্বস্ত লোন অ্যাপে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে ফর্ম পূরণ করুন। এরপর আধার ও প্যান কার্ডের তথ্য দিয়ে ডিজিটাল কেওয়াইসি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে। সব তথ্য যাচাই শেষে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ঋণের অর্থ সরাসরি আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেবে।

এইভাবে আবেদন করুন

ঋণ নেওয়ার আগে কিছু জরুরি সতর্কতা

যেকোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়ার আগে তাদের সব নিয়ম ও শর্তাবলী খুঁটিয়ে পড়ে নেওয়া উচিত। প্রতি মাসে কত টাকা কিস্তি দিতে হবে, তা বোঝার জন্য লোন ইএমআই ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারেন। আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কিস্তির অঙ্ক নির্ধারণ করলে ভবিষ্যতে আর্থিক টানাপোড়েন তৈরি হয় না। প্রসেসিং ফি এবং অন্যান্য অতিরিক্ত খরচের বিষয়ে আগে থেকেই পরিষ্কার ধারণা রাখা দরকার। এই সাধারণ বিষয়গুলো খেয়াল রাখলে প্যান কার্ড ব্যবহার করে আপনি নিশ্চিন্তে যেকোনো জরুরি আর্থিক সমস্যা সমাধান করতে পারবেন।

শেয়ার করুন: Sharing is Caring!