সারা দেশে সৌর বিদ্যুৎ চালুর লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী সৌর ঘর যোজনা তথা PM Surya Ghar: Muft Bijli Yojana চালু করে Free Electricity বা বিনামূল্যে বিদ্যুৎ পরিষেবা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র সরকার। এবার সেই প্রকল্পের আরও এক ধাপ এগিয়ে, গরীব পরিবার অর্থাৎ BPL Ration Card ও EWS Card (Economically Weaker Section) কার্ড যাদের আছে, তারা প্রায় ২৫ বছর বিনামূল্যে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারবেন। এই প্রকল্পের সুবিধা, কারা আবেদন করতে পারবেন ও কিভাবে এই প্রকল্পে আবেদন করবেন, বিস্তারিত জেনে নিন।
Free electricity on PM Surya Ghar SMART Solar Scheme
সরকার দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা (BPL) এবং অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলোর (EWS) জীবনযাত্রা উন্নত করতে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ শুরু করেছে। এই স্কিমের মাধ্যমে যোগ্য গৃহস্থালীরা পরবর্তী পঁচিশ বছর ধরে কোনো খরচ ছাড়াই বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারবেন। প্রকল্পটি সৌরশক্তি-ভিত্তিক, যা পরিবারগুলোকে স্বাধীনভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ দেবে। কেন্দ্র এবং রাজ্যের যৌথ অর্থায়নে চালিত এই প্রধানমন্ত্রী সৌর ঘর যোজনা তথা PM Surya Ghar পরিকল্পনায় বিপুল পরিমাণ তহবিল বিনিয়োগ করা হয়েছে। এর ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষের দৈনন্দিন খরচ কমবে এবং তাদের অর্থনৈতিক স্থিতি মজবুত হবে। সেই সাথে পরিবেশ দুশন তথা কার্বন নির্গমনের হার কমবে।
PM Surya Ghar Free Electricity প্রকল্পের উদ্দেশ্য এবং সুবিধা
এই প্রধানমন্ত্রী সৌর ঘর যোজনা প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর উপর থেকে বিদ্যুৎ বিলের বোঝা সরিয়ে নেওয়া। পরিষ্কার এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহারকে প্রচার করে এটি পরিবেশ সুরক্ষায়ও ভূমিকা রাখবে। প্রত্যেক যোগ্য ঘরে এক কিলোওয়াটের সোলার প্যানেল লাগানো হবে, যা তাদের নিজস্ব বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবে। এই উদ্যোগে মোট ছয়শো পঞ্চাশ কোটি টাকারও বেশি বাজেট বরাদ্দ হয়েছে, যা পাঁচ লক্ষের কাছাকাছি পরিবারকে কভার করবে। ফলে, মধ্যবিত্ত এবং দরিদ্র শ্রেণির মানুষেরা আর্থিক স্বস্তি পাবেন এবং তাদের জীবনমান উন্নত হবে। যারা এই সুবিধা নিতে চান, তারা স্থানীয় সরকারি অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন। অথবা সরকারি অফিসিয়াল সাইটে ভিজিট করতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রী সৌর ঘর যোজনার যোগ্যতা
সরকারি ভর্তুকি সহ সৌর প্যানেল প্রকল্পে যোগ্য হওয়ার জন্য কিছু নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণ করতে হবে। যেমন, দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা পরিবারগুলো প্রায় দেড় লক্ষের মতো এই সুবিধা পাবেন। অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণির লোকেরা তিন লক্ষ চল্লিশ হাজারেরও বেশি সংখ্যায় অন্তর্ভুক্ত হবেন। মাসিক বিদ্যুৎ খরচ যাদের একশো ইউনিটের নিচে, তারাই এই স্কিমের আওতায় আসবেন। তপশিলি জাতি এবং উপজাতি সম্প্রদায়ের সদস্যরা অতিরিক্ত সহায়তা পাবেন, যা তাদের জন্য বিশেষ সুবিধাজনক। এইভাবে প্রকল্পটি সমাজের সবচেয়ে দুর্বল অংশকে প্রাধান্য দেয়।
আরও পড়ুন, SIR নিয়ে কড়া স্টেপ নিলো। SIR এর পুরো নিয়ম পাল্টে দিলো কমিশন। আর ভয় নেই, নো টেনশন।
