গত ১৬ই ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গে SIR এর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে (SIR draft list West Bengal Voter List). আর ১৬ তারিখ দুপুর থেকেই অনলাইনে সেই খসড়া তালিকা দেখা গেছে। প্রথমে যে সমস্ত নাম বাদ গেছে তাদের তালিকা প্রকাশিত হয়। আর এরপর পশ্চিমবঙ্গ SIR এর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়। যারা সঠিক ভাবে SIR এর এনুমারেশন ফর্ম ফিলাপ করেছেন তাদেরই এই তালিকায় নাম এসেছে। আবার অনেকে ফর্ম ফিলাপ করেও নাকি নাম আসেনি, এরকম অভিযোগ ও পাওয়া গেছে। তাই এই তালিকায় নাম থাকলেই যে নাম চূড়ান্ত, কিম্বা নাম না থাকলেই যে নাম কেটে গেল, তেমনটা নয়। নাম থাকলেও যেমন হেয়ারিং হতে পারে, আবার নাম কাটা গেলেও চূড়ান্ত তালিকায় নাম উঠতে পারে। এই প্রতিবেদন থেকে বিস্তারিত সমস্ত কিছু জেনে নিন।
SIR draft list West Bengal Voter List 2025
পশ্চিমবঙ্গে SIR Draft roll বা খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পরই জানা গেছে, প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। এবং কি কারনে বাদ গেছে, সেটাই তার পাশে লেখা রয়েছে। সেই কারন গুলো হলো মৃত্যু, ডুপ্লিকেট, শিফটেড বা স্থানান্তরিত ও খুঁজে পাওয়া যায়নি প্রভৃতি। এছাড়া আরও প্রায় দেড় কোটি (১.৩৪ কোটি) নামের তথ্য নির্বাচন কমিশনের AI সিস্টেম দ্বারা সন্দেহজনক মনে হয়েছে। যেমন বাবা ছেলের বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরের কম, কিছু ক্ষেত্রে বাবার বয়স ছেলের থেকে কম! এক বাবার ১০ এর অধিক সন্তান। এরকম অভিযোগ রয়েছে। আবার অনেকেই ফর্ম পূরণ করেছেন, তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি দেখাচ্ছে। অনেকে অনলাইনে ফিলাপ করেছেন কিন্তু নাম আসেনি। এই অভিযোগ গুলো বা এই ব্যাপার গুলো কি হবে, নিচে আলোচনা করা হলো।
তালিকায় নাম থাকলেই নিশ্চিত নয়
যারা এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করেছেন, তাদের সকলেরই নাম আছে। কিন্তু নাম থাকলেই যে ১৪ই ফেব্রুয়ারির তালিকায় নাম থাকবে তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। ৭ কোটি আবেদনের প্রায় ১ কোটি ৩৪ লক্ষ আবেদনে অসঙ্গতি রয়েছে। সেটি হতে পারে নামের বানান ভুল, বয়সের মিল নেই, বাবার নামের অসঙ্গতি। তবে এই ছোট কারন গুলো হয়তো BLO ফোন করে বা যাচাই করে ঠিক করে নেবেন, এগুলোতে হেয়ারিং না ও পড়তে পারে। তবে অনেক গুলো অসঙ্গতি রয়েছে, যেগুলো হেয়ারিং হতে পারে।
- বাবা ও সন্তানের বয়সের পার্থক্য – ১৫ এর কম, ৪৫ এর অধিক
- নাম ও পদবির সম্পূর্ণ অমিল
- একই প্রজেনিতে প্রচুর ম্যাপিং
- একই বাবার প্রচুর সন্তান
এরকম আরও অনেক অসঙ্গতি রয়েছে। আবার যারা ২০০২ এর সাথে কোন লিংক দেখান নি, এরকম সংখ্যা প্রায় ৩৩ লাখ। এনাদের ও বেশিরভাগ হেয়ারিং হবে।
ফর্ম ফিলাপ করেও নাম আসেনি
এদিকে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে অভিযোগ আসছে, যে অনেকেই ফর্ম ফিলাপ করেও নাকি তাদের নাম কাটা গেছে। মৃত বা খুঁজে পাওয়া যায়নি দেখাচ্ছে। অনেকেই নাকি ফর্ম ই পাননি। এরকম তথ্য সঠিক হলে তারা আবার ৬ নম্বর ফর্ম ও এনেক্সার ৪ ফর্ম পূরণ করে নাম তোলার সুযোগ পাবেন।
হেয়ারিং কোথায় হবে?
হেয়ারিং নিয়ে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত BDO/SDO অফিসে প্রতিদিন ১০০ টি করে হেয়ারিং হবে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে স্থানীয় এলাকায় ও হেয়ারিং হতে পারে। এটি স্থানীয় প্রশাসন ঠিক করবেন। তবে ১ সপ্তাহের নোটিসে হেয়ারিং হবে। হেয়ারিং এ আবেদনকারীকে উপস্থিত থাকতে হবে। তবে প্রশ্ন উঠছে, যারা কর্মসুত্রে বাইরে থাকেন, তারা সকলে কিভাবে উপস্থিত হবেন?
উপসংহার
১৬ই ডিসেম্বরের তালিকা কেবলমাত্র একটি প্রাথমিক তালিকা। এই তালিকা প্রকাশের পর সংশোধন ও দাবি জানানোর সুযোগ রয়েছে। তাই কারো নাম না থাকলেও তারা পুনরায় আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া নতুন ভোটারেরাও আবেদন করতে পারবেন। আগামী ১৪ই ফেব্রুয়ারীই জানা যাবে নির্বাচন কমিশনের সঠিক ও চূড়ান্ত তালিকা।