ভারতবর্ষের সাধারণ মানুষের জন্য রেশন কার্ড (Ration Card) শুধুমাত্র একটি প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টই নয় এটি সাধারণ মানুষের কাছে অন্নদাতার সমান। সারা দেশের কোটি কোটি জনতার জন্য যে রেশন কার্ড ইস্যু করা হয় তার বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে। তবে, এই কার্ড নিয়ে জালিয়াতিও কম হয় না। আগামী দিনে যে সকল Ration কার্ড দেওয়া হবে, সেই সমস্ত কার্ডে যুক্ত হবে নতুন ফিচার্স। তাই আগের থেকেই সতর্ক হচ্ছে খাদ্য দপ্তর। আর পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত জনসাধারণের রেশন-কার্ড নিয়ে খাদ্য দফতর নিল গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। পুরোনো কার্ডে বিনামূল্যে রেশন পেতে আবার ভেরিফিকেশন এবং নতুন কার্ড দেওয়ার আগে বিশেষ যাচাই প্রক্রিয়া করা হবে।
West Bengal Ration Card Benefits status details
ভারতের সাধারণ মানুষ রেশন কার্ডের দ্বারা কতটা উপকৃত হন, তা আলাদা করে বলার নয়। এই কার্ড থাকলে বিনামূল্যে রেশনের সুবিধা মিলবে। কম দামে পাবেন নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী। বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই কার্ড গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট হিসেবেও কাজ করে। তাই প্রত্যেক নাগরিকের জন্যই সময় থাকতে Ration কার্ড তৈরি করে নেওয়া শ্রেয়।
রেশন কার্ড নিয়ে খাদ্য দপ্তরের নতুন সিদ্ধান্ত
ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা বা স্পেশ্যাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে ভোটার কার্ড, রেশন ও আধার কার্ডের কার্যকারিতা নিয়ে। এই তিনটেই জনতার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট হিসেবে বিবেচিত। ইতিমধ্যে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি অভিযোগ তুলছে, এই বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে কেন্দ্রীয় সরকার (Central Government).
তবে সাধারণ মানুষের আবেদনের ভিত্তিতে তো কার্ড ইস্যু করতেই হবে। এই পরিস্থিতিতে এবার নতুন রেশন কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্যের খাদ্য দপ্তর আরও কঠোর অবস্থান নিতে চলেছে বলেই জানা যাচ্ছে। রাজ্যের খাদ্য দপ্তরের জারি করা নতুন পিডিএস কন্ট্রোলের নির্দেশে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, যদি ভবিষ্যতে কোন পরিবার কার্ডের জন্য আবেদন করেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিদের উক্ত আবেদনকারীর বাড়িতে গিয়ে সরাসরি যাচাই করতে হবে। অর্থাৎ নতুন কার্ডের ক্ষেত্রে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক হলো।
আরও পড়ুন, Jio গ্রাহকদের সারপ্রাইজ। MyJio App থাকলে টাকা দিচ্ছে একাউন্টে। কিভাবে পাবেন দেখুন।
কোন কোন তথ্যগুলি যাচাই করা হবে?
নতুন কার্ড দেওয়ার আগে খাদ্য দপ্তরের আধিকারিক নিম্নোক্ত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখবে-
- আবেদনকারীর পরিবার সত্যিই যোগ্য কিনা?
- আবেদনকারীর আর্থিক অবস্থা দেখা হবে
- আবেদনকারীর পরিবারের সদস্য সংখ্যা দেখা হবে
- আবেদনকারীর বর্তমান ঠিকানা-সহ অন্যান্য সমস্ত তথ্য সরেজমিনে যাচাই করা হবে।
- আবেদনকারীর পরিবারের অন্যদের রেশন কার্ড আছে কিনা
সমস্তটা যাচাই করার পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে, আবেদনকারী রেশন কার্ড পাওয়ার জন্য যোগ্য কি না। এই সকল তথ্য যাচাই করার পরে যদি উক্ত আবেদনকারী যোগ্য বিবেচিত হন, তবেই তাঁর নতুন কার্ড ইস্যু করা হবে।
পুরনো রেশন গ্রাহকদের কি কিরতে হবে?
যাদের ইতিমধ্যেই কার্ড রয়েছে। তাদেরকে অবশ্যই এই মাসের মধ্যেই কার্ডের e-KYC করে নিতে হবে। যারা রেশন কার্ড ই কেওয়াইসি করবেন না, তাদের কার্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবেই নিষ্ক্রিয় বা ইনএক্টিভ হয়ে যাবে। তাই যদি আপনিও আপনার কার্ডের ই-কেওয়াইসি এখনও না করে থাকেন তবে আর বিলম্ব না করে তাড়াতাড়ি করিয়ে নিন। না হলে কিন্তু আপনার ফ্রি রেশন বন্ধ হয়ে যাবে। এবার পুরনো কার্ডে e-KYC করতে হলে এখানে ক্লিক করুন।
আরও পড়ুন, ব্যবসা করতে টাকা দিচ্ছে সরকার। ব্যবসা আপনার টাকা দেবে সরকার।
উপসংহার
খাদ্য দপ্তর মনে করছে এই পদক্ষেপে ভুয়ো রেশন কার্ড ইস্যু রোধ অনেকটাই করা সম্ভব হবে। তার সাথে প্রকৃত উপভোক্তারা রেশনের সুবিধা পাবেন। মূলত এই লক্ষ্যেই কড়া হয়েছে খাদ্য দপ্তর। এদিকে, বাংলার সরকারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ উঠছে। তাই নতুন কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন করে কোন বিতর্ক চাইছে না রাজ্যের খাদ্য দপ্তর। অন্যদিকে পুরোনো কার্ডের ও সঠিক ব্যক্তি আছে কিনা, সেই ব্যাপারেও নিশ্চিত হতে চাইছে। তাই রাজ্যের সমস্ত রেশন গ্রাহকদের জন্য এই নিয়ম জারি করা হল।