অবশেষে বাংলার সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ দিচ্ছে নবান্ন। ৮০ শতাংশ স্যালারি একাউন্টে বাকি ২০ শতাংশ GPF একাউন্টে

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ (Arrear DA) নিয়ে বড় ধামাকা দিল নবান্ন! রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের (Government Employees) জন্য এই খবর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া থাকা মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance) নিয়ে রাজ্য সরকার এবার এই মাসের মধ্যেই নতুন পদক্ষেপ নিতে চলেছে। ইতিমধ্যেই নবান্ন সূত্রে কর্মীদের বকেয়া ডিএ এর ২৫% মিটিয়ে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়ে গিয়েছে। মূলত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই এই পদক্ষেপ নবান্নের। এই খবর কয়েক লক্ষ সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগী মানুষদের জন্য অত্যন্ত শান্তির খবর হলেও, এত বিপুল সংখ্যক কর্মী ও পেনশনভোগীদের বকেয়া হিসাব এতো অল্প সময়ে করতে রাজ্য সরকার কে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে। যদিও এই নিয়ে খুব শীঘ্রই নবান্নের তরফে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হতে পারে বলে আশাবাদী রাজ্যের কর্মচারীরা।

বকেয়া ডিএ মেটানোর তোড়জোড়

রাজ্য সরকারের যোগ্য কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটানোর জন্য রাজ্যের প্রয়োজন প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে এই টাকার মোট ২৫ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা রাজ্য সরকারকে মিটিয়ে দিতে হবে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ রাজ্যের কোষাগারে না থাকার কারণে ইতিমধ্যেই এর জোগাড় শুরু হয়ে গিয়েছে নবান্নের তরফে। ইতিমধ্যেই অর্থ সংগ্রহের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসাবে, রিজার্ভ ব্যাংক থেকে ৪ হাজার কোটি টাকা এবং দীর্ঘমেয়াদী স্টেট গভর্নমেন্ট সিকিউরিটির মাধ্যমে ৪ হাজার কোটি টাকা যোগাড় করা হয়েছে। তবে এখনো বাকি রয়েছে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। এর জন্যেও প্রচেষ্টা চালাচ্ছে রাজ্য সরকার।

কীভাবে বকেয়া ডিএ (DA) মেটানো হবে?

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মনে এবার একটাই প্রশ্ন, কীভাবে এই বকেয়া দিয়ে মেটানো হবে? আদৌ কি বেতনের সাথেই মিলবে এই বকেয়া মহার্ঘ ভাতা? এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই নবান্ন সূত্রে একাধিক তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। যেখানে জানানো হয়েছে-

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বর্তমানে কর্মরত কর্মচারীদের জন্য বকেয়া ডিএ (DA) এর ২৫ শতাংশের মধ্যে থেকে ৮০ শতাংশ শরীর সরকারি কর্মচারীদের ব্যাংক একাউন্টে জমা করা হবে। তাহলে বাকি ২০ শতাংশের কী হবে? এই বিষয়েও জানা গেচে এই বকেয়া ডিএ এর বাকি থাকা ২০ শতাংশ কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড বা PF একাউন্টে জমা করার প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। এর ফলে মূলত কর্মীদের হাতে মোটা অংকের টাকা আসার পাশাপাশি তাদের ভবিষ্যতও সুরক্ষিত থাকবে। তবে এই বিষয়ে সরকারি ভাবে এখনও কিছু জানা যায়নি। তাই সরকারি ঘোষণা হওয়া আগ পর্যন্ত নিশ্চিন্ত করে বলা যাচ্ছে না।

অপরদিকে বর্তমানে যে সমস্ত কর্মচারীরা পেনশন সিস্টেমের মধ্যে রয়েছেন, তাদের এবং ফ্যামিলি পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বকেয়া টাকা পেনশন একাউন্টে জমা করে দেওয়া হবে। এই ক্ষেত্রে আলাদা করে কিছু টাকা হাতে পাওয়া বা কিছু টাকা PF একাউন্টে পাওয়ার ঝামেলা থাকছে না।

আরও পড়ুন, পশ্চিমবঙ্গের বকেয়া ডিএ এর বিজ্ঞপ্তি, প্রক্রিয়া শুরু

এই পরিকল্পনা অনুসারে, আগামী দিনে আপাততভাবে এই আট হাজার কোটি টাকার মাধ্যমে বকেয়া DA মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে জানা যাচ্ছে। এমনকি এই মাসের মধ্যেই এই টাকার সরকারি কর্মচারীদের হাতে চলে আসবে বলেও খবর শোনা যাচ্ছে। এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারি কোনো রকম ঘোষণা হয়নি।

বকেয়া ডিএ মেটাতে ঋণ

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সরকারি সূত্রে পাওয়া খবর অনুসারে, বর্তমানে বাকি ২ হাজার কোটি টাকা জোগাড়ের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে রাজ্য সরকার। কিন্তু এর মধ্যেই DA এর কিছু অংশ পিএফ একাউন্টের জমা দেওয়ার প্রস্তাবটি ঠিক কতটা আইনগত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বারবার। রাজ্য সরকারের আইনি আধিকারিকদের মতামত অনুসারে, রাজ্য সরকার শুধুমাত্র বর্তমানই নয়, ভবিষ্যৎ কেও নিশ্চিত করতে চাইছে। এই নিয়ে যাতে ভবিষ্যতে কোনরকম আইনি জটিলতা তৈরি না হয়, এবং আদালত অবমাননার কোনো অভিযোগ যাতে না ওঠে, সেই দিকেও কড়া দৃষ্টিপাত করা হচ্ছে রাজ্যের তরফে।

আরও পড়ুন, হঠাৎ টাকার দরকার হলে, এইভাবে টাকা দেবে সরকার।

উপসংহার

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamta Banerjee) ইতিমধ্যেই রাজ্যের অর্থ দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে একাধিক বার বৈঠক করেছেন এবং জুন মাসের এই সপ্তাহের মধ্যেই বকেয়া মেটানোর জন্য সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। অর্থাৎ, এই মাসের মধ্যেই রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা তাদের বকেয়া ডিএ এর একাংশ নিজেদের বেতনের সাথেই পেয়ে যেতে পারেন বলে মনে করছেন অনেকেই।

শেয়ার করুন: Sharing is Caring!