কেন্দ্রের ডিএ ঘোষণার পর, পশ্চিমবঙ্গেও কেন্দ্রীয় হারে ডিএ নিয়ে সুখবর। নবান্নের দাবি খারিজ করে নতুন নথি পেশ

দুর্গা পুজোর মধ্যেই দেশের সমস্ত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের জন্য নতুন করে ৩ শতাংশ ডিএ ঘোষণা (DA Hike) করেছে মোদী সরকার। আর কেন্দ্রের এই ঘোষণার পর ইতিমধ্যেই কয়েকটি রাজ্যে দীপাবলির আগেই ডিএ ঘোষণার ইঙ্গিত মিলেছে। এদিকে পশ্চিমবঙ্গে চলা দীর্ঘ দিনের ডিএ মামলায়, অন্যান্য রাজ্যে কেন্দ্রীয় হারে ডিএ (মহার্ঘ ভাতা) দেয় কিনা, সেই সম্মন্ধে রাজ্য সরকার যে নথি সুপ্রিমকোর্টে পেশ করেছে, সেই তথ্য নিয়ে আবার বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। যার জেরে আদালতে ফের জোর ধাক্কা খেতে পারে নবান্ন। আর এর ফলে মামলার রায় সরকারি কর্মীদের পক্ষে জেনে পারে। এই ২ দিনে একের পর এক ঘটনা মামলা কে পুরো ঘুরিয়ে দিয়েছে। বিস্তারিত জেনে নিন।

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ৩% ডিএ ঘোষণা

পুজোর মধ্যেই সমস্ত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের জন্য ফের ৩% মহার্ঘ ভাতা ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক। যার ফলে এ ধাক্কায় বেতন বেড়ে গেল। এদিকে কেন্দ্রের পথে হেটে কালীপূজোর আগেই অনেক রাজ্য ও ডিএ ঘোষণা করবে। কেন্দ্রের ডিএ ঘোষণা হলেও, এদিকে পশ্চিমবঙ্গের ডিএ নিয়ে টালবাহানা অব্যাহত।

পশ্চিমবঙ্গের বকেয়া ডিএ মামলা

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা বা (Dearness Allowance) সংক্রান্ত মামলা সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court of India) চরম উত্তেজনার মুখোমুখি হয়েছে। সম্প্রতি রাজ্য সরকার দাবি করেছে যে ভারতে অর্ধেকেরও বেশি রাজ্য কেন্দ্রীয় DA হার অনুসরণ করে না। নবান্নের জমাক্রিত নথি অনুসারে ১২টি রাজ্য কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেয় না, তার মধ্যে অধিকাংশই বিজেপি শাসিত রাজ্য।

কিন্তু কর্মচারীদের সংগঠন ইউনিটি ফোরাম এই দাবির বিরুদ্ধে শক্তিশালী তথ্য উপস্থাপন করেছে। তাদের প্রমাণ অনুসারে, রাজ্যের উল্লেখিত ১২টি রাজ্যের অনেকগুলোই আসলে কেন্দ্রীয় AICPI পদ্ধতি মেনে DA দেয়। এই নতুন তথ্য মামলার দিক পরিবর্তন করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। পশ্চিমবঙ্গ DA মামলা নিয়ে সকলের দৃষ্টি এখন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের দিকে্ল

রাজ্য সরকারের দাবি এবং বাস্তবতা

রাজ্যের উপস্থাপিত যুক্তি

রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে একটি বিস্তারিত তালিকা জমা দিয়ে জানিয়েছে যে কয়েকটি রাজ্য কেন্দ্রীয় হারে DA দেয় না বা অনুসরণ করে না। এই তালিকায় ছত্তিশগড়, হিমাচল প্রদেশ, কর্ণাটক, কেরালা, মহারাষ্ট্র, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, সিকিম, তেলেঙ্গানা এবং ত্রিপুরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। রাজ্যের মতে, এই রাজ্যগুলো কেন্দ্রীয় মহার্ঘ ভাতা প্রদানের নিয়ম মেনে চলে না। এর দ্বারা তারা প্রমাণ করতে চেয়েছে যে কেন্দ্রীয় DA হার বাধ্যতামূলক নয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারীদের AICPI হারে ডিএ না দেওয়ার পক্ষে, যুক্তি তাদের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে। তবে তথ্য ভুল হলে রাজ্যি নিজের ফাঁদে পা দেবে।

