পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ মামলা (DA Case Update) চলছে ২০১৬ সাল থেকে। অর্থাৎ ৯ বছর ধরে চলা এই মামলায় (Dearness Allowance) একাধিক বার নিম্ন আদালতে জয় পেলেও শেষ ২ বছর মামলা গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court of India). রাজ্য সরকার বরাবরই এই মামলা দীর্ঘায়িত করার কৌশল নিয়েছে। বদলেছে একের পর এক সরকারি আইনজীবী। অনুপস্থিত থেকেছেন অন্য মামলার শুনানির কারণ দেখিয়ে। কিন্তু একমাত্র আর্থিক সক্ষমতা ছাড়া আরও কোনও কারণ দেখাতে পারেনি। তবে এবার ডিএ না দেওয়ার নতুন কারণ খাঁড়া করলো রাজ্য সরকার। যার ফলে কার্যত আকাশ থেকে পড়েছেন রাজ্য সরকারি কর্মীদের একাংশ।
West Bengal DA Case update
আদালত বার বার পশ্চিমবঙ্গ সরকার কে ডিএ দেওয়ার নীতিমালা প্রণয়ন করতে বললেও, রাজ্য সরকার বার বার পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছে। এমনকি, কলকাতা হাইকোর্ট ও SAT এ মামলা চলাকালীন রাজ্য সরকার ডিএ না দেওয়ার কারণ হিসাবে জানিয়েছে মূলত দুটি কারণ।
- এক, মহার্ঘ ভাতা কর্মীদের অধিকার নয়, রাজ্যের দয়ার দান।
- দুই, ডিএ দেওয়া নিয়ে সরকার সহানুভূতিশীল, তবে রাজ্যের আর্থিক অক্ষমতা বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আর অবশেষে এই মামলা (DA Case Update) গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। আর সরকার পক্ষের হয়ে এই মামলার দায়িত্বে আসেন আইনজীবী কপিল সিব্বল ও আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি। আর তারপরই এই মামলায় কার্যত অন্য মাত্র যোগ হয়। অন্যদিকে রাজ্য সরকারি কর্মীদের পক্ষেও রয়েছেন, বিকাশ বাবু ও গোপাল সুব্রহ্মণ্যম। তবে এতদিনে রাজ্য সরকার ডিএ না দেওয়ার কারণ একের পর এক প্রকাশ করতে চলেছে। আর এবার ৬২ পাতার একটি লিখিত নথি জমা দিয়ে এই মামলায় কার্যত সরকারি কর্মীদের একচাটিয়া জয়ের সম্ভাবনা কমে গেল। অর্থাৎ, এবার যুক্তি ও আইনি কৌশলের মাধ্যমেই এই মামলার পরিনতি হবে।
রাজ্যের ৬২ পাতার নথির মূল বিষয়
- যুক্ত রাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো অনুযায়ী কোনও রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দিতে বাধ্য নয়।
- কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দিতে রাজ্য বা কেন্দ্রীয় কোনও নথিতে তেমন লেখা নেই।
- ভারতের অর্ধেকের ও বেশি রাজ্য কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেয় না।
- আদালত এই মামলায় কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়ার নির্দেশ দিলে অন্য রাজ্যে ও প্রভাবিত হবে।
- বেশিরভাগ রাজ্য নিজের সুবিধামতোই ডিএ ঘোষণা করে।
- কোনও রাজ্য যদি কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেয়, সেটা তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত, কিন্তু বাধ্য বাধকতা নেই।
- রাজ্যের আর্থিক অবস্থা ভালো নেই, ডিএ দিতে রাজ্য কে ঋণ নিতে হবে, যেটি কেন্দ্রের অনুমতি প্রয়োজন ও সময় সাপেক্ষ।
সরকারি কর্মীদের আশা
এর আগেও এই মামলার রায় (DA Case Update) সরকারি কর্মীদের পক্ষে গেছে। এবং সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) ও সেই রায় দেবেন বলে আশাবাদী সরকারি কর্মীদের একাংশ। ইতিমধ্যেই আগামী সোমবারের শুনানির জন্য দিল্লীতে রওনা দিয়েছেন বিভিন্ন মামলাকারী সংগঠন। আগামী সোম বারই কর্মীদের পক্ষে কোনও ইতিবাচক নির্দেশ আসবে বলে মনে করছেন তারা।
আদালতে কর্মীদের পক্ষে বেনিফিট
রাজ্য সরকারের ৬২ পাতার জবাবের মধ্যেও কর্মীদের পক্ষে একটি ভালো সিদ্ধান্ত দিয়েছে মহামান্য আদালত। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বিশেষ বেঞ্চে রয়েছে। আর এর মধ্যেই এই মামলাটি পার্ট হার্ড বা Part Heard হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। যার অর্থ হলো, এই মামলার শুনানি বর্তমানে যে বেঞ্চে রয়েছে, সেই বেঞ্চই এর চূড়ান্ত শুনানি ও মামলা নিষ্পত্তি করবে। অর্থাৎ এই মামলা দ্রুত নিস্পত্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাতে কর্মীদের আর্থিক খরচ কমবে, যেটা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি চিন্তার বিষয়।
আরও পড়ুন, দিনে মাত্র এক ঘন্টা অনলাইনে পার্ট টাইম কাজ করে অতিরিক্ত টাকা আয় করুন।
উপসংহার
বকেয়া ডিএ মামলা দীর্ঘ ৯ বছর ধরে চলছে। রাজ্য সরকার ও সহজে হার মানবে না, আর সরকারি কর্মীরা ও এই মামলা থেকে পিছিয়ে আসবেন না। তাই আদালতেই (Supreme Court) এর ভবিষ্যৎ চূড়ান্ত হবে। তবে কর্মীদের একাংশ মনে করছেন, এই ১০ বছরে রাজ্য সরকার এই মামলা চালানোয় যে পরিমাণ অর্থ খরচ করেছে, সেই টাকা দিয়ে কর্মীদের অর্ধেকের ও বেশি মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হয়ে যেত।