PM Jan Aushadhi Kendra: ২ লাখ টাকা সরকারি সাহায্যে প্রধানমন্ত্রী জনঔষধি কেন্দ্র খুলে নিজের ওষুধের ব্যবসা শুরু করুন

প্রধানমন্ত্রী জনঔষধি কেন্দ্র খুলে সরকারি সহায়তায় নতুন ব্যবসা শুরুর সুবর্ণ সুযোগ

বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে একটি লাভজনক এবং স্থায়ী ব্যবসা শুরু করা (PM Jan Aushadhi Kendra) অনেকের কাছেই স্বপ্নের মতো। বিশেষ করে যারা চিকিৎসা ও ফার্মাসি সেক্টরে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের ‘প্রধানমন্ত্রী জনঔষধি পরিযোজনা’ (PMBJP) এক অনন্য দিশা দেখাচ্ছে। জনঔষধি যোজনা ব্যবসা বা এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত কম মূল্যে উন্নত মানের জেনেরিক ওষুধ পৌঁছে দেওয়া। বর্তমানে সরকার এই কেন্দ্র খোলার জন্য আর্থিক অনুদান ও বিশেষ ইনসেন্টিভ প্রদান করছে। বেকার যুবক-যুবতী এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের স্বাবলম্বী করতে এটি একটি চমৎকার উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই নিবন্ধে আমরা আলোচনা করব কীভাবে কম পুঁজিতে লাভজনক ব্যবসা এবং আপনি সরকারি সহায়তায় এই জনঔষধি কেন্দ্র শুরু করতে পারেন।

PM Jan Aushadhi Kendra – প্রধানমন্ত্রী জনঔষধি কেন্দ্র স্থাপন

একটি জনঔষধি কেন্দ্র (PMBJP) বা জেনেরিক ওষুধের দোকান খোলার জন্য (generic medicine) আবেদনকারীকে অবশ্যই নির্দিষ্ট কিছু যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। আবেদনকারীকে ন্যূনতম ডি.ফার্মা বা বি.ফার্মা ডিগ্রিধারী হতে হবে অথবা কোনো ফার্মাসিস্টকে নিয়োগ করার সক্ষমতা থাকতে হবে। ব্যক্তিগত উদ্যোক্তা ছাড়াও বিভিন্ন এনজিও, চ্যারিটেবল ট্রাস্ট এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠী এই কেন্দ্র স্থাপনের জন্য আবেদন করতে পারে। দোকানের জন্য নিজস্ব বা ভাড়ায় নেওয়া অন্তত ১২০ বর্গফুট জায়গার প্রয়োজন হয়। এছাড়া প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র এবং ড্রাগ লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই শর্তগুলো পূরণ করলেই একজন ব্যক্তি জনঔষধি স্টোর খোলার জন্য প্রাথমিক যোগ্য বলে বিবেচিত হন।

সরকারি অনুদান ও আর্থিক সহায়তার পরিমাণ

কেন্দ্রীয় সরকার জনঔষধি কেন্দ্র বা PMBJP খোলার জন্য উদ্যোক্তাদের মোটা অঙ্কের আর্থিক সহায়তা প্রদান করে থাকে। দোকান তৈরির আসবাবপত্র বা ফার্নিচারের জন্য সরকার ১.৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অনুদান দেয়। এছাড়া কম্পিউটার, প্রিন্টার এবং প্রয়োজনীয় সফটওয়্যারের জন্য অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা সহায়তা পাওয়া যায়। বিশেষ করে মহিলা উদ্যোক্তা, দিব্যাঙ্গ এবং তফশিলি জাতি ও উপজাতির মানুষদের জন্য অতিরিক্ত ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিশেষ ইনসেন্টিভ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ইনসেন্টিভ বা উৎসাহভাতা পাওয়ার সুযোগ থাকে এই প্রকল্পে। এই বিপুল পরিমাণ আর্থিক সহায়তার ফলে পুঁজির অভাবে যারা ব্যবসা শুরু করতে পারছিলেন না, তাদের পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে।