আরও পড়ুন, দুর্গাপূজা ২০২৬ সময়সূচি ভাইফোঁটা পর্যন্ত। ২০২৬ সালের দুর্গাপূজার তারিখ ও সময় বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী দেখে নিন

রাজ্যের দাবীর বিরুদ্ধে তথ্য প্রমাণ

ইউনিটি ফোরাম রাজ্যের দাবির বিরুদ্ধে একটি বিপরীত তালিকা সুপ্রিম কোর্টে উপস্থাপন করেছে। তাদের তথ্য অনুসারে, উল্লেখিত ১২টি রাজ্যের মধ্যে ৮টি কেন্দ্রীয় AICPI প্যাটার্ন অনুসরণ করে DA প্রদান করে। ছত্তিশগড়, হিমাচল প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, নাগাল্যান্ড এবং সিকিমের মতো রাজ্যগুলো সরাসরি কেন্দ্রীয় নিয়ম মেনে চলে। কিছু রাজ্যে বকেয়া সহ বা কিছুটা দেরিতে DA দেওয়া হয় কিন্তু ভিত্তি কেন্দ্রীয়। কর্ণাটক এবং কেরালা AICPI সূচকের উপর ভিত্তি করে তাদের কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা প্রদান করে। সুপ্রিম কোর্ট ডিএ মামলায় এই নতুন প্রমাণ রাজ্যের যুক্তিকে দুর্বল করে তুলেছে।

বিভিন্ন রাজ্যের DA প্রদান পদ্ধতি

কেন্দ্রীয় প্যাটার্ন অনুসরণকারী রাজ্যসমূহ

অনেক রাজ্য কেন্দ্রীয় সরকারের AICPI ভিত্তিক DA হার অনুসরণ করে। ছত্তিশগড় এবং হিমাচল প্রদেশের মতো রাজ্যগুলো সরাসরি এই পদ্ধতি মেনে চলে। মহারাষ্ট্র এবং নাগাল্যান্ডও কেন্দ্রীয় নিয়মের অনুরূপ DA প্রদান করে। সিকিমে কিছুটা দেরিতে হলেও মূল ভিত্তি কেন্দ্রীয় AICPI। কর্ণাটক AICPI 2001=100 সূচকের উপর নির্ভর করে মহার্ঘ ভাতা নির্ধারণ করে। কেরালাও একইভাবে কেন্দ্রীয় প্যাটার্ন অনুসরণ করে DA দেয়।

বিশেষ ক্ষেত্র এবং অন্যান্য রাজ্য

তেলেঙ্গানা কেন্দ্রীয় DA হার অনুসরণ করে কিন্তু নিজস্ব গুণক যোগ করে। এই গুণক 0.91 শতাংশের মতো হয় যা তাদের নিয়ম অনুসারে। মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম এবং ত্রিপুরার ক্ষেত্রে তথ্য স্পষ্ট নয়। ইউনিটি ফোরামের প্রমাণ এই রাজ্যগুলো নিয়ে রাজ্যের দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে। কেন্দ্রীয় DA হার অনুসরণ না করার যুক্তি এখন দুর্বল হয়ে পড়েছে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দাবি এতে আরও শক্তিশালী হবে।
মামলার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা

আরও পড়ুন, দেশজুড়ে কমতে চলেছে সোনার দাম? সাধারণ মানুষের স্বার্থে মোদী সরকারের জরুরী সিদ্ধান্ত

ইউনিটি ফোরামের উপস্থাপিত তথ্য রাজ্য সরকারের অবস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সুপ্রিম কোর্ট এখন উভয় পক্ষের প্রমাণ যাচাই করবে। যদি ফোরামের তথ্য সঠিক প্রমাণিত হয় তাহলে রাজ্যের যুক্তি খারিজ হয়ে যাবে। পশ্চিমবঙ্গের কর্মচারীরা কেন্দ্রীয় হারে DA পাওয়ার দাবি আরও জোরালো হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এই মামলা কর্মচারীদের পক্ষে যেতে পারে। সকলের নজর এখন সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায়ের দিকে।

শেয়ার করুন: Sharing is Caring!