পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারী ও পেনশনাররা সপ্তম বেতন কমিশনের (7th Pay Commission) জন্য বহুকাল ধরে লড়াই করে আসছেন। সম্প্রতি তাদের সংগঠনগুলো নবান্নে একটা আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে, যা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই দাবির মূলে রয়েছে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেতনের হার বাড়ানোর চাহিদা। যদি এটা বাস্তবায়িত হয়, তাহলে কর্মীদের দাবি অনুযায়ী মূল বেতন দ্বিগুণের কাছাকাছি হতে পারে। এই পরিবর্তন লক্ষ লক্ষ পরিবারের জীবনযাত্রাকে সহজ করে তুলবে। সরকারি কর্মচারীদের জন্য এটা একটা নতুন আশার আলো। 7th Pay Commission West Bengal এর এই আন্দোলন সারা দেশের অন্যান্য রাজ্যকেও প্রভাবিত করতে পারে।
7th Pay Commission for West bengal Govt Employees
সরকারি কর্মচারীদের প্রধান সংগঠনগুলো বিশেষ করে ইউনিটি ফোরাম নবান্নে চিঠি পাঠিয়ে স্পষ্টভাবে দাবি তুলেছে। তারা বলেছে, ষষ্ঠ বেতন কমিশনের ১০ বছর পার হয়ে গেছে, কিন্তু সপ্তম পে কমিশনের কোনো খবর নেই। এই 7th Pay Commission নোটিশে তারা সরকারকে সতর্ক করেছে যে, দাবি না মানলে আন্দোলন তীব্র হবে। বেতন সংশোধন ছাড়া কর্মচারীদের কাজের উৎসাহ কমে যাবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া, পেনশনারদের জন্যও বিশেষ অনুরোধ রয়েছে। এই চিঠিটা সরকারের কাছে পৌঁছে গেছে এবং উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে। এদিকে বকেয়া ডিএ মামলার আবহে আবার সপ্তম বেতন কমিশনের দাবি তোলা, রাজ্য সরকারের কাছে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
সরকারি কর্মীদের দাবি
- অবিলম্বে কেন্দ্রীয় হারে ৫৮% ডিএ ১০% সুদ সমেত প্রদান করতে হবে।
- কেন্দ্রের ৮ম কমিশনের সুপারিসের সাথে সামঞ্জস্য রেখে রাজ্যে ৭ম পে কমিশন লাঘু করতে হবে
- ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি না মানলে বৃহত্তর আন্দোলন হবে।
বেসিক বেতন দ্বিগুণের সম্ভাবনা: কতটা বাস্তব?
ষষ্ঠ কমিশনে মৌলিক বেতন ছিল ৭১০০ টাকা থেকে শুরু, যা এখন স্ল্যাব অনুসারে ২৮,৯৪০ টাকা পর্যন্ত। সপ্তম কমিশনে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ৩.০৪ থেকে ৩.৬৮ হলে বেতন প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, বর্তমানে কারো ৩০,০০০ টাকা বেতন হলে এটা ৬০,০০০ টাকার কাছাকাছি চলে আসবে। এই হার বাড়লে ডিএ (Dearness Allowance), বাড়িভাড়া ভাতা (HRA) এর মতো ভাতাগুলোও বাড়বে। সংগঠন বলছে, মূল্যসূচক সূচী (AICPI) অনুসারে এটা জরুরি। তবে সরকারের বাজেটের উপর নির্ভর করবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। Basic salary doubling 7th Pay Commission এর এই সম্ভাবনা কর্মচারীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: কেন এখন সময় হয়েছে?
ভারতে বেতন কমিশন প্রতি ১০ বছরে আসে, যা কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করে। পশ্চিমবঙ্গে ষষ্ঠ কমিশন ২০১৫ সালে চালু হয়েছিল, কিন্তু মহামারীর কারণে সপ্তমটি বিলম্বিত। কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যে এটা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। রাজ্য সরকারও এখন চাপের মুখে পড়েছে। আগের কমিশনগুলোতে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.৫৭ থেকে ৩.০৪-এ উঠেছে। এবারও অনুরূপ বাড়তি আশা করা হচ্ছে। 7th Pay Commission timeline West Bengal-এর এই ইতিহাস দেখলে বোঝা যায় দাবির যৌক্তিকতা।
আরও পড়ুন,
পশ্চিমবঙ্গের বকেয়া ডিএ মামলার রায় ঘোষণা। পুরো দাবি মিটলো না 🥺!
সপ্তম কমিশন চালু হলে বেতনবৃদ্ধির পরিমাণ
সপ্তম কমিশন চালু হলে প্রথমে মৌলিক বেতন বাড়বে, তার সঙ্গে ভাতা এবং পেনশনও। এতে কর্মচারীদের হাতে বেশি টাকা থাকবে, যা পরিবারের খরচ মেটাতে সাহায্য করবে। পেনশনাররা বিশেষভাবে লাভবান হবেন, কারণ তাদের মাসিক আয়ও বাড়বে। সরকারি দপ্তরে কাজের মানও উন্নত হতে পারে। তবে বাস্তবায়নের সময় লাগবে কয়েক মাস। এই পরিবর্তন অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। Government employees salary increase এর এই সুবিধাগুলো সকলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন, ১ ডিসেম্বর থেকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে স্টেট ব্যাংকের এই পরিষেবা। কোটি গ্রাহকের মাথায় হাত!
সরকারের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া
নবান্নে নোটিশ পৌঁছানোর পর সরকার একটা কমিটি গঠন করতে পারে আলোচনার জন্য। তারা বাজেট বিবেচনা করে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ঠিক করবে। অতীতে এমন দাবিতে সরকার সাড়া দিয়েছে। এবারও রাজনৈতিক চাপে তারা এগোতে বাধ্য হতে পারে। কর্মচারী সংগঠন বলছে, না মানলে ধর্মঘট হবে। সরকারের উত্তর শীঘ্রই আসতে পারে। এটা 7th Pay Commission এর ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে আলোচনার উপর।
আরও পড়ুন, দেশের 25 লাখ পরিবারকে বিনামূল্যে রান্নার গ্যাস দেবে সরকার। ফ্রিতে সিলিন্ডার পেতে কী করতে হবে জানুন
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের গণনা: সহজ উদাহরণ
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর মানে বর্তমান বেতনকে গুণ করে নতুন হার। যদি ৩.২৮ হয়, তাহলে ২৫,০০০ টাকা বেতন হবে প্রায় ৮২,০০০ টাকা। এতে ডিএ ৫০% যোগ হবে। পেনশনও একই হারে বাড়বে। এই গণনা কর্মচারীদের জন্য সহজ করে তুলবে পরিকল্পনা। সংগঠন এই হারের (Salary Increase) জন্য চাপ দিচ্ছে। Fitment factor 7th Pay Commission-এর এই অংশ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
উপসংহার
সপ্তম বেতন কমিশনের এই দাবি সরকারি কর্মচারীদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার। নবান্নে নোটিশ পাঠানো একটা বড় পদক্ষেপ। বেসিক বেতন দ্বিগুণের সম্ভাবনা তাদের আশা জাগিয়েছে। এটা শুধু বেতনের বাড়তি নয়, জীবনমানের উন্নয়ন। তবে সরকার এই মুহুর্তে ৭ম বেতন কমিশন নিয়ে আদৌ কিছু ভাববে কিনা প্রশ্ন থেকে যায়।