উৎসবের মুখে ভারতীয় বাজারে সোনার দাম কমার (Gold Price) বদলে কমে গেল। যার জেরে দীপাবলি (Diwali) ও ধনতেরাসের (Dhanteras) ঠিক আগেই সাধারণ মানুষের মুখে চওড়া হাসি। মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বা MCX-এ সোনার ফিউচার দর তার সর্বকালীন রেকর্ড স্তর থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে নেমে এসেছে। কি কারনে দাম কমছে, আগামী দিনে দাম বাড়বে না কমবে, যাদের শোণা কেনা প্রয়োজন তারা এখন কিনবেন নাকি একটু দেরি করে কিনবেন, সেই সমস্ত নিয়ে আলোচনা করা হলো।
Gold Price Today – পশ্চিমবঙ্গে সোনার দাম
পশ্চিমবঙ্গের শহরগুলিতে গয়নার সোনার দামে বেশ কিছুটা স্বস্তি দেখা যাচ্ছে। কলকাতায় ২২ ক্যারেট সোনার দাম (Gold Price) বর্তমানে প্রতি ১০ গ্রামে নেমে এসেছে ১,৩০,৬৯০ টাকায়। রেকর্ড দরের তুলনায় হলুদ ধাতুর এই দাম কমে যাওয়া সাধারণ মধ্যবিত্তের কেনাকাটায় গতি আনবে। তবে স্থানীয় বিপণি ভেদে মেকিং চার্জ ও জিএসটি যোগ হয়ে চূড়ান্ত দামে কিছুটা পার্থক্য হতে পারে। উৎসবের দিনে ঘরে সোনা আনতে চাইলে বর্তমান দাম ক্রেতাদের জন্য বেশ আকর্ষণীয়।
দেশের অন্যান্য শহরে সোনার দাম
রাজধানী দিল্লি সহ দেশের প্রধান প্রধান বাণিজ্য নগরীতেও সোনার দাম কিছুটা কমছে। এবং নিম্নমুখী প্রবণতা স্পষ্ট। বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বইয়ে ২২ ক্যারেট সোনার দর কলকাতার সমান অর্থাৎ প্রতি ১০ গ্রামে ১,৩০,৬৯০ টাকা। চেন্নাই এবং হায়দরাবাদেও এই ক্যারেটের সোনা বিক্রি হচ্ছে ঠিক একই মূল্যে। অন্যদিকে দিল্লিতে কিছুটা ফারাক রেখে ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ১০ গ্রামের দর দাঁড়িয়েছে ১,৩০,৮৪০ টাকা। আহমেদাবাদে এই দর প্রতি ১০ গ্রামে ১,৩০,৭৪০ টাকার কাছাকাছি ঘোরাফেরা করছে।
24 Carat Gold Rate – ২৪ ক্যারেট পাকা সোনার দাম
যারা বিনিয়োগের জ০ন্য শোণা কিনতে চান, তাদের জন্যও সুখবর। কারণ, ২৪ ক্যারেট পাকা সোনার দামেও (Gold Price) বড় পতন হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ তথা কলকাতার বাজারে বর্তমানে ১০ গ্রাম পাকা সোনার রেট দাঁড়িয়েছে ১,৪২,৫৭০ টাকা। রেকর্ড সর্বোচ্চ দরের তুলনায় এটি অনেকটাই নিচে অবস্থান করছে। বিনিয়োগকারীদের লাভ তুলে নেওয়ার হিড়িক এবং বিশ্ববাজারে বিক্রির চাপের ফলেই এই পতন ঘটেছে। ফলে পাকা সোনার বার বা গোল্ড কয়েন কেনার জন্য এটি একটি ভালো সুযোগ তৈরি করেছে।
অন্যান্য শহরে ২৪ ক্যারেট পাকা সোনার দাম
