পশ্চিমবঙ্গের স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রীদের জন্য চালু হলো সহানুভূতি স্কলারশিপ (Sahanubhuti Scholarship). এটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্দ্যোগে আরেকটি সরকারি স্কলারশিপ (Government Scholarship)। বিশেষ ভাবে সক্ষম ছাত্র ছাত্রীদের শিক্ষার পথে যাতে আর্থিক বাধা সৃষ্টি না হয় সেই দিকে লক্ষ্য রেখেই এই স্কলারশিপ চালু করা হয়েছে। এই স্কলারশিপ প্রোগ্রাম বিশেষভাবে তাদের জন্য, যারা শারীরিক বা মানসিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েও পড়াশোনায় এগিয়ে যেতে চায়। পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষা দপ্তর তথা বিকাশ ভবনের উদ্যোগে চালু হওয়া এই প্রকল্পটি আর্থিক সাহায্য প্রদানের পাশাপাশি তাদের এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের আত্মবিশ্বাসও বাড়ায়। ক্লাস নাইন থেকে কলেজ লেভেল পর্যন্ত এর সুবিধা পাওয়া যায়। কিভাবে এই স্কলারশিপ পাওয়া যায়, বিস্তারিত জেনে নিন।
West Bengal Sahanubhuti Scholarship Details
সহানুভূতি স্কলারশিপ হলো ওয়েস্ট বেঙ্গল হায়ার এডুকেশন ডিপার্টমেন্টের একটা বিশেষ উদ্যোগ। এটা ডিসেবল্ড স্টুডেন্টস স্কলারশিপের মতো কাজ করে, যাতে সক্ষমতার অভাব সত্ত্বেও শিক্ষা বন্ধ না হয়। এই স্কলারশিপ প্রোগ্রামে প্রতি বছর ১২০০০ টাকা করে দেওয়া হয়, যা বই-খাতা থেকে শুরু করে অন্যান্য খরচ মেটাতে সাহায্য করে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো প্রত্যেক বিশেষ সক্ষম পড়ুয়াদের সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা এবং প্রত্যেকটি স্তরে সমান সুযোগ প্রদান।
যোগ্যতার শর্তাবলী: কারা আবেদন করতে পারবে?
- যোগ্যতার প্রথম শর্ত হলো ৪০% অক্ষমতা সম্পন্ন ডিসেবিলিটি সার্টিফিকেট।
- চোখের সমস্যা, শ্রবণ প্রতিবন্ধকতা বা অর্থোপেডিক ইস্যু—সবকিছুর জন্য এটা প্রযোজ্য।
- আগের পরীক্ষায় কমপক্ষে ৫০% নম্বর থাকতেই হবে, যাতে মেধার প্রমাণ মেলে।
- পরিবারের বার্ষিক আয় ২ লক্ষ টাকার নিচে হলে ভালো হয়।
- ক্লাস নাইন থেকে কলেজের শেষ পর্যন্ত যেকোনো স্তরের ছাত্রছাত্রী আবেদন করতে পারে।
- এই শর্তগুলো পূরণ করলে সেই পড়ুয়া স্কলারশিপ পাবে।
আবেদন প্রক্রিয়া: কীভাবে আবেদন করবেন?
সহানুভূতি স্কলারশিপ (Sahanubhuti Scholarship) এর আবেদন সম্পূর্ণ অফলাইনে হয়, যা অনেকের জন্য সুবিধাজনক। প্রথমে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে ফর্ম ডাউনলোড করে প্রিন্ট নিন। সঠিকভাবে ফর্ম পূরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করুন। তারপর স্থানীয় ডিস্ট্রিক্ট প্রাইমারি এডুকেশন এক্সটেনশন অফিসার বা বিডিও অফিসে জমা দিন। এই প্রক্রিয়াটা সহজ রাখুন, যাতে কোনো ভুল না হয়। ওয়েস্ট বেঙ্গল স্কলারশিপের এই ধাপগুলো অনুসরণ করলে সাফল্য নিশ্চিত। আবেদন জমা দেওয়ার পর অপেক্ষা করুন, এবং Sahanubhuti Scholarship Status Check করুন।
আরও পড়ুন, এই কার্ড করলেই প্রতিমাসে ৩০০০ টাকা দিচ্ছে সরকার। কিভাবে আবেদন করবেন?
