প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারনে অনির্দিষ্টকালের জন্য সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষণা (School Holiday) করলো একাধিক রাজ্যের শিক্ষা দপ্তর। শুধুমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই বাড়ি বসে কাজ করার নির্দেশিকা জারি হয়েছে, একাধিক দপ্তরে। অন্যদিকে ছুটি বাতিল হয়েছে নিরাপত্তারক্ষী, NDRF, Social Security, দমকল ও জরুরী পরিষেবার কর্মীদের।
School Holiday for Heavy Rainfall and Flood
বর্তমানে বর্ষার মরশুমে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে প্রবল দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া তৈরি হয়েছে। লাগাতার বৃষ্টির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া দফতর বা আইএমডি (IMD) ইতিমধ্যেই দেশের বেশ কিছু রাজ্যে আগামী কয়েকদিনের জন্য ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে। এই চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে বেশ কয়েকটি রাজ্যের প্রশাসন আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার কথা চিন্তা করে বিভিন্ন এলাকায় সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কোন কোন রাজ্যে স্কুল ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে?
দেশের উত্তর থেকে দক্ষিণ—একাধিক রাজ্যে এখন বৃষ্টির তাণ্ডব (Heavy Rainfall) চলছে। আবহাওয়া দফতরের লাল ও কমলা সতর্কতার জেরে উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ, কেরালা এবং মহারাষ্ট্রে স্কুল ছুটি ঘোষণা (School Holiday) করা হয়েছে। এই সমস্ত রাজ্যের জেলা প্রশাসন নিজ নিজ এলাকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূলত জলমগ্ন রাস্তাঘাট এবং ধসের আশঙ্কার কারণেই তড়িঘড়ি এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হলো, কোনো অবস্থাতেই যেন শিক্ষার্থীরা বিপদের মুখে না পড়ে।
উত্তরাখণ্ডের পরিস্থিতি বর্তমানে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। পাহাড়ি এই রাজ্যে অনবরত বৃষ্টির ফলে হড়পা বান ও ধসের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। দেরাদুন সহ একাধিক পাহাড়ি জেলায় প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সমস্ত স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে। এই ছুটির নির্দেশ সরকারি এবং বেসরকারি উভয় ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্যই প্রযোজ্য করা হয়েছে। পাহাড়ি রাস্তায় যাতায়াত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় জেলাশাসকরা এই কঠোর নির্দেশ জারি করেছেন।
কলেজ ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধের নির্দেশ
বৃষ্টির প্রকোপ এতটাই বেশি (Heavy Rainfall) যে শুধু প্রাথমিক বা মাধ্যমিক স্কুল নয়, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানও এর আওতায় এসেছে। বেশ কিছু জেলায় সমস্ত কলেজ এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টারগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সাথে ছোট শিশুদের সুরক্ষায় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলোকেও এই ছুটির তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সমস্ত কেন্দ্রে পঠনপাঠন এবং অন্যান্য কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থগিত থাকবে। রাজ্য সরকারগুলোর পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত পরিস্থিতির ওপর কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।
মহারাষ্ট্র এবং কেরালার উপকূলবর্তী এলাকাগুলোতেও আবহাওয়া অত্যন্ত খারাপ রূপ নিয়েছে। নিচু এলাকাগুলো জলমগ্ন (Flood) হয়ে পড়ায় যাতায়াত ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় বৃষ্টির তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ছুটির মেয়াদ আরও বাড়াতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলছে। অভিভাবকদের এই সময়ে অপ্রয়োজনে শিশুদের বাড়ির বাইরে না বের করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এদিকে দুর্যোগের কারনে দুর্যোগ মোকাবেলা কর্মী অর্থাৎ NDRF, Social Security, দমকল ও জরুরী পরিষেবার কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
পড়ুয়াদের নিরাপত্তা ও পরবর্তী পদক্ষেপ
দুর্যোগের সময়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। জলমগ্ন রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করার সময় যেকোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে। তাই স্কুল-কলেজ বন্ধ রেখে অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে পড়াশোনা সচল রাখার চেষ্টা করছে কিছু প্রতিষ্ঠান। তবে প্রত্যন্ত এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগের সমস্যার কারণে তাও পুরোপুরি সম্ভব হচ্ছে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং আবহাওয়া দফতরের সবুজ সংকেত মিললেই আবার নতুন করে স্কুল খোলার বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।