Yuva Shakti Scheme: পশ্চিমবঙ্গে যুবশক্তি প্রকল্পের ফর্ম ফিলাপ শুরু হলো। বেকার ছেলেমেয়েরা কিভাবে আবেদন করবেন?

পশ্চিমবঙ্গে অন্নপূর্ণা যোজনার পাশাপাশি আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্যে চালু হল ‘যুবশক্তি প্রকল্প’ তথা Yuva Shakti Scheme. তৃণমূল জমানার ‘যুবসাথী প্রকল্প’কেই বদলে কার্যত যুবশক্তি করা হল বিজেপির আমলে। এই প্রকল্পের অধীনে রাজ্যের প্রত্যেক বেকার যোগ্য যুবক-যুবতী পাবেন মাসিক ৩ হাজার টাকা। কবে থেকে, কীভাবে এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন, জেনে নেওয়া যাক।

West Bengal Yuva Shakti Scheme – যুবশক্তি প্রকল্প

এই প্রকল্পের অধীনে আদতে দেওয়া হবে বেকার ভাতা। রাজ্যের শিক্ষিত বেকারদের সাবলম্বী করতে, পড়াশুনার খরচ জোগাতে মূলত এই সরকারি সাহায্য বা ভাতা প্রদান করা হবে। তৃণমূল আমলে এই ভাতার অংক ১৫০০ টাকা থাকলেও, বিজেপি এক লাফে তা বাড়িয়ে দ্বিগুন করেছে। অর্থাৎ, ১ জুনের পর থেকেই বেকার যুবক-যুবতীদের পকেটে আসবে মাসিক ৩ হাজার টাকা।

Yuva Shakti Scheme Benefits – যুবশক্তি প্রকল্পের সুবিধা

তৃণমূল জমানায় যুবসাথী প্রকল্প নিয়ে বিস্তর বিতর্ক হলেও বিজেপি আমলে ভাতার অঙ্ক বেড়ে যাওয়ায় তার গ্রহণযোগ্যতাও বেড়েছে। চাকরির পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপ থেকে পড়াশুনার সামগ্রী ক্রয় কিংবা ছাত্রছাত্রীদের পরিবহন খরচ মেটানোর ক্ষেত্রে এই ভাতা যথেষ্ট সাহায্য করবে বলে মত শিক্ষা মহলের।

কারা এই সুবিধা পাবেন

প্রকল্পের সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। সেই সঙ্গে বয়স হতে হবে ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে ন্যূনতম মাধ্যমিক বা তার সমতুল্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক। এর পাশাপাশি আবেদনকারীকে অবশ্যই বর্তমানে সম্পূর্ণ বেকার হতে হবে।তবেই মিলবে এই প্রকল্পের সুবিধা। সুবিধাভোগীরা স্থায়ী কোনো কর্মসংস্থান না পাওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসে এই আর্থিক সহায়তা জারি থাকবে।

কারা যুবশক্তি প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের মতই এই প্রকল্পের ক্ষেত্রেও কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। কেবলমাত্র ভারতীয় নাগরিক এবং পশ্চিমবঙ্গের বসিন্দা হলেই যুবশক্তি প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, ডিলিটেড ভোটার, বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী কিংবা রোহিঙ্গা এই প্রকল্পের আওতায় পড়বে না। তবে সিএএ (CAA)তে কিংবা ট্রাইবুনালে (Tribunal)- এ আবেদনকারী আপাতত এই সুবিধা পাবেন।

যুবশক্তি প্রকল্পে কিভাবে আবেদন করবেন

আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য বেশ কিছু প্রয়োজনীয় নথিপত্রের প্রয়োজন পড়বে, যেমন – আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, জন্ম শংসাপত্র বা মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড, মাধ্যমিকের শংসাপত্র, সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং ব্যাংক পাসবুকের স্ক্যান কপি। এই প্রকল্পের জন্য নির্দিষ্ট পোর্টাল এর মাধ্যমে অনলাইনে নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন। এছাড়া শ্রম ও কর্মসংস্থান দপ্তরের অফিশিয়াল পোর্টাল এবং এমপ্লয়মেন্ট ব্যাংকের (Employment Bank) ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও আবেদনের সুবিধা রয়েছে। তবে সরকারি নাম করে একটি ওয়েবসাইট রয়েছে, যেটি সরকারি নয়। তাই সতর্ক থাকবেন। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ অনলাইন রাখা হয়েছে, যার ফলে অফলাইনে কোনো ফর্ম জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

উপসংহার

ভাতার টাকা যাতে কোনো রকম বাধা ছাড়াই সরাসরি অ্যাকাউন্টে পৌঁছায়, তার জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আধার-সংযুক্ত বা ডিবিটি (DBT) পরিষেবা সক্রিয় রাখার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে রাজ্য সরকার। সুবিধাভোগীদের আগামী ১ জুনের আগেই ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (NPCI)-র অফিশিয়াল পোর্টালে গিয়ে তাঁদের আধার ম্যাপিং এবং ডিবিটি স্ট্যাটাস পরীক্ষা করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যদি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার লিঙ্ক করা না থাকে, তবে আবেদনকারীরা অনলাইনের মাধ্যমেই এই সিডিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।

শেয়ার করুন: Sharing is Caring!