পুজোর মাত্র কয়েকটি দিন বাকি। এরই মধ্যে বেতন (Salary Date) কবে দেবে, বোনাস কবে দেবে, পুজো বোনাস কবে ঢুকবে (Festival Bonus), এই প্রশ্ন সরকারি কর্মীদের সোশ্যাল মিডিয়ার গ্রুপে গ্রুপে ভাইরাল। আর এরই মধ্যেই সমস্ত সরকারি কর্মী, চুক্তিভিত্তিক কর্মী, শিক্ষক শিক্ষিকাদের অপেক্ষা ও কৌতূহলের অবসান ঘটিয়ে জোড়া বিজ্ঞপ্তি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের (Government pof West bengal). পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মীদের বোনাস ও বেতন কবে দেবে, ডিএ বাড়বে কিনা, পুজোর আগে টাকা পাওয়া যাবে কিনা, এসব বিষয়ে যাদের প্রশ্ন রয়েছে, তাদের জন্য এই প্রতিবেদনটি।
West Bengal Govt Employees Salary and Ad-hoc bonus payment
পশ্চিমবঙ্গে শারদীয়া উৎসবের মরসুমে সরকারি কর্মীদের জন্য সুখবর নিয়ে এসেছে রাজ্য সরকার। নবান্ন থেকে জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসের বেতন (Monthly Salary), সাম্মানিক, মজুরি এবং পেনশন উৎসবের আগেই দেওয়া হবে। এই পদক্ষেপ উৎসবের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। কেন্দ্রীয় সরকারের পর এবার রাজ্য সরকারও তাদের কর্মীদের আর্থিক সুবিধা প্রদানের ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে কর্মচারীরা উৎসবের জন্য আগাম আর্থিক পরিকল্পনা করতে পারবেন। এটি রাজ্যের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বেতন ও পেনশন প্রদানের সময়সূচি
রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছে, আগামী ২৪-২৫ সেপ্টেম্বর সরকারি কর্মীদের বেতন (Salary) ও মজুরি প্রদান করা হবে। পেনশনভোগীরা তাদের পেনশন পাবেন ১ অক্টোবর। লক্ষ্মীর ভান্ডার এবং জয় বাংলার মতো সরকারি প্রকল্পের অনুদানও ১ অক্টোবরের মধ্যে বিতরণ করা হবে। এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে উৎসবের আগে সকলেই আর্থিক সুবিধা পান। নবান্নের এই উদ্যোগ কর্মীদের মধ্যে সন্তুষ্টি বাড়াবে। এই পদক্ষেপটি দুর্গাপুজোর দীর্ঘ ছুটির কথা মাথায় রেখে নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগ
সোমবার কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গে কর্মরত তাদের কর্মচারীরা ২৬ সেপ্টেম্বর বেতন পাবেন। সাধারণত মাসের শেষ দিনে বেতন দেওয়া হলেও, এবার উৎসবের জন্য আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত দুর্গাপুজোর ছুটির তালিকা এবং উৎসবের মরসুমের কথা বিবেচনা করে নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের এই ঘোষণার পর রাজ্য সরকারও কার্যত দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। যার ফলে পুজোর আগে রাজ্যের কর্মীরাও বেতন পাবেন।
বোনাস ঘোষণা: ৬,৮০০ টাকা
রাজ্য সরকার ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারি কর্মীদের জন্য ৬,৮০০ টাকার অ্যাড-হক বোনাস (Ad-hoc Bonus) ঘোষণা করেছে। এই বোনাস (Ad-hoc Bonus) সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহের পরে কর্মীদের অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ার কথা। সেই হিসাবে ১৯ তারিখ থেকে ২৪ তারিখের মধ্যে যেকোনো দিন পেতে পারেন। বোনাস পাওয়ার জন্য কর্মচারীর বেসিক বেতন এবং ডিএ এর যোগফল ৩১ মার্চ, ২০২৫-এ ৪৪,০০০ টাকার বেশি হওয়া উচিত নয়। যদি কোনও কর্মীর বেতন এই সীমা অতিক্রম করে, তবে অর্থবছরের ছয় মাস এই সীমার নিচে থাকলে তারা বোনাস পাবেন। এই ৪৪০০০ টাকা ও গত বছর ৪২০০০ টাকা ছিলো।
আরও পড়ুন, কাজের ফাকে বিনা ইনভেস্টে এই ব্যবসা করে প্রচুর টাকা আয় করুন।
বোনাস কবে দেবে?
মুসলিম কর্মচারীদের জন্য ইদ-উল-ফিতরের আগে উৎসব ভাতা দেওয়া হয়ে গেছে। এবার অন্যান্য কর্মচারীদের জন্য বোনাস আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই পেয়ে যাবেন। এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে কর্মীরা উৎসবের জন্য পরিকল্পনা করতে পারেন। এদিকে চুক্তিভিত্তিক এবং দৈনিক মজুরির কর্মীরাও বছরে ১২০ দিন কাজ করলে বোনাস পাবেন। এই পদক্ষেপ কর্মীদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।
বোনাস পাওয়ার যোগ্যতা (Festival Bonus)
বোনাস পাওয়ার জন্য কর্মচারীদের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কমপক্ষে ছয় মাস কাজ করতে হবে। যারা পূর্ণ বছর কাজ করেননি, তাদের জন্য বোনাস প্রো-রাটা ভিত্তিতে দেওয়া হবে। এই নিয়ম জানতে হলে এখানে ক্লিক করুন। চুক্তিভিত্তিক কর্মীরাও এই সুবিধা পাবেন, যদি তারা নির্দিষ্ট সময় কাজ করে থাকেন। এই শর্তগুলি নিশ্চিত করে যে সকল যোগ্য কর্মী আর্থিক সুবিধা পান। এই বোনাস কর্মীদের উৎসবের খরচ মেটাতে সহায়তা করবে। সরকারের এই উদ্যোগ কর্মীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি করবে।
আরও পড়ুন, ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে EMI পরিশোধ না করলেই মোবাইল ফোন, আধার কার্ড সব লক হয়ে যাবে। নতুন নিয়ম চালু হলো
বোনাসের পরিমাণ বেড়েছে
পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ রাজ্য সরকারি কর্মীদের যেমন ৮০০ টাকা বোনাস বেড়েছে (Festival Bonus Hike). সেই সাথে এমুলুমেন্ট ২০০০ টাকা বোনাস পাওয়ার ঊর্ধ্বসীমা বেড়েছে। তাই এবার একাউন্টে প্রায় ৭০০০ টাকা ঢুকবে। এদিকে ২০% বোনাস বেড়েছে চা বাগানের কর্মীদেরও। বোনাস বেড়েছে চুক্তি ভিত্তিক সরকারি কর্মীদের। এক কথায় এবার পুজোর আগে অফ্রিম বেতন অ বর্ধিত বোনাস রাজ্য সরকারি কর্মীদের বাড়তি স্বস্তি দেবে।
উৎসবের জন্য আর্থিক সুবিধা
রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপগুলি কর্মীদের উৎসবের আনন্দ বাড়াতে সহায়ক হবে। অগ্রিম বেতন এবং বোনাস তাদের আর্থিক পরিকল্পনায় সুবিধা দেবে। এদিকে পেনশনভোগীদের জন্যও সময়মতো অর্থ প্রদান নিশ্চিত করা হয়েছে। এই উদ্যোগ রাজ্যের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কর্মচারীরা তাদের পরিবারের সঙ্গে উৎসব উদযাপন করতে আরও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন। নবান্নের এই ঘোষণা সরকারি কর্মীদের মধ্যে সন্তুষ্টি বাড়িয়েছে।