স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যাশনাল মেরিট স্কলারশিপে (NMMSE Scholarship 2026) আবেদনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। যারা এতদিন ফর্ম ফিলাপ করতে পারেননি, তাদের জন্য এটি দারুণ সুযোগ। অনলাইনের মাধ্যমে খুব সহজেই এই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী যেন আর্থিক কারণে পড়াশোনা না থামায়, সেটাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। তাই আর দেরি না করে দ্রুত আবেদন সেরে ফেলা উচিত।
NMMSE Scholarship – ন্যাশনাল মেরিট স্কলারশিপ
কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের অধীনে ন্যাশনাল মিন্স কাম মেরিট স্কলারশিপ (National Merit Scholarship 2026) পরীক্ষা পরিচালিত হয়। পশ্চিমবঙ্গে এই মেধাভিত্তিক পরীক্ষা পরিচালনা করে রাজ্য স্কুল শিক্ষা দপ্তর। এবার স্কলারশিপে অনলাইনে আবেদনের শেষ তারিখ বাড়িয়ে আগামী ৩১ অক্টোবর করা হয়েছে। স্কুল স্তরে ভেরিফিকেশন চলবে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত এবং জেলা স্তরে তা সম্পন্ন হবে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে। অষ্টম শ্রেণীতে পাঠরত পড়ুয়াদের জন্যই মূলত এই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার আয়োজন করা হয়।
NMMSE স্কলারশিপের পরিমাণ
এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ছাত্র-ছাত্রীদের নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত মোট চার বছর NMMSE Scholarship এর মাধ্যমে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়। প্রতি বছর শিক্ষার্থীরা ১২,০০০ টাকা করে সরকারি অনুদান পেয়ে থাকে। ফলে চার বছরে মোট ৪৮,০০০ টাকা সরাসরি তাদের আধার লিঙ্কযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। এই টাকা পড়ুয়াদের পড়াশোনা ও প্রয়োজনীয় বইপত্র কেনার খরচ চালাতে দারুণ সাহায্য করে। পরবর্তী ক্লাসগুলোতে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এই বৃত্তি সহজেই রিনিউ করা যায়।
এই স্কলারশিপ কারা পাবেন
কেবলমাত্র রাজ্য সরকারি, সরকার পোষিত বা স্থানীয় স্বশাসিত স্কুলের পড়ুয়ারাই ন্যাশনাল মেরিট স্কলারশিপের যোগ্য। বেসরকারি স্কুল, কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় কিংবা নবোদয় বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা এই সুযোগের আওতায় পড়ে না। আবাসিক স্কুলে থেকে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীরাও এই অনুদান পাওয়ার যোগ্য নয়। মূলত অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল ও পিছিয়ে পড়া পরিবারের সন্তানদের জন্যই এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেধাতালিকায় স্থান পেলে তবেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই বৃত্তির সুবিধা মিলবে।
যোগ্যতা
ন্যাশনাল মেরিট স্কলারশিপে আবেদনকারী শিক্ষার্থীকে বর্তমানে যেকোনো স্বীকৃত সরকারি স্কুলের অষ্টম শ্রেণীতে পাঠরত হতে হবে। সপ্তম শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষায় সাধারণ বিভাগের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৫৫ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। সংরক্ষিত শ্রেণীর (SC/ST) প্রার্থীদের জন্য নম্বরের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ ছাড় রয়েছে। পাশাপাশি পরিবারের মোট বার্ষিক আয় সাড়ে তিন লক্ষ (৩,৫০,০০০) টাকার কম হতে হবে। এই সমস্ত শর্ত পূরণ করলেই সংশ্লিষ্ট ছাত্র-ছাত্রী পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাবে।
কি কি নথি লাগবে?
NMMSE Scholarship 2026 এ অনলাইনে ফর্ম ফিলাপের জন্য নির্দিষ্ট কিছু প্রয়োজনীয় নথিপত্র সঙ্গে রাখা আবশ্যক। এর মধ্যে অন্যতম হলো বিডিও বা নির্দিষ্ট উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের দেওয়া আয়ের প্রশংসাপত্র। এছাড়া সংরক্ষিত শ্রেণীর জন্য কাস্ট সার্টিফিকেট এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য প্রতিবন্ধী শংসাপত্র লাগবে। পাশাপাশি পাসপোর্ট সাইজ ছবি, আধার কার্ড ও ডিজিটাল স্বাক্ষরের স্ক্যান কপি প্রয়োজন। আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপিতে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সই ও সিলমোহর লাগিয়ে তা আপলোড করতে হবে।
আবেদন প্রক্রিয়া
NMMSE Scholarship 2026 আবেদনকারীকে প্রথমে সংশ্লিষ্ট অফিশিয়াল পোর্টালে গিয়ে নিজের নাম ও তথ্য দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এরপর বাংলার শিক্ষা আইডি, মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে অ্যাকাউন্টে লগইন করতে হবে। মূল আবেদনপত্রে ব্যক্তিগত বিবরণ, স্কুলের নাম ও সঠিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ডিটেইলস লিখতে হবে। সব প্রয়োজনীয় নথিপত্র নির্দিষ্ট সাইজে স্ক্যান করে পোর্টালে নিখুঁতভাবে আপলোড করতে হবে। পরিশেষে প্রধান শিক্ষকের সই করানো ফর্মটি আপলোড করে সাবমিট করলেই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে।
উপসংহার
আর্থিক প্রতিকূলতাকে কাটিয়ে উচ্চশিক্ষার দিকে এগিয়ে যেতে এই বৃত্তি অত্যন্ত সাহায্য করে। আবেদনের বর্ধিত সময়সীমা বহু ছাত্র-ছাত্রীর সামনে একটি নতুন পথ খুলে দিয়েছে। তাই শেষ মুহূর্তের প্রযুক্তিগত সমস্যা এড়াতে নির্ধারিত ৩১ অক্টোবরের আগেই আবেদন শেষ করা উচিত। সময়মতো সঠিক নথিপত্র প্রস্তুত করে আবেদন করলে ভবিষ্যতে বৃত্তি পাওয়া নিশ্চিত হয়। সচেতনতার সঙ্গে প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে এলে যেকোনো মেধাবী পড়ুয়ার স্বপ্ন সত্যি হতে পারে।