মুম্বই, চেন্নাই এবং হায়দরাবাদের বাজারেও প্রতি ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারেট সোনার দর রয়েছে ১,৪২,৫৭০ টাকায়। দিল্লিতে এই খাঁটি সোনার দর প্রতি ১০ গ্রামে বর্তমানে ১,৪২,৭২০ টাকা ধার্য হয়েছে। গুজরাটের আহমেদাবাদ শহরে ১০ গ্রাম পাকা সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ১,৪২,৬২০ টাকা। বিশ্ববাজারে স্পট গোল্ডের দর আন্তর্জাতিক স্তরে চাপের মুখে থাকায় এই শহরগুলিতে দাম নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ক্রেতারা বিভিন্ন শহরের দরের সামান্য ওঠানামা লক্ষ্য করেই কেনাকাটার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
১৮ ক্যারেট সোনার দর
হালকা ও আধুনিক ডিজাইনের গয়না তৈরিতে ১৮ ক্যারেট সোনার ব্যবহার ইদানীং ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। ২৪ ও ২২ ক্যারেটের দামের সাথে তাল মিলিয়ে এই সোনার দামেও সমানুপাতিক পতন লক্ষ্য করা গেছে। কম খরচে দৃষ্টিনন্দন আধুনিক গয়না কেনার ক্ষেত্রে তরুণ প্রজন্মের কাছে এটি প্রধান পছন্দ। কলকাতায় ১৮ ক্যারেট সোনার প্রতি ১০ গ্রামের কার্যকর দর এখন মধ্যবিত্তের সাধ্যের মধ্যে চলে এসেছে। বাজেট সচেতন ক্রেতাদের জন্য দীপাবলিতে গয়না কেনার ক্ষেত্রে এটি সেরা বিকল্প হতে পারে।
আরও পড়ুন, পশ্চিমবঙ্গে ৩৪২ কোটি টাকার প্রকল্প চালু করলেন CM শুভেন্দু অধিকারী। কি কি সুবিধা পাবেন?
কলকাতা ও দেশের প্রধান শহরে রুপোর দাম
সোনার পাশাপাশি রুপোর বাজারেও লক্ষ্যণীয় দরপতন দেখা গেছে। বর্তমানে দেশের বাজারে প্রতি কেজি রুপোর দর (Silver Price) দাঁড়িয়েছে প্রায় ২,১৯,৯০০ টাকায়। চলতি বছরের রেকর্ড চার লক্ষ টাকার স্তর থেকে এই ধাতু অনেকটাই নেমে এসেছে। শিল্পক্ষেত্রে চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক স্পট সিলভারের দামের পতনের প্রভাব রুপোর ওপর পরিষ্কার ফুটে উঠেছে। ফলে ধনতেরাসে রুপোর বাসনপত্র ও কয়েন কেনার আগ্রহ বাজারে দারুণভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আরও পড়ুন, পশ্চিমবঙ্গের স্কুলে ফিরছে পাশ ফেল, বাচ্চাদের মোবাইল নিষিদ্ধ। মুখ্যমন্ত্রীর বড় ঘোষণা
সোনা কেনার উপযুক্ত সময়
চলতি বছরে সোনার দর সর্বোচ্চ প্রতি ১০ গ্রামে রেকর্ড ১,৮০,৭৭৯ টাকা হয়েছিলো, যা এখন কমে ১,৪২,০২৪ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি ১০ গ্রামে, সোনার দর কমেছে ৩৮,৭৫৫ টাকা। উৎসবের মরসুমে সোনার দর অনেকটা কমে যাওয়াকে বিশেষজ্ঞরা অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। অতীতের সব রেকর্ড দরের তুলনায় এখনকার মূল্য ক্রেতাদের জন্য অনেকটাই অনুকূল স্তরে রয়েছে। তবে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারের সিদ্ধান্ত এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির ওপর আগামী দিনের দর নির্ভর করবে। তাই দাম আরও কমার আশায় দীর্ঘ অপেক্ষা না করে ধাপে ধাপে সোনা কেনা বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে। যে কোনো বড় অঙ্কের লেনদেনের আগে স্থানীয় দোকান থেকে সর্বশেষ শুল্ক ও মেকিং চার্জ জেনে নেওয়া জরুরি।