PM Jan Aushadhi Kendra এর ব্যবসায়িক লাভ ও ওষুধের গুণমান

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে যে কম দামি ওষুধের গুণমান ঠিক থাকে কি না। জনঔষধি কেন্দ্রে পাওয়া সমস্ত ওষুধ সরকারি ল্যাবরেটরিতে কঠোরভাবে পরীক্ষিত এবং অত্যন্ত উচ্চমানের। এখানে ব্র্যান্ডেড ওষুধের তুলনায় প্রায় ৫০ থেকে ৯০ শতাংশ কম দামে জেনেরিক ওষুধ কেনা সম্ভব। উদ্যোক্তারা প্রতিটি ওষুধের বিক্রির ওপর প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত লভ্যাংশ বা মার্জিন পেয়ে থাকেন। এছাড়া প্রতি মাসে বিক্রির ওপর ভিত্তি করে অতিরিক্ত ইনসেন্টিভ পাওয়ার সুযোগ থাকে যা আয়ের পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দেয়। কম দামে ভালো ওষুধ পাওয়ায় সাধারণ মানুষের ভিড় এই দোকানগুলোতে সব সময়ই বজায় থাকে। তাই ব্যবসায়িক দিক থেকে এটি অত্যন্ত স্থিতিশীল এবং লাভজনক একটি মডেল।

২০২৭ সালের লক্ষ্যমাত্রা ও সামাজিক প্রভাব

ভারত সরকার ২০২৭ সালের মধ্যে সারা দেশে প্রায় ২৫ হাজার জনঔষধি কেন্দ্র গড়ে তোলার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বর্তমানে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান এই প্রকল্পের মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে এবং প্রান্তিক মানুষের কাছে চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে গেছে। গ্রামাঞ্চল ও মফস্বল এলাকায় যেখানে ওষুধের দোকানের অভাব রয়েছে, সেখানে এই কেন্দ্রগুলো আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের মাসিক চিকিৎসার খরচ কমাতে এই জেনেরিক ওষুধের দোকানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সরকারের এই দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য উদ্যোক্তাদের জন্য আগামী দিনে আরও নতুন সুযোগ তৈরি করবে। এর ফলে ওষুধের বাজারে এক বিশাল ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

click here red button

প্রধানমন্ত্রী জনঔষধি কেন্দ্র অনলাইনে আবেদনের পদ্ধতি

জনঔষধি যোজনা ব্যবসা বা কেন্দ্র খোলার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি বর্তমানে অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা সম্ভব। আগ্রহী ব্যক্তিদের প্রথমে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এ গিয়ে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে। সেখানে প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য, জায়গার বিবরণ এবং ফার্মাসিস্টের লাইসেন্স আপলোড করে আবেদন ফরম জমা দিতে হয়। আবেদন জমা দেওয়ার পর ব্যুরো অফ ফার্মা পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিংস অফ ইন্ডিয়া (BPPI) কর্তৃপক্ষ নথিপত্র যাচাই করে দেখেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আবেদনকারীকে ড্রাগ লাইসেন্স সংগ্রহ করার অনুমতি এবং স্টোর খোলার সবুজ সংকেত দেওয়া হয়। সঠিক পরিকল্পনা ও পরিশ্রম থাকলে খুব সহজেই এই সরকারি প্রকল্পের অংশ হওয়া সম্ভব।

মাদার ডেয়ারির ফ্রাঞ্চাইজি নিতে এখানে ক্লিক করুন।

কেন এই ব্যবসা বর্তমান সময়ের সেরা পছন্দ?

বর্তমান অগ্নিমূল্যের বাজারে ওষুধের খরচ মেটাতে সাধারণ মানুষ যখন হিমশিম খাচ্ছে, তখন জনঔষধি কেন্দ্রগুলো বিকল্প দিশা দেখাচ্ছে। এটি কেবল একটি লাভজনক ব্যবসায়ী উদ্যোগ নয়, বরং এটি একটি মহৎ সামাজিক সেবাও বটে। কম পুঁজিতে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর এর চেয়ে বড় সুযোগ কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে আর নেই। বেকারত্ব দূরীকরণে এবং দেশের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো মজবুত করতে এই প্রকল্পের গুরুত্ব অপরিসীম। আপনি যদি একজন ফার্মাসিস্ট হন বা ব্যবসা করার প্রবল ইচ্ছা থাকে, তবে আজই এই প্রকল্পের সুযোগ গ্রহণ করুন। সঠিক সময়ে নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত আপনার জীবন ও ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে।

শেয়ার করুন: Sharing is Caring!