7th Pay Commission: পশ্চিমবঙ্গে চালু হচ্ছে ৭ম বেতন কমিশন। লাখ টাকার উপরে বেসিক হবে। হিসাব প্রকাশ

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে 7th Pay Commission ও বেতন বৃদ্ধি নিয়ে এক বড়সড় পরিবর্তনের হাওয়া বইছে প্রশাসনিক মহলে। কেন্দ্রীয় হারে মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (Dearness Allowance) এবং নতুন বেতন কাঠামো (7th Pay Commission) নিয়ে রাজ্য সরকারি কর্মীদের অসন্তোষ দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের কারণ ছিল। সম্প্রতি রাজ্যের প্রশাসনিক ক্ষমতা বদলের পর এবং নতুন সরকারের আগমনে সরকারি কর্মচারীদের মনে নতুন আশার আলো সঞ্চারিত হয়েছে। কর্মসংস্থান এবং কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা যেকোনো রাজ্যের অর্থনৈতিক প্রগতির মূল ভিত্তি হিসেবে বিশেষভাবে বিবেচিত হয়। তাই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই আর্থিক সংস্কার নিয়ে সাধারণ মানুষ এবং রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে তুমুল কৌতুহল তৈরি হয়েছে।

7th Pay Commission – পশ্চিমবঙ্গে সপ্তম বেতন কমিশন

রাজ্যে ষষ্ঠ পে কমিশনের মেয়াদ গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের ৩১শে ডিসেম্বর সম্পূর্ণ শেষ হয়ে গিয়েছে। সেই নিয়ম মেনে চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকেই রাজ্যে নতুন অর্থাৎ সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। পূর্বতন সরকারের নানা আইনি জটিলতার কারণে এতদিন এই প্রক্রিয়া আটকে থাকলেও বর্তমান নতুন সরকার ক্ষমতায় আসতেই বিষয়টিতে গতি এসেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সমতুল্য বেতন কাঠামো রাজ্যে চালু করার জন্য প্রশাসনিক স্তরে ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় অনুমোদন দেওয়া হয়ে গিয়েছে। সপ্তম পে কমিশনের মূল পরিকাঠামোটি মূলত ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের উপর ভিত্তি করে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তৈরি করা হয়েছে।

ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি

রাজ্যে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচারের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার ছিল সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতার দাবি পূরণ। বিশেষ করে ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে নির্বাচনী ইশতেহারে এবং বিভিন্ন জনসভায় রাজ্যবাসীকে এই নিয়ে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। শীর্ষ নেতৃত্ব ঘোষণা করেছিলেন যে, রাজ্যে নতুন ডবল ইঞ্জিন সরকার ক্ষমতায় এলে মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম বেতন কমিশন চালু করা হবে। নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার পর, সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের লক্ষ্যে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভা অত্যন্ত তৎপরতার সাথে পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। ডবল ইঞ্জিন সরকার গঠনের সাথে সাথেই কর্মচারীদের দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার প্রক্রিয়াটিকে এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

ভোটের পর সরকারের প্রতিক্রিয়া

নির্বাচনে জয়লাভের পরপরই নতুন সরকার সরকারি কর্মচারীদের ক্ষোভ প্রশমন এবং দাবি পূরণে সরাসরি ময়দানে নেমে পড়েছে। এই প্রসঙ্গে রাজ্যের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সরকারি কর্মচারী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সাথে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ বৈঠক সম্পন্ন করেছেন। এই বৈঠকে কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) এবং অন্যান্য আর্থিক পাওনা নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে, রাজ্য কোষাগারের অবস্থার দিকে নজর রেখে সমস্ত বকেয়া পাওনা ধীরে ধীরে ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে মিটিয়ে দেওয়া হবে। সরকারি কর্মীদের দাবি অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন যে, আগামী রাজ্য বাজেট ঘোষণার দিন বকেয়া ডিএ নিয়ে একটি অত্যন্ত বড় ঘোষণা হতে চলেছে।

