পেনশন চালু রাখার জন্য প্রত্যেক পেনশনভোগীদের প্রতি বছর জীবন প্রমাণ পত্র বা লাইফ সার্টিফিকেট (Life Certificate) জমা দিতে হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এটি (Jeevan Pramaan) জমা না দিলে পেনশন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। অতীতে এই কাজের জন্য ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসের লাইনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো। এখন ঘরে বসেই স্মার্টফোনের সাহায্যে কয়েক মিনিটে এই জরুরি কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব। প্রযুক্তির এই অগ্রগতির ফলে বয়স্ক ও প্রবীণ নাগরিকদের শারীরিক ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে। এবছর কোথায় কোথায় লাইফ সার্টিফিকেট জমা করা যাবে, কি কি লাগবে, কি কি নিয়ম আছে, সমস্ত কিছু বিস্তারিত জেনেনিন।
Life Certificate: লাইফ সার্টিফিকেট কি এবং কাদের জন্য
লাইফ সার্টিফিকেট হলো একজন পেনশনভোগী জীবিত আছেন তার অফিসিয়াল প্রমাণপত্র। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারি কর্মচারী সহ ইপিএফও পেনশন প্রাপকদের প্রতি বছর এই নথি জমা করতে হয়। এটি জমা দিলে পরবর্তী এক বছরের জন্য মাসিক পেনশন নিয়মিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। সাধারণ পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে প্রতি বছর ১ নভেম্বর থেকে এই নথি জমা নেওয়ার কাজ শুরু হয়। তবে ৮০ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণদের জন্য অক্টোবর মাস থেকেই প্রক্রিয়াটি চালু হয়ে যায়।
Digital Life Certificate – ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেট
ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেট (Digital Life Certificate) বা জীবন প্রমাণ হলো আধার ভিত্তিক একটি অনলাইন প্রমাণপত্র। এতে সশরীরে কোনো দফতরে বা ব্যাঙ্ক শাখায় গিয়ে উপস্থিতি জানানোর প্রয়োজন পড়ে না। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘জীবন প্রমাণ’ পোর্টাল ও ফেস রেকগনিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে এটি তৈরি হয়। ঘরে বসে নিজের স্মার্টফোনে মুখের ছবি স্ক্যান করেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব। এর ফলে অসুস্থ ও চলাফেরায় অক্ষম ব্যক্তিরা খুব সহজেই হয়রানি ছাড়াই কাজ সারতে পারেন।
কোথায় কোথায় জমা দেওয়া যায়
পেনশনভোগীরা তাদের সুবিধামতো বিভিন্ন মাধ্যমে এই জীবন প্রমাণ পত্র (Life Certificate) জমা করতে পারেন। আগের নিয়ম অনুসারে যেকোনো ব্যাঙ্কের শাখা বা পোস্ট অফিসে গিয়ে সরাসরি আবেদন জমা দেওয়া যায়। নিকটবর্তী কমন সার্ভিস সেন্টার বা CSC সেন্টারে গিয়েও বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে এটি জমা করা সম্ভব। ডাক বিভাগের ইন্ডিয়া পোস্ট পেমেন্টস ব্যাঙ্ক কর্মীরাও বাড়িতে এসে বায়োমেট্রিক সেবা দিয়ে থাকেন। এ ছাড়া নিজের মোবাইল ফোনে জীবন প্রমাণ ফেস অ্যাপ ব্যবহার করে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ঘরে বসেই এটি জমা দেওয়া যায়।
কি কি নথি প্রয়োজন
ডিজিটাল মাধ্যমে আবেদন করার আগে কয়েকটি জরুরি তথ্য ও নথি হাতের কাছে রাখা প্রয়োজন। পেনশনভোগীর আধার নম্বর এবং আধার লিঙ্ক করা চালু মোবাইল ফোন নম্বর আবশ্যক। সঠিক পেনশন পেমেন্ট অর্ডার বা পিপিও নম্বর হাতের কাছে রাখতে হবে। যে অ্যাকাউন্টে পেনশনের টাকা জমা হয়, সেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর প্রয়োজন হবে। পরিষ্কার আলো এবং ভালো ফ্রন্ট ক্যামেরা যুক্ত একটি স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ থাকা জরুরি।
ঘরে বসে কিভেবে জমা দেবেন?
- প্রথমে গুগল প্লে-স্টোর থেকে ‘AadhaarFaceRD’ এবং ‘Jeevan Pramaan Face App’ ডাউনলোড করুন।
- এরপর অ্যাপটি খুলে প্রয়োজনীয় তথ্য ও ওটিপি দিয়ে অপারেটর ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করে নিন।
- পেনশনভোগীর আধার নম্বর, পিপিও নম্বর এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ নির্ভুলভাবে লিখুন।
- স্ক্রিনের নির্দেশিকা মেনে মোবাইলের ক্যামেরার সামনে স্থির হয়ে মুখের ফেস অথেন্টিকেশন করান।
- বায়োমেট্রিক যাচাই শেষ হতেই ফোনে প্রমাণ আইডিসহ একটি কনফার্মেশন এসএমএস আসবে
- সেই আইডি দিয়ে পোর্টাল থেকে ডিজিটাল সার্টিফিকেট ডাউনলোড করে রেখে দিন।
উপসংহার
ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেট ব্যবস্থা প্রবীণ নাগরিকদের জীবনে এক বিরাট স্বস্তি এনে দিয়েছে। ব্যাঙ্কের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা এড়িয়ে এখন যেকোনো স্থান থেকে নিজের মোবাইল থেকেই কয়েক মিনিটেই এই কাজ সম্পন্ন করা যাচ্ছে। ডিজিটাল প্রযুক্তি সরকারি পেনশন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, দ্রুত এবং প্রবীণ-বান্ধব করে তুলেছে। তাই পেনশন নির্বিঘ্নে পেতে সময় নষ্ট না করে নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যেই ঘরে বসে এই ডিজিটাল সুবিধার মাধ্যমে জীবন প্রমাণ পত্র জমা করে নিন।