সবুজ সাথী প্রকল্পে ১৩ লাখ পড়ুয়াদের সাইকেল দেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কবে থেকে পাবেন? Government of West Bengal Sabooj Sathi Scheme

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের (Government of West Bengal) অন্যতম জনপ্রিয় এবং সাফল্যমণ্ডিত জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ হলো সবুজ সাথী প্রকল্প (Sabooj Sathi Scheme). ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলমুখী করতে এবং যাতায়াতের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) মস্তিষ্কপ্রসূত এই প্রকল্পটি গত কয়েক বছর ধরে রাজ্যে বিপ্লব ঘটিয়েছে। সাম্প্রতিক খবর অনুযায়ী, রাজ্য সরকার পুনরায় রেকর্ড সংখ্যক পড়ুয়ার হাতে বিনামূল্যে সাইকেল তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যের কয়েক হাজার স্কুলের কয়েক লক্ষ শিক্ষার্থী খুব শীঘ্রই এই সরকারি সুবিধার আওতায় আসতে চলেছে। শিক্ষা দপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্য়েই এই বিতরণ প্রক্রিয়া সুচারুভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

Sabooj Sathi Scheme – পশ্চিমবঙ্গ সবুজ সাথী প্রকল্প

২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে পথ চলা শুরু করেছিল এই সবুজ সাথী সাইকেল প্রদান কর্মসূচি। গ্রামীণ ও শহরতলীর ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করা এবং স্কুলছুটের সংখ্যা কমানোই ছিল এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে এই প্রকল্পটি শুধুমাত্র একটি সাইকেল বিতরণের মাধ্যম নয়, বরং এটি ছাত্রছাত্রীদের আত্মনির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ছাত্রীদের স্কুল যাতায়াতে নিরাপত্তা এবং গতি নিশ্চিত করতে এই প্রকল্পের ভূমিকা অনস্বীকার্য। প্রতি বছরের মতো এই শিক্ষাবর্ষেও রাজ্য সরকার অত্যন্ত তৎপরতার সাথে সাইকেল বিলির কাজ শুরু করতে চলেছে। আসন্ন দিনগুলোতে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি কোণায় এই প্রকল্পের সুফল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সাড়ে ১২ লক্ষ পড়ুয়ারা সবুজ সাথী প্রকল্পে সাইকেল পাবে

চলতি বছরে রাজ্য সরকার (Government of West Bengal) প্রায় ১২ লক্ষ ৪৭ হাজার ছাত্র-ছাত্রীকে বিনামূল্যে সাইকেল দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। গত বছর এই সংখ্যাটি ছিল ১২ লক্ষ ৩৪ হাজার, যা এ বছর বেশ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তাদের মতে, ফেব্রুয়ারি মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকেই ধাপে ধাপে সাইকেল বিতরণের কাজ শুরু হয়ে যাওয়ার কথা। রাজ্যের প্রায় ৯ হাজার সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল এই বিশাল কর্মসূচির আওতায় সরাসরি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নবম শ্রেণিতে পাঠরত ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের নিজ নিজ বিদ্যালয় থেকেই এই সাইকেল সংগ্রহ করতে পারবে। নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে প্রতিটি জেলায় বিতরণ ক্যাম্প আয়োজনের প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে।

নির্বাচন ও সরকারি প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন

সামনেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং তার আগেই জনমুখী কাজগুলো সেরে ফেলতে চাইছে রাজ্য সরকার। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, নির্বাচনী নির্ঘণ্ট বা বিধি জারি হওয়ার আগেই সমস্ত যোগ্য পড়ুয়ার হাতে সাইকেল পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর নবান্ন। সাধারণত মার্চের প্রথম দিকেই নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হতে পারে, তাই হাতে সময় অত্যন্ত কম। এই সীমাবদ্ধ সময়ের মধ্যেই যাতে প্রতিটি ব্লক স্তরে সাইকেল পৌঁছে যায়, তার জন্য কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। প্রশাসনিক তৎপরতা দেখে বোঝা যাচ্ছে যে, সরকার এই প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত পরিষেবা পৌঁছে দিতে চায়। দ্রুত বাস্তবায়নের ফলে পড়ুয়ারাও তাদের প্রয়োজনীয় বাহনটি নির্দিষ্ট সময়ে হাতে পেয়ে যাবে।

সমস্ত পড়ুয়াদের টাকা দিচ্ছে সরকার। এইভাবে আবেদন করুন।

গ্রামের ছাত্র-ছাত্রীদের সাইকেলের প্রয়োজনীয়তা

একটি সাইকেল একজন পড়ুয়ার দৈনন্দিন জীবনে কতটা পরিবর্তন আনতে পারে, তা সবুজ সাথী প্রকল্প প্রমাণ করেছে। গ্রামের বহু শিক্ষার্থী যারা বাড়ি থেকে অনেক দূরে স্কুলে যেত, তাদের জন্য যাতায়াতের খরচ এবং সময় দুটোই এখন সাশ্রয় হচ্ছে। এতে পড়াশোনায় বেশি মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীরা এবং তাদের উপস্থিতির হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রামের মেঠো পথ থেকে শহরের রাস্তা— সর্বত্র নীল-সাদা সাইকেল নিয়ে পড়ুয়াদের যাতায়াত বাংলার এক পরিচিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় যে আমূল পরিবর্তন এসেছে, তা দেশজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্ষমতায়নে এই উদ্যোগটি সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে বলে বিশেষজ্ঞ মহল মনে করেন।

উপসংহার ও পরবর্তী পদক্ষেপ

সবুজ সাথী প্রকল্পের (Sabooj Sathi Prakalpa) এই নতুন ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হলে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ পরিবার সরাসরি উপকৃত হবে। সাইকেল পাওয়ার ফলে ছাত্র-ছাত্রীদের মনে যে আত্মবিশ্বাস জন্মায়, তা তাদের উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। রাজ্য সরকার আগামী দিনেও এই প্রকল্পের ধারা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যাতে কোনো পড়ুয়াই যাতায়াতের অভাবে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়। অভিভাবকদের মধ্যেও এই প্রকল্প নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, কারণ এটি তাদের আর্থিক চাপ অনেকটাই কমিয়ে দেয়। সরকারের এই জনমুখী কাজগুলো সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসন এখন দিনরাত কাজ করে চলেছে। সব মিলিয়ে, বাংলার শিক্ষা মানচিত্রে সবুজ সাথী এক মাইলফলক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

শেয়ার করুন: Sharing is Caring!