কত শতাংশ ডিএ ঘোষণা হবে? দেখুন

কত টাকা বেতন বাড়তে পারে

বিভিন্ন পোর্টাল ও মিডিয়ার প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে যে, সপ্তম পে কমিশন রাজ্যে পুরোপুরি লাগু হলে কর্মচারীদের মূল বেতন বা বেসিক পে অবিশ্বাস্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ২ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ষষ্ঠ পে কমিশনের অধীনে যদি কোনো কর্মচারীর মূল বেতন ২৫,০০০ টাকা হয়ে থাকে, তবে ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর অনুযায়ী তা বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৬৪,২৫০ টাকা। তাহলে যাদের বেসিক ৬০০০০ টাকা তাদের বেসিক প্রায় ১৫০০০০ টাকা হতে পারে। তবে পে কমিশনের হিসাব টা অতটা সহজ না, যে ২.৫৭ দিয়ে গুন করলেই হয়ে যাবে। তাই সরকারি বিজ্ঞপ্তি পর্যন্ত অবশ্যই অপেক্ষা করতে হবে।

তবে আপাতত যা জানা যাচ্ছে, এই নতুন বেতন কাঠামোতে মোট ১৮টি স্তর বা লেভেল থাকতে পারে। যেখানে প্রথম থেকে পঞ্চম স্তরের কর্মীরা (গ্রুপ-ডি এবং সাধারণ কর্মী) ১৮,০০০ টাকা থেকে ৯২,৩০০ টাকা পর্যন্ত মূল বেতন পাবেন। ষষ্ঠ থেকে নবম স্তরের কর্মচারীদের বেসিক পে হতে পারে ৩৫,৪০০ টাকা থেকে শুরু করে ১,৬৭,৮০০ টাকা পর্যন্ত।

সোশ্যাল মিডিয়ার খবর ও বাস্তবতা

আজকের ডিজিটাল যুগে যেকোনো বড় খবর বা সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানারকম জল্পনা এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াতে দেখা যায়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি এবং সপ্তম পে কমিশন নিয়েও বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরনের চটকদার ও কাল্পনিক খবর ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবে কর্মচারীদের উচিত এই সমস্ত অননুমোদিত এবং ভিত্তিহীন গুজবে কান না দিয়ে সরকারি বিজ্ঞপ্তি বা নির্ভরযোগ্য সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্টের উপর ভরসা রাখা। বাস্তবতা এটাই যে, সরকার ইতিমধ্যেই এই বেতন কমিশন কার্যকর করার নীতিগত অনুমোদন দিয়ে দিয়েছে এবং ফাইলটি বর্তমানে অর্থ দপ্তরের চূড়ান্ত বিবেচনাধীন রয়েছে। বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি সম্পূর্ণ বাস্তব এবং আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সম্পন্ন হচ্ছে, এর মধ্যে কোনো রকম অলীক কল্পনা বা ভুয়ো প্রতিশ্রুতির স্থান নেই।

উপসংহার

পরিশেষে বলা যায়, পশ্চিমবঙ্গে সপ্তম বেতন কমিশন চালু করার এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত রাজ্য প্রশাসনের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে চলেছে। এর ফলে লক্ষ লক্ষ রাজ্য সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া পাওনা ও উপযুক্ত বেতনের দাবি পূরণ হতে চলেছে। যদিও এই বিশাল আর্থিক পরিবর্তনের কারণে রাজ্য বাজেটের ওপর একটি বড়সড় আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে, তবুও কর্মচারীদের মুখে হাসি ফোটাতে সরকার বদ্ধপরিকর। বকেয়া অনেক, চাহিদা ও অনেক, তবে এক দিনেই সব পূরণ হবে না, সেটা কেউ স্বীকার করুক আর না করুন, এটাই বাস্তব।

শেয়ার করুন: Sharing is Caring!