পশ্চিমবঙ্গেও সরকারের উদ্যোগে (Government of West Bengal) লাখ লাখ বেকার যুবক যুবতী যুবসাথী প্রকল্পে (Yuva Sathi status check) আবেদন করেছেন। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো রাজ্যের শিক্ষিত বেকারদের প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা। সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সবার মনে একটাই প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে, তা হলো অ্যাকাউন্টে টাকা কবে আসবে। সরকারি সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, খুব শীঘ্রই যোগ্য আবেদনকারীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই সহায়তার অর্থ পৌঁছে যাবে। বেকারত্বের অভিশাপ মুছে ফেলে যুবসমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এই বিশেষ উদ্যোগের আসল উদ্দেশ্য।
Yuva Sathi status check – যুব সাথী স্ট্যাটাস চেক
রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন ব্লকে ও পৌরসভা এলাকায় গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে যুব সাথী প্রকল্পের ফর্ম বিলি এবং জমা নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছিল। প্রতিটি সরকারি ক্যাম্পে এবং প্রশাসনিক দফতরে আবেদনকারীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে, যা প্রকল্পের জনপ্রিয়তাকে প্রমাণ করে। বর্তমানে জমা পড়া কয়েক লক্ষ আবেদনপত্র যাচাই বা ভেরিফিকেশনের কাজ প্রশাসনিক স্তরে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। আবেদনকারীদের দেওয়া তথ্য এবং নথিপত্র সঠিকভাবে খতিয়ে দেখার পরেই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপরই Yuva Sathi status check বা যুব সাথী স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন। ডিজিটাল ডেটাবেসে তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন হলেই পেমেন্ট রিলিজের সবুজ সংকেত মিলবে। মনে রাখবেন, নথিতে কোনো ভুল থাকলে আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনাও থেকে যায়।
যুব সাথী স্ট্যাটাস চেক করুন
- প্রথমে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন।
- অথবা এই লিঙ্কে ক্লিক করুন।
- এরপর বাম দিকের তিনটি অপশন খুঁজুন
- সেখান থেকে স্ট্যাটাস চেক অপশনে ক্লিক করুন
- আবেদনের নম্বর ও মোবাইল নম্বর দিন
- নির্ভুল ভাবে OTP লিখুন
- এবার স্ট্যাটাস দেখতে পারবেন।
- বর্তমানে অনেক ফর্ম ভেরিফিকেশন হয়নি, তাই সবার স্ট্যাটাস দেখা যাচ্ছে না।
- স্ট্যাটাস না দেখা গেলে, অপেক্ষা করুন, কয়েকদিনের মধ্যেই দেখতে পাবেন।
যুব সাথী প্রকল্পের টাকা কবে ঢুকবে?
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই প্রকল্পের টাকা দেওয়ার বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট ইঙ্গিত ইতিপূর্বে দিয়েছেন। নবান্ন থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, আগামী ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে যোগ্য সুবিধাভোগীদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে প্রশাসনিক কিছু জটিলতা এবং নির্বাচনের আবহের কারণে এই সময়সীমা সামান্য পরিবর্তিত হলেও হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যারা সফলভাবে আবেদন সম্পন্ন করেছেন, তাদের অ্যাকাউন্ট যাচাইকরণের কাজ শেষ হলেই সরাসরি ডিবিটি (DBT) এর মাধ্যমে টাকা পাঠানো হবে। সরকার চাইছে যত দ্রুত সম্ভব এই আর্থিক সুবিধা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে। তাই আবেদনকারীদের ধৈর্য ধরে সরকারি বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কারা পাবেন মাসিক ১৫০০ টাকার আর্থিক সহায়তা?
যুব সাথী প্রকল্পের (Yuba Sathi) অধীনে নির্বাচিত প্রত্যেক সুবিধাভোগীকে প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে। এই সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং বয়স হতে হবে ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। যারা বর্তমানে কোনো স্থায়ী কর্মসংস্থানের সাথে যুক্ত নন, মূলত তারাই এই প্রকল্পের প্রাথমিক দাবিদার হিসেবে গণ্য হবেন। এমনকি যারা কৃষক বন্ধু বা অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা পান, তারাও শর্তসাপেক্ষে এই আবেদন করতে পেরেছেন। এই টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করা হবে যাতে কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর হস্তক্ষেপ না থাকে। মূলত পড়াশোনা বা চাকরির প্রস্তুতির খরচ মেটাতেই এই অর্থ সাহায্য করা হচ্ছে।
নির্বাচনের প্রভাব ও আদর্শ আচরণবিধির আশঙ্কা
সামনেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে গেলে রাজ্যজুড়ে আদর্শ আচরণবিধি (Model Code of Conduct) কার্যকর হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে কোনো নগদ সুবিধা বা আর্থিক প্রকল্প চালু করা নিয়ে আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি হতে পারে। যদি ভোটের বিজ্ঞপ্তির আগেই প্রথম কিস্তির টাকা প্রদান সম্ভব না হয়, তবে পেমেন্ট প্রক্রিয়া নির্বাচন পরবর্তী সময় পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে। তবে প্রশাসনের একাংশ মনে করছে, নির্ধারিত সময়ের আগেই টাকা পৌঁছে দেওয়ার সবরকম চেষ্টা চালানো হবে। সাধারণ মানুষের মনেও এই নির্বাচন সংক্রান্ত প্রভাব নিয়ে যথেষ্ট কৌতূহল ও সংশয় কাজ করছে।
যুব সাথী প্রকল্পের আবেদনকারীদের জন্য কিছু জরুরি পরামর্শ ও সতর্কতা
যুব সাথী প্রকল্পের টাকা পেতে হলে আবেদনকারীদের কিছু কারিগরি বিষয় মাথায় রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করা হয়। আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সাথে আধার কার্ড লিঙ্ক করা আছে কিনা তা আগেভাগেই নিশ্চিত করে নিন। কারণ সরকারি অনুদান বর্তমানে আধার বেসড পেমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমেই সরাসরি অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়ে থাকে। এছাড়া নিজের দেওয়া মোবাইল নম্বরটি সচল রাখুন যাতে যেকোনো আপডেট এসএমএস এর মাধ্যমে দ্রুত জানতে পারেন। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভুয়া লিঙ্ক বা উড়ো খবরে কান না দিয়ে অফিসিয়াল পোর্টাল চেক করাই বুদ্ধিমানের কাজ। সঠিক পদ্ধতিতে এগোলে আপনার প্রাপ্য টাকা পেতে কোনো প্রকার সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে না।
বেকারত্ব নিরসনে যুব সাথী প্রকল্পের ভবিষ্যৎ গুরুত্ব
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে যুব সাথী প্রকল্পটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। যদিও মাসে ১৫০০ টাকা খুব বড় অংক নয়, তবুও এটি একজন ছাত্র বা চাকরিপ্রার্থীর যাতায়াত বা পরীক্ষার ফি মেটাতে সহায়ক হবে। সরকার এই প্রকল্পের মাধ্যমে কেবল আর্থিক সাহায্য নয়, বরং যুবশক্তির পাশে দাঁড়ানোর একটি বার্তা পৌঁছে দিতে চাইছে। দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থান তৈরি এবং দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি এই ধরনের তাৎক্ষণিক সহায়তা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। আশা করা যাচ্ছে, এই প্রকল্প আগামী দিনে রাজ্যের আরও বহু বেকার যুবক-যুবতীর স্বপ্নপূরণে সহায়ক হবে। শেষ পর্যন্ত সঠিক সময়ে টাকা পৌঁছালে তবেই এই মহৎ উদ্যোগের সাফল্য পূর্ণতা লাভ করবে।