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: কী কী লাগবে?
আবেদনে আধার কার্ড বা ন্যাশনাল আইডেন্টিটি কার্ড অবশ্যই লাগবে। আগের পরীক্ষার মার্কশীট এবং মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিকের সার্টিফিকেট জমা দিন। পরিবারের আয়ের প্রমাণপত্র দিয়ে দেখান যে সীমার নিচে আয়। একটা পাসপোর্ট সাইজের ছবি যোগ করুন, যাতে পরিচয় স্পষ্ট হয়। ডিসেবিলিটি সার্টিফিকেট বা কার্ডটা সরকারি সোর্স থেকে নেওয়া হলে ভালো। যদি প্রযোজ্য হয়, তাহলে কাস্ট সার্টিফিকেটও সংযুক্ত করুন।
Sahanubhuti Scholarship amount
সহানুভূতি স্কলারশিপের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো বছরে ১২,০০০ টাকার আর্থিক সাহায্য। এটা শুধু টাকা নয়, শিক্ষার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করে। বিশেষ সক্ষমতাসম্পন্ন ছাত্রছাত্রীরা এতে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। পড়াশোনার খরচ মেটাতে এটা বড় সহায়ক। সমাজে সমান অবস্থান পেতে এর মতো উদ্যোগ দরকার। শিক্ষা সাহায্যের এই পথে অনেকের জীবন উজ্জ্বল হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তারিখ: কখন জমা দিতে হবে?
সহানুভূতি স্কলারশিপে আবেদনের শেষ তারিখ ২৮ নভেম্বর ২০২৫। তাই সময়মতো নিয়ম কানুন জেনে আবেদন করুন। সময় চলে গেলে আবেদন পত্র আর জমা দেওয়া যাবে না, তাই দেরি করবেন না। ফর্ম ডাউনলোডের লিঙ্ক অফিসিয়াল সাইটে পাওয়া যাবে। তারিখ মনে রাখুন, যাতে সুযোগ হাতছাড়া না যায়। এই ডেডলাইন মেনে চললে স্কলারশিপ পাওয়া সহজ। পশ্চিমবঙ্গের এই প্রকল্পে অংশ নেওয়ার এটাই সেরা সময়।
কোথায় সাহায্য পাবেন?
অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সব তথ্য আছে। এখানে ভিজিট করে সমস্ত তথ্য ও ফর্ম পেয়ে যাবেন। স্থানীয় বিডিও অফিস বা ডিস্ট্রিক্ট অফিসারের সাথে যোগাযোগ করুন। কোনো সমস্যায় ফোন বা ইমেইল করলে সাহায্য মিলবে। এই তথ্যগুলো মনে রাখলে প্রক্রিয়া সহজ হবে। শিক্ষা স্কলারশিপের জন্য এটা আদর্শ পথ।
আবেদন করার আগে মনে রাখবেন
- ডিসেবিলিটি সার্টিফিকেট সঠিক সোর্স থেকে নিন, যাতে কোনো প্রশ্ন না ওঠে।
- আয়ের প্রমাণপত্রে স্পষ্টতা রাখুন, ২ লক্ষের নিচে প্রমাণ করতে হবে।
- ফর্ম পূরণে ভুল এড়ান, কারণ এতে আবেদন বাতিল হতে পারে।
- ফর্ম সময়মতো জমা দিন এবং রসিদ রাখুনর
- পরিবারের সাহায্য নিন, যাতে সবকিছু ঠিকঠাক হয়।
- এই টিপস মেনে চললে সহানুভূতি স্কলারশিপ আপনার হাতে আসবে নিশ্চিত।
সহানুভূতি স্কলারশিপের মাধ্যমে অনেক ছাত্রছাত্রীর জীবন বদলে যাবে। এটা শুধু টাকার সাহায্য নয়, সমাজের সহানুভূতির প্রতীক। যারা এর যোগ্য, তারা এখনই আবেদন করুক। শিক্ষার এই যাত্রায় সবাইকে সঙ্গী দরকার। ওয়েস্ট বেঙ্গলের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। আপনার স্বপ্ন পূরণের জন্য এটা একটা সোনার সুযোগ। এখনই শুরু করুন, ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করুন।
