পশ্চিমবঙ্গে ২৬০০০ শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মীর চাকরি বাতিলের পর এবার প্রাইমারী স্কুলে চাকরি পাওয়া অপ্রশিক্ষিত ৩২০০০ শিক্ষক মিলিয়ে (32000 Teacher Case) মোট ৪২০০০ শিক্ষকের চাকরি নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে। আর এই মামলাতেও ১০৯টি CAN ফাইল হয়েছে, আর আইনজীবীরা যেভাবে ছাই দিয়ে চেপে ধরার মতো ধরেছেন, তাতে এই মামলায় ও দুর্নীতি থাকলে সেটি বেরিয়ে আসবে বলে অনেকেই মনে করছেন। আর এই মামলা এখনও পর্যন্ত কি অবস্থায় আছে, আর অভিযোগ কতটা গুরুতর, জেনে নিন।
West Bengal Primary TET 32000 Teacher Case
স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগে হাইস্কুলে চাকরি পাওয়া ২৬০০০ চাকরি বাতিলের পর তাদের আর পুনরায় চাকরি ফিরে পাবার আশা ক্রমে ক্রমে কঠিন হয়ে পড়ছে। আর পরীক্ষা দিয়ে কজন সেই চাকরি ফিরে পাবেন, সেই নিশ্চয়তা কারোর কাছে নেই। আর যাদের দাগী প্রার্থীদের তালিকায় (SSC Tainted List) নাম এসেছে, তাদের কথা এদিন আদালত ও শুনলো না। অর্থাৎ তাদের পুনরায় পরীক্ষার বসার ও সুযোগ রইলো না। আর এরই মধ্যে প্রাথমিকের ট্রেন্ড আনট্রেন্ড মিলিয়ে মোট ৪২০০০ চাকরি নিয়ে (32000 Teacher Case) ফের চাপান উতোর শুরু হয়েছে। প্রথমে প্রশিক্ষিতদের এই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হলেও মামলা যেদিকে এগোচ্ছে, তাদেরও ডাক পড়তে পারে। আর ২৬০০০ চাকরি বাতিলের পর স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি এবার প্রাইমারী চাকরি ও বাতিল হবে?
SSC 26000 case status vs Primary 32000 Teacher Case
২৬০০০ চাকরি বাতিলের মূল অভিযোগ ছিলো OMR কারচুপি, Rank Jump যেটি এই নিয়োগের মূল পরীক্ষা অর্থাৎ লিখিত পরীক্ষায় দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে। এদিকে প্রাইমারী টেট এর ক্ষেত্রে OMR নিয়ে অভিযোগ নয়। আর প্রাইমারী শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে মূল অভিযোগ মেধা তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ না করা, এবং এপ্টিটিউড টেস্ট আর ভাইভা আলাদা করে না নেওয়া। নিচে মূল অভিযোগ গুলো আর সম্ভাব্য পরিনতি কি হতে পারে, দেখে নিন।
শুনানির প্রধান আলোচনা পয়েন্টসমূহ
পশ্চিমবঙ্গের৩২০০০ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ মামলায় (32000 Teacher Case) কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) আবেদনকারীদের অভিযোগ এবং আদালতের মন্তব্যগুলো নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এখানে সংরক্ষণ নীতি থেকে শুরু করে দুর্নীতির অভিযোগ পর্যন্ত সবকিছু আলোচিত হয়েছে। বিচারপতিরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির কথা মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছেন। এই শুনানি পশ্চিমবঙ্গ হাইকোর্ট শিক্ষক মামলার মতো ঘটনায় ভবিষ্যতের নজির স্থাপন করতে পারে।
প্রাইমারী টেট মামলার মূল অভিযোগ
সংরক্ষণ নিয়মাবলী এবং কাট-অফ স্কোরের বিতর্ক
আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে SC ST OBC প্রার্থীদের সাধারণ বিভাগে (জেনারেল ক্যাটাগরি) আবেদনের অধিকার দেওয়া হয়নি, যা কাট-অফ স্কোরকে বিকৃত করেছে। আদালতের মতে, প্রতিযোগীদের যোগ্যতার ভিত্তিতে বিভাগের সীমাবদ্ধতা ছাড়াই মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। এই অভিযোগ পশ্চিমবঙ্গ প্রাইমারি টিচার রিক্রুটমেন্টের সংরক্ষণ নীতির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠিয়েছে। বিচারপতিরা জানিয়েছেন যে যোগ্যতা অনুসারে সকলকে সমান সুযোগ দেওয়া উচিত। এই বিষয়টি ৩২০০০ শিক্ষক চাকরি বাতিলের মূল কারণগুলোর একটি। সংরক্ষণের ত্রুটি যদি প্রমাণিত হয় তাহলে প্রশিক্ষিত ও অপ্রশিক্ষিত সমস্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
