সপ্তাহের শেষে মূল্যবান ধাতু তথা সোনার দাম (Gold Price) ও রুপোর দামের (Silver Price) বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেল। আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবের কারণে সোনা ও রুপোর দামে উল্লেখযোগ্য পতন ঘটেছে। গত কয়েকদিন ধরে ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর এই দরপতন ক্রেতাদের মাঝে দারুণ স্বস্তি এনে দিয়েছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য গয়না কেনাকাটার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর। বিশ্ববাজারে মুনাফা তোলার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মূল্যবান ধাতুর সার্বিক চাহিদা কিছুটা নিম্নমুখী হয়েছে।
Gold Price Today – কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গ
আজ কলকাতার বাজারে ২২ ক্যারেট হলমার্ক সোনার মূল্যে বড়সড় পতন নথিভুক্ত হয়েছে। কলকাতায় প্রতি ১০ গ্রাম ২২ ক্যারেট সোনার দাম কমেছে ঠিক ১০০০ টাকা। ফলে আজ তিলোত্তমার বাজারে ১০ গ্রাম সোনার বর্তমান দর দাঁড়িয়েছে ১,৪৬,২৫০ টাকা। গতকালের তুলনায় আজকের এই হ্রাস গয়না ক্রেতাদের বাজেটে উল্লেখযোগ্য স্বস্তি এনে দিয়েছে। কলকাতার গয়না ব্যবসায়ীরা আশা করছেন এই ছুটির দিনে দোকানে ক্রেতাদের ভিড় বাড়বে।
মুম্বাই, দিল্লি ও অন্যান্য প্রধান শহরের চিত্র
দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাই এবং দক্ষিণের শহরগুলিতে আজ ২২ ক্যারেটের দর বেশ কমেছে। মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, হায়দ্রাবাদ এবং কেরালায় প্রতি ১০ গ্রাম সোনা বিক্রি হচ্ছে ১,৪১,৭০০ টাকায়। দেশের রাজধানী দিল্লি এবং লখনৌ শহরে এই সোনার দর এসে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১,৪১,৮৫০ টাকায়। এছাড়া ভদোদরা এবং আহমেদাবাদের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য নগরীতে ১০ গ্রামের দর ১,৪১,৭৫০ টাকা। ফলে সমগ্র দেশজুড়েই আজ ২২ ক্যারেট গয়না তৈরির সোনার দামে নিম্নের প্রবণতা সুস্পষ্ট।
24 Carat Gold Rate – ২৪ ক্যারেট পাকা সোনার দাম
বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে যাঁরা খাঁটি সোনা কিনতে পছন্দ করেন, তাঁদের জন্যও সুখবর এসেছে। আজ কলকাতার বাজারে ২৪ ক্যারেট খাঁটি সোনার দর প্রতি ১০ গ্রামে ১১০০ টাকা হ্রাস পেয়েছে। এই পরিবর্তনের পর আজ কলকাতায় প্রতি ১০ গ্রাম পাকা সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ১,৫৩,৮৫০ টাকা। গত কার্যদিবসে এই একই সোনার দাম ছিল প্রতি ১০ গ্রামে ১,৫৪,৯৫০ টাকা। এই সাময়িক সংশোধন গোল্ড বন্ড কিংবা পাকা সোনায় লগ্নিকারীদের নতুন সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।
ভারতের অন্যান্য শহরে ২৪ ক্যারেটের দর
