পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের (Government Employees) বকেয়া ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance) নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন চলছে। একদিকে কিছু সরকারি কর্মী বকেয়া ডিএ পেয়েছেন। আবার তাদের মধ্যে অনেকেই টাকা কম পাওয়ার অভিযোগ করছেন। তাই কাদের কত টাকা বকেয়া হয়েছে, সেটা যেমন একটা বড় প্রশ্ন। ঠিক তেমনি একই র্যাঙ্কের কর্মী আলাদা পরিমাণ টাকা পেয়েছেন বলেও খবর আসছে। অন্যদিকে সরকারি পোষিত সংস্থা যেমন, স্কুল কলেজ, পুরসভা, পঞ্চায়েতের কর্মীরা এখনও টাকা পাননি বলে জানা গেছে। এমতবস্তায় গ্রান্ট এইড কর্মীদের বকেয়া ডিএ নিয়ে বড় খবর এলো। বিস্তারিত জেনে নিন।
Arrear DA – পশ্চিমবঙ্গে বকেয়া ডিএ দেওয়া শুরু হলো
গতকাল কলকাতা পুরসভা বা কেএমসি (KMC) এলাকার অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের জন্য একটি নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। এই বিজ্ঞপ্তিতে তাঁদের দীর্ঘদিনের পাওনা টাকা মিটিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ২০০৮ সাল থেকে শুরু করে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সময়কালের বকেয়া মহার্ঘ ত্রাণ বা ডিআর (Dearness Relief) দেওয়া হবে। পঞ্চম वेतन কমিশনের আওতাধীন এই বকেয়া টাকা পাওয়ার প্রক্রিয়াটি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। সরকারের এই সময়োচিত সিদ্ধান্তে হাজার হাজার পেনশনভোগী পরিবার দারুণভাবে উপকৃত হবেন।
কলকাতা মিউনিসিপ্যাল পেনশনভোগীদের জন্য স্বস্তির খবর
রাজ্য অর্থ দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে পেনশনভোগীদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানো হবে। তবে এই ক্ষেত্রে একটি আনুমানিক হিসাবের ওপর ভিত্তি করে আপাতত ৫০ শতাংশ টাকা দেওয়া হচ্ছে। ব্যাংকের মাধ্যমে যাঁরা নিয়মিত পেনশন পান, তাঁরা এই সুবিধাটি সরাসরি ভোগ করতে পারবেন। এর ফলে প্রবীণ নাগরিকদের দীর্ঘদিনের আইনি ও সামাজিক লড়াইয়ের একটি আংশিক জয় হলো বলে মনে করছেন অনেকে। উৎসবের মরশুমের আগে এই টাকা হাতে পাওয়ায় তাঁদের বড়সড় আর্থিক সাশ্রয় হবে।
এর আগে গত বছর ১৩ই মার্চ এই বকেয়া টাকা (Arrear DA) মিটিয়ে দেওয়ার জন্য একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় ব্যাংকগুলির কাছে অতীতের পেনশন সংক্রান্ত সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্য মজুত ছিল না। নথিপত্রের এই ঘাটতির কারণে কেএমসি এলাকার পেনশনভোগীদের বকেয়া ডিআর দেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠেনি। রোপা ২০০৯ (ROPA 2009) মেয়াদের এই টাকা দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক জটিলতার জালে আটকে ছিল। এবার নতুন করে বিজ্ঞপ্তি জারি করে সেই পুরনো জটিলতা কাটানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের বকেয়া ডিএ-র বর্তমান পরিস্থিতি
কলকাতা পুরসভা এলাকার পেনশনভোগীদের জন্য সুখবর এলেও অন্য একটি বড় অংশের মনে হতাশা তৈরি হয়েছে। রাজ্যের গ্রান্ট-ইন-এইড (Grant-in-Aid) বা অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের বকেয়া নিয়ে এখনও কোনও সরকারি ঘোষণা হয়নি। তাঁরা এখনও তাঁদের হকের মহার্ঘ ভাতার টাকা হাতে পাননি। স্বাভাবিকভাবেই এই বৈষম্যের কারণে অনুদানপ্রাপ্ত স্কুল, কলেজ ও অন্যান্য সংস্থার কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। কবে তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে, সেই দিকেই এখন সবাই তাকিয়ে আছেন।
গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মতোই সমান হারে ডিএ পাওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন। তাঁদের দাবি, মুদ্রাস্ফীতির বাজারে সংসার চালাতে গিয়ে তাঁদেরও একই রকম কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অথচ সরকারি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তাঁদের কেন এভাবে আলাদা করে রাখা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে এই বকেয়া আদায়ের জন্য বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনগুলি ইতিমধ্যেই নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে তারা ঘরে বসে না থেকে নিজেদের দাবি আদায়ে অনড় মনোভাব দেখাচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গে বকেয়া ডিএ এর ভবিষ্যৎ
রাজ্যের সমস্ত স্তরের সরকারি ও আধা-সরকারি কর্মচারীরা চান বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত সমস্ত বৈষম্য দ্রুত দূর হোক। সবাই আশা করছেন যে রাজ্য সরকার গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের ফাইলটিও দ্রুত খতিয়ে দেখে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে। সমকাজে সমমর্যাদা এবং ন্যায্য পাওনা পাওয়ার এই লড়াই আগামীদিনে আরও জোরালো রূপ নিতে পারে। এখন দেখার, সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের এই আশ্বাসের পর কত দ্রুত সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ পায়। সাধারণ চাকুরিজীবী থেকে শুরু করে পেনশনভোগী—সবার চোখ এখন নবান্নের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।