পশ্চিমবঙ্গের বকেয়া ডিএ এর বিজ্ঞপ্তি, প্রক্রিয়া শুরু। বাদ যেতে পারেন বহু কর্মী। সংশোধন চেয়ে আদালতে রাজ্য।

একদিকে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ (মহার্ঘ ভাতা) প্রদান নিয়ে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে অর্থ দপ্তর। অন্যদিকে আদালতের রায় এর সংশোধন চেয়ে ফের আদালতে আবেদন করতে চলেছে রাজ্য সরকার (Government of West Bengal). যার জেরে বকেয়া (Dearness Allowance) নিয়ে চলমান মামলায় নতুন মোড় এসেছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও রাজ্য সরকার আইনি ও প্রযুক্তিগত পদক্ষেপের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিচ্ছে। এই প্রতিবেদনে মামলার সাম্প্রতিক অগ্রগতি, সরকারের পদক্ষেপ এবং সম্ভাব্য ফলাফল বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।

বকেয়া ডিএ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ

সুপ্রিম কোর্ট (Suprme Court of India) পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে ৫ম বেতন কমিশনের আওতায় সরকারি কর্মচারীদের ২৫% ডিএ বকেয়া দেড় মাসের মধ্যে মেটানোর নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া, চার সপ্তাহের মধ্যে এই প্রক্রিয়ার অগ্রগতি রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এই রায় রাজ্য সরকারের উপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করেছে।

রাজ্য সরকারের আইনি পদক্ষেপ

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার শীর্ষ আদালতে নতুন আবেদন জানিয়েছে। তারা বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত অন্তর্বর্তী নির্দেশের ব্যাখ্যা চেয়ে রুলিং পরিবর্তনের আর্জি জানিয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজ্য নতুন করে আইনি লড়াই শুরু করেছে, যদিও একই সঙ্গে বকেয়া (Dearness Alowance) মেটানোর প্রক্রিয়াও চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে রাজ্য সরকার আদালতের নির্দেশ মতো প্রক্রিয়া শুরু করলেও শেষ মুহুর্তে রাজ্যের সুবিধা মতো কিছুটা পরিবর্তনের আবেদন করে যদি এই বিপুল সংখ্যক আর্থিক চাপ থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি মেলে।

বকেয়া ডিএ প্রদানে অনলাইন প্রক্রিয়া

প্রায় ১০ লাখ সরকারি কর্মী ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের জটিল হিসাব দ্রুত সম্পূর্ণ করতে এবং ডিএ বকেয়া নির্ধারণ ও মেটানোর জন্য রাজ্য সরকার আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে। একটি বেসরকারি সংস্থাকে এই প্রযুক্তি তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সরকারি কর্মচারীদের নিজেদের চাকরির তথ্য ইন্টিগ্রেটেড ফিনানশিয়াল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (IFMS) পোর্টালে আপলোড করতে হবে। যার জেরে সহজেই কার কত বকেয়া আছে, সেই হিসাব করা সহজ হবে।

তথ্য জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া

কর্মচারীদের ২০০৯ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চাকরির কার্যকালের তথ্য জমা দিতে হবে। এই তথ্যের ভিত্তিতে অর্থ দফতর প্রত্যেক কর্মচারীর প্রাপ্য বকেয়া নির্ধারণ করবে। প্রযুক্তির ব্যবহার এই হিসাব প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন, বকেয়া ডিএ পেতে এই ফর্ম ফিলাপ করতে হবে।

বকেয়া মেটানোর অগ্রগতি

বর্তমানে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। বিভিন্ন দফতর ও সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে কর্মচারীদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কিছু কর্মচারীর বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু হলেও, আইনি ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতির কারণে সম্পূর্ণ বকেয়া মেটাতে আরও সময় লাগবে।

দীর্ঘ আইনি লড়াই

এই ডিএ মামলা ২০১৬ সাল থেকে চলে আসছে। স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল (SAT) থেকে শুরু করে কলকাতা হাইকোর্ট এবং পরে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত এই মামলা গড়িয়েছে। প্রাথমিকভাবে SAT-এ রাজ্য সরকার জয়ী হলেও, পরবর্তী পর্যায়ে সরকারি কর্মচারীরাই জয় পেয়েছেন।

বকেয়ার পরিমাণ

রাজ্যে মোট সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ। তবে অনুমান করা হচ্ছে, প্রায় ৪ থেকে ৫ লক্ষ কর্মচারীর বকেয়া ডিএ রয়েছে, যার মোট পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি টাকা। তবে ১০ লাখ কর্মীদের মধ্যে ৫ লাখ কর্মীদের বকেয়া রয়েছে, তবে কি বাকি ৫ লাখ কর্মীরা এই ডিএ (Dearness Allowance) পাবেন না? প্রশ্ন উঠছে। তবে ৫ লাখ হলেও, এই বিপুল অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ করা রাজ্য সরকারের জন্য বড়ো আর্থিক চ্যালেঞ্জ।

কারা বকেয়া ডিএ না ও পেতে পারেন

  • ধারণা করা হচ্ছে, যাদের চাকরি আদালতের নির্দেশে বাতিল হয়েছে।
  • যারা ২০১৯ এর পর চাকরিতে যোগদান করেছেন।
  • যারা পঞ্চম বেতন কমিশনের বেতন পাননি।
  • যারা এখন ও পঞ্চম বেতন কমিশনের অধীনে বেতন পাচ্ছেন।

আরও পড়ুন, এই ভুল করলেই ফাঁকা হয়ে যাবে ব্যাংক একাউন্ট। গ্রাহকদের সতর্ক করলো RBI

রাজ্য সরকারের অবস্থান

রাজ্য সরকার জানিয়েছে, আর্থিক সংকটের কারণে একসঙ্গে এত বিপুল অর্থ মেটানো সম্ভ নয়। তারা ধাপে ধাপে বকেয়া ডিএ মেটানোর পরিকল্পনা করছিল, কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দশে প্রক্রিয়া শুরু করতে বাধ্য হয়েছে। তাই এই নির্দেশ নিয়ে পুনরায় মোডিফিকেশনের আবেদন জানানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গরমের ছুটির পর আদালত খুললেই সেই আবেদন জানানো হবে।

আরও পড়ুন, দাবিহীন কোটি কোটি টাকা গ্রাহকদের বিলিয়ে দিচ্ছে ব্যাংক। জেলায় জেলায় ক্যাম্প বসছে, কিভাবে এই টাকা পাবেন?

উপসংহার

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ মামলা এখনও একটি জটিল পর্যায়ে রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বকেয়া মেটানোর কাজ শুরু হলেও, রাজ্য সরকারের আইনি ও প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ এই প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করছে। এখন অপেক্ষা শুধু আদালতের চূড়ান্ত রায় এবং কর্মচারীদের প্রাপ্য বকেয়া পাওয়ার। তবে চলতি মাসেই ডিএ এর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হতে পারে। আর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলেই জানা যাবে এই ডিএ কারা পাবেন, এবং কিভাবে পাবেন। এই বিষয়ে আরও জানতে এখানে ক্লিক করুন।

শেয়ার করুন: Sharing is Caring!