সোলার প্যানেল ইনস্টলেশন এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা
প্রধানমন্ত্রী সৌর ঘর যোজনার মাধ্যমে প্রত্যেক যোগ্য বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল (Rooftop Solar Panel) স্থাপিত করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা করা হবে। এই প্যানেলগুলো এক কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন, যা পরিবারের দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ করতে যথেষ্ট। ফলে, বিদ্যুৎ বিলের চিন্তা থেকে মুক্তি মিলবে এবং জীবন সহজ হয়ে উঠবে। যদি উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহারের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে অতিরিক্ত অংশ গ্রিডে বিক্রি করে আয় করা যাবে। এই সুবিধা পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করে তুলবে এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দেবে। সরকারি সৌর প্রকল্প এভাবে শুধু খরচ কমায় না, বরং আয়ের নতুন পথ খুলে দেয়।
ভর্তুকি এবং আর্থিক সহায়তা
সরকারি সৌর প্যানেল ভর্তুকিতে কেন্দ্রীয় সরকার তিরিশ হাজার টাকা পর্যন্ত অনুদান দেবে। রাজ্য সরকার সতেরো হাজার পাঁচশো টাকা অতিরিক্ত সাহায্য প্রদান করবে। তপশিলি জাতি এবং উপজাতি পরিবারের জন্য পনেরো হাজার টাকার বিশেষ ভর্তুকি থাকবে। এই সব মিলিয়ে প্রকল্পের খরচের বেশিরভাগ অংশ সরকার বহন করবে। ফলে, অল্প টাকা খরচ করলেই, আগামী ২৫ বছরের জন্য বাড়ির ছাদে সৌর প্যানেল লাগিয়ে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।
আরও পড়ুন, মাসিক ইনকাম ২৫০০০ টাকা হলেই ফ্ল্যাট বা বাড়ি কেনার টাকা পাবেন। দুর্দান্ত স্কিম বাজারে এলো।
অতিরিক্ত বিদ্যুৎ থেকে আয়ের সুযোগ
প্রধানমন্ত্রী সৌর ঘর যোজনা বা বিনামূল্যে বিদ্যুৎ স্কিমে অতিরিক্ত উৎপাদিত শক্তি বিক্রি করে পরিবারগুলো অর্থ উপার্জন করতে পারবে। এটি শুধু খরচ সাশ্রয় করে না, বরং নতুন আয়ের উৎস তৈরি করে। গরিব এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য এটি একটি বড় আশীর্বাদ। সৌরশক্তির মাধ্যমে স্বনির্ভরতা অর্জন করে তারা অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হবে। প্রকল্পটি এভাবে দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা প্রদান করে। মানুষেরা এতে করে বিদ্যুৎ খরচ থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি পাবেন।
আরও পড়ুন, হটাত টাকার দরকার হলেই টাকা দিচ্ছে এইসমস্ত ব্যাংক। বিভিন্ন ব্যাংকের রেট দেখে নিন
বাস্তবায়ন এবং পরিবেশগত প্রভাব
রাজ্য বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা এই প্রকল্পের বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে। এটি ধাপে ধাপে বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়বে এবং লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করবে। পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে জীবাশ্ম জ্বালানির নির্ভরতা কমবে। দূষণ হ্রাস পাবে এবং রাজ্য একটি সবুজ শক্তির কেন্দ্রে পরিণত হবে। এই উদ্যোগ দরিদ্র পরিবারের সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি টেকসই উন্নয়নকে প্রচার করে। জনগণের প্রতিক্রিয়া ইতিবাচক, কারণ এটি তাদের জীবনে নতুন আলো এনে দেবে। এবার কেন্দ্র সরকার তো প্রকল্প চালু করেই রেখেছে, কিন্তু রাজ্য সরকার এটিকে কতটা প্রচার করবে বা সাধারণ মানুষের মধ্যে চালু করবে, এবার সেটাই দেখার বিষয়।