তালিকা প্রকাশের বিতর্কিত দিক
নির্বাচিত প্রতিযোগীদের তালিকা প্রকাশ না করা নিয়ে বড় বিতর্ক উঠেছে। আবেদনকারীদের অভিযোগ যে কোনো তালিকা জনসমক্ষে আনা হয়নি, যদিও বোর্ডের দাবি তালিকা দেয়ালে টাঙানো হয়েছিল। বিচারপতিরা উল্লেখ করেছেন যে নিয়মাবলীতে তালিকা প্রকাশের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ নেই। এই বিতর্ক কলকাতা হাইকোর্ট শিক্ষক মামলায় (32000 Teacher Case) স্বচ্ছতার অভাবকে তুলে ধরেছে। যদি তালিকা প্রকাশের প্রক্রিয়া ত্রুটিপূর্ণ হয় তাহলে নিয়োগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।
ইন্টারভিউ ও অ্যাপটিটিউড টেস্ট
অভিযোগ উঠেছে যে সকল প্রতিযোগীর যোগ্যতা পরীক্ষা (32000 Teacher Case) নেওয়া হয়নি। কিছু কিছু পরীক্ষক বা সাক্ষাতকারকারী জানিয়েছেন যে তাঁরা যথাযথ নির্দেশনা পাননি। এই ত্রুটি ৩২০০০ টিচার কেস আপডেটে নিয়োগের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করেছে। আদালত এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা যাচাই করার কথা বলেছে। যদি পরীক্ষা এবং সাক্ষাৎকারে অসমতা থাকে তাহলে সমস্ত ফলাফল অবৈধ হতে পারে।
দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ
আদালত আবেদনকারীকে দুর্নীতির সাথে নির্দিষ্ট প্রতিযোগীদের সংযোগের কড়া প্রমাণ জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে যে কীভাবে একজন প্রতিযোগী সরাসরি দুর্নীতিগ্রস্ত নিয়োগের সাথে জড়িত হতে পারে। এই অভিযোগ কলকাতা হাইকোর্টের শিক্ষক চাকরি বাতিল মামলায় মূল ভূমিকা পালন করছে। যদি প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে সমস্ত প্রক্রিয়া বাতিল হয়ে যেতে পারে।
প্রশিক্ষিত প্রতিযোগীদের অন্তর্ভুক্তি এবং প্রভাব
শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ মোড় এসেছে যখন আদালত বলেছে যে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ত্রুটি থাকলে অপ্রশিক্ষিতদের সাথে ১২,০০০ প্রশিক্ষিত প্রার্থীদেরও প্রভাবিত করবে। এর ফলে ৪২,৯৪৯ টি চাকরি নিয়েই সংশয় তৈরি হয়েছে। যদি ত্রুটি প্রমাণিত হয় তাহলে সমস্ত নিয়োগ পুনরায় করতে হবে।
আদালতের দ্বিধা এবং সতর্কতা
তবে ২৬০০০ এর চাকরি বাতিলের মতো, এই নিয়োগে আগে থেকেই কড়া পদক্ষেপ নিতে চাইছে না আদালত। বিচারপতিরা স্বীকার করেছেন যে ৩২০০০ পরিবারের চাকরি বাতিল অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। বিশেষ করে যখন অনেক শিক্ষক সাত বছর ধরে কাজ করছেন এবং গ্র্যাচুইটির কাছে পৌঁছেছেন। এই দ্বিধা কলকাতা হাইকোর্ট শুনানিতে মানবিক দিককে তুলে ধরেছে। আদালত ক্ষতিগ্রস্তদের কল্যাণের কথা মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এই শুনানি সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়া নতুন করে করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
শুনানির সমাপ্তি এবং ভবিষ্যত প্রভাব
হাইস্কুলের ২৬০০০ শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বার বার যোগ্য অযোগ্য আলাদা করার কথা বলা হলেও, বাস্তবে সেই তালিকা প্রকাশিত হলো, কিন্তু অনেক দেরি করে। তবে এই মামলায় লিখিত পরীক্ষা নিয়ে সরাসরি অভিযোগ নেই। তাই অনেকেই মনে করছেন পুরো প্যানেল বাতিল এই ক্ষেত্রে না ও হতে পারে। তবে এই মামলায় যা হবে শুধুমাত্র ৩২০০০ অপ্রশিক্ষিত প্রার্থীরাই নয়, প্রশিক্ষিত ১২০০০ প্রার্থীরাও এর বাইরে নন।
এই শুনানি প্রশিক্ষিত এবং অপ্রশিক্ষিত উভয় শিক্ষকের উপর প্রভাব বিস্তার করবে। আদালতের সিদ্ধান্তই ৩২০০০ টিচার কেস পশ্চিমবঙ্গ প্রাইমারি টিচার রিক্রুটমেন্টের ভবিষ্যত নির্ধারণ করবে। ভবিষ্যতে এমন ত্রুটি এড়ানোর জন্য নিয়মাবলী শক্তিশালী করা দরকার।