অন্যান্য মেট্রো শহরের দিকে নজর দিলে দেখা যাবে খাঁটি সোনার দামে সামান্য তফাত বজায় রয়েছে। মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, হায়দ্রাবাদ এবং কেরালায় প্রতি ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারেট সোনা ১,৫৪,৫৮০ টাকায় বিকোচ্ছে। রাজধানী দিল্লি এবং লখনৌতে আজ ১০ গ্রাম খাঁটি সোনার দাম ১,৫৪,৭৩০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। গুজরাটের আহমেদাবাদ এবং ভদোদরা শহরে এই মানসম্পন্ন সোনার দর রয়েছে ১,৫৪,৬৩০ টাকায়। মূলত স্থানীয় শুল্ক ও পরিবহন খরচের পার্থক্যের কারণে শহরভেদে কিছুটা দামের ভিন্নতা থাকে।
১৮ ক্যারেট সোনার বাজার ও হালফ্যাশনের গয়না
হালকা ও আধুনিক ডিজাইনের গয়না তৈরিতে ১৮ ক্যারেট সোনার জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। আজ কলকাতার স্থানীয় বুলিয়ন বাজারে ১৮ ক্যারেট সোনার দর প্রতি ১০ গ্রাম ১,১৫,৯৪০ টাকা। একই সাথে মুম্বাই, পুনে, বেঙ্গালুরু ও কেরালাতেও এই সোনা প্রতি ১০ গ্রাম ১,১৫,৯৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে রাজধানী দিল্লি ও লখনৌ অঞ্চলে প্রতি ১০ গ্রামের দর সামান্য বেশি, যা প্রায় ১,১৬,০৯০ টাকা। আহমেদাবাদ এবং ভদোদরায় এই সোনা কেনার জন্য গ্রাহকদের খরচ করতে হচ্ছে প্রতি ১০ গ্রামে ১,১৫,৯৯০ টাকা।
রুপোর বাজারে ব্যাপক পতন: কেজি প্রতি দাম কমল অনেকটাই
কলকাতা ও দেশের প্রধান শহরে রুপোর দাম
সোনার পাশাপাশি রুপোর খুচরো বাজারেও আজ এক বিরাট ধস নেমে এসেছে। কলকাতার বাজারে আজ প্রতি কেজি খুচরো রুপোর দাম এক ধাক্কায় কমেছে প্রায় ৮,৩০০ টাকা। এই বিপুল পতনের পর কলকাতায় প্রতি কেজি রুপোর দর দাঁড়িয়েছে ২,৩০,৬৫০ টাকায়। গতকাল অবধি কলকাতার বাজারে রুপোর প্রতি কেজির দাম ছিল ২,৩৯,০৫০ টাকা। ফলে শিল্প ক্ষেত্রে রুপোর ব্যবহারকারী এবং সাধারণ ক্রেতারা এই বিশাল দরপতনে অনেকটাই স্বস্তিবোধ করছেন।
দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতের রুপোর দাম
দেশের অন্যান্য মহানগরীতেও রুপোর দামে বড় ধরনের পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়েছে। দিল্লি, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, পুনে এবং আহমেদাবাদে প্রতি কেজি রুপো আজ বিক্রি হচ্ছে ২,৪৫,০০০ টাকায়। তবে দক্ষিণ ভারতের চেন্নাই, হায়দ্রাবাদ এবং কেরালায় প্রতি কেজি রুপোর দর রাখা হয়েছে ২,৫০,০০০ টাকা। ভৌগোলিক অবস্থান এবং চাহিদার পার্থক্যের কারণেই দক্ষিণের রাজ্যগুলিতে রুপোর দর কিছুটা বেশি থাকে। সার্বিকভাবে সপ্তাহান্তের এই দরপতন রুপোর বাজারে ক্রেতাদের আকর্ষণ বাড়িয়ে তুলেছে।
ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য জরুরি পরামর্শ
মূল্যবান ধাতুর বাজারে এই ধরনের আকস্মিক ওঠানামা পুরোপুরি স্বাভাবিক একটি আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া। যে কোনো অলংকার কেনার আগে বর্তমান জিএসটি (GST) ও মেকিং চার্জ সম্পর্কে জেনে নেওয়া জরুরি। এছাড়া সোনা কেনার ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশিকা মেনে হলমার্ক এবং এইচইউআইডি (HUID) নম্বর অবশ্যই যাচাই করবেন। বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে বাজারে অর্থ বিনিয়োগের পূর্বে সার্বিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। আজকের এই মূল্যহ্রাস উৎসবের মৌসুমে কেনাকাটার জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে।