পশ্চিমবঙ্গের প্রাইমারি ও আপার প্রাইমারি শিক্ষকদের TET পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বা শিক্ষকদের টেট পাশ বাধ্যতামূলক (Compulsory TET) হয়ে উঠেছে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক আদেশ অনুসারে। এই নির্দেশটি মূলত মহারাষ্ট্রের একটি মামলার প্রেক্ষিতে দেওয়া হয়েছে, যা সমগ্র দেশের প্রাইমারি শিক্ষকদের জন্য প্রযোজ্য। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং মনমোহনের বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেছে, যাতে শিক্ষার মান উন্নয়নের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ প্রাইমারি শিক্ষা পর্ষদ এই আদেশ মেনে জেলা পর্যায়ের শিক্ষা সংস্থাগুলিকে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা পাঠিয়েছে। এর ফলে রাজ্যের হাজার হাজার শিক্ষককে নতুন করে TET প্রস্তুতির দিকে মনোনিবেশ করতে হবে। এই পরিবর্তন শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি বড় ধরনের সংস্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
Compulsory TET for All Primary and Upper Primary Teacher
প্রাইমারি TET পাস না করলে শিক্ষকদের চাকরির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে। যেসব শিক্ষকের চাকরির মেয়াদ পাঁচ বছরের কম বাকি রয়েছে, তাঁদের জন্য TET উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে এই শিক্ষকরা যদি পদোন্নতি বা উচ্চতর পদ চান, তাহলে তাঁদের অবশ্যই TET পরীক্ষায় সফল হতে হবে।
শিক্ষকদের যোগ্যতা এবং ব্যতিক্রমের নিয়ম
যে সমস্ত শিক্ষকদের পাঁচ বছরের বেশি চাকরি রয়েছে, অথচ টেট পরীক্ষা না দিয়েই চাকরি পেয়েছেন তাঁদের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণরূপে টেট পাশ বাধ্যতামূলক (Compulsory TET). যদি কোনো শিক্ষক TET-এ অংশ নিতে অস্বীকার করেন বা ব্যর্থ হন, তাহলে তাঁদের চাকরি ছাড়তে হতে পারে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে অবসরের সময় সমস্ত সুবিধা এবং অধিকার তাঁরা পাবেন বলে নির্দেশে উল্লেখ রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষা পর্ষদের পদক্ষেপ এবং তথ্য সংগ্রহ
পশ্চিমবঙ্গ প্রাইমারি শিক্ষা পর্ষদ (WBBPE) সুপ্রিম কোর্টের আদেশ বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। জেলা প্রাইমারি শিক্ষা সংসদগুলিকে চিঠি পাঠিয়ে শিক্ষকদের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। এই চিঠিতে ১৫ দিনের মধ্যে (১০ অক্টোবর) প্রত্যেক শিক্ষকের জন্ম তারিখ, যোগদানের তারিখ এবং কর্মী পরিচয়পত্রের বিবরণ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিক্ষকদের অবসরের তারিখ এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কিত তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো TET যোগ্যতা যাচাই করে শিক্ষকদের শ্রেণীবিভাগ করা। রাজ্য সরকার এই নির্দেশকে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করছে। অর্থাৎ শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মতো আগাম তালিকা প্রস্তুত করে রাখছে, যাতে পুজোর পরই কোনও নির্দেশ এলে পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করতে পারে।
শিক্ষকদের কি করণীয়?
ইতিমধ্যেই এই খবর প্রকাশ হতেই অনেক শিক্ষক টেনশনে পড়ে গেছেন। অনেকেই টেট এর প্রস্তুতি শুরু করেছেন। তবে সরকারি নির্দেশ না আশা পর্যন্ত শিক্ষকদের চিন্তা না করাই ভালো। আদালতে রিভিউ পিটিশন মামলা চলছে। এদিন রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রীও জানিয়েছেন, WBBPE পর্ষদ সমস্ত কিছুতেই নজর রাখছেন।
আরও পড়ুন, দুর্গা পুজোয় LIC এর বাম্পার পলিসি। মাত্র ৫ বছর প্রিমিয়াম দিয়ে সারা জীবন প্রতিমাসে টাকা পাবেন।
রাজ্যের প্রাইমারি শিক্ষকদের সংখ্যা এবং চ্যালেঞ্জ
পশ্চিমবঙ্গে প্রায় এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার প্রাইমারি শিক্ষক রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে অনেকেই TET ছাড়াই চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। বিশেষ করে ২০১২ সালের আগে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রায় পঞ্চাশ হাজার শিক্ষক TET পরীক্ষা না দিয়েই কর্মরত। ২০০৯ সাল থেকে শিক্ষার অধিকার আইন চালু হলেও, TET ব্যবস্থা ২০১২ থেকে কার্যকর হয়েছে। এই পুরনো নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য নতুন নির্দেশ একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অনুসারে এঁদের TET পাস না করলে চাকরির স্থিতি প্রভাবিত হতে পারে। রাজ্যের শিক্ষা বিভাগ এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশিক্ষণ এবং সহায়তা প্রদানের পরিকল্পনা করছে।
TET পাসের সময়সীমা এবং সম্ভাব্য পরিণতি
সুপ্রিম কোর্ট TET পাসের জন্য দু’বছরের সময়সীমা নির্ধারণ করেছে, যা সমস্ত প্রাইমারি শিক্ষকদের জন্য প্রযোজ্য। এই সময়ের মধ্যে উত্তীর্ণ না হলে শিক্ষকদের চাকরি ছাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অবসরের সুবিধাগুলি অক্ষুণ্ণ থাকবে বলে আদেশে স্পষ্ট করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে এই নির্দেশ বাস্তবায়নে শিক্ষা পর্ষদের চিঠি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। শিক্ষক সংগঠনগুলি এই আদেশের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করছে এবং সহায়তা চাইছে। সামগ্রিকভাবে, এই পরিবর্তন প্রাইমারি শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে সাহায্য করবে।
আরও পড়ুন, ব্যাংক একাউন্ট নিয়ে নতুন নিয়ম চালু হলো। আধার কার্ড, মোবাইল সব ব্লক হবে।
ভবিষ্যতের প্রভাব এবং শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন
প্রাইমারি শিক্ষকদের টেট পাশ বাধ্যতামূলক (Compulsory TET) হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি নতুন যুগের সূচনা হচ্ছে। শিক্ষকদের যোগ্যতা যাচাইয়ের এই প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীদের উন্নত শিক্ষা প্রদানে সহায়ক হবে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ দেশজুড়ে শিক্ষা নীতির সামঞ্জস্যতা নিশ্চিত করছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এখন শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করার কথা ভাবছে। এই আদেশের ফলে পুরনো এবং নতুন শিক্ষকদের মধ্যে যোগ্যতার ভারসাম্য আসবে। সামগ্রিকভাবে, TET ব্যবস্থা শিক্ষা ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং দক্ষতা বাড়াবে।