দীর্ঘ ১ মাস পর গরমের ছুটি শেষ করে গতকালই পশ্চিমবঙ্গের স্কুল খুলেছে। কিন্তু ফের গরম পড়তে শুরু করায় গরমের ছুটি না বাড়িয়ে এবার মর্নিং স্কুল (Morning School) শুরুর বিজ্ঞপ্তি। অর্থাৎ আর গরমের ছুটি না দিয়ে বরং মর্নিং স্কুল করার জন্য আবেদন জানানো হয়েছিলো শিক্ষা দপ্তরে। আর সেই আবেদনের মান্যতা দিয়েই ইতিমধ্যেই একাধিক জেলার শিক্ষা অফিস ও DPSC থেকে সকালে স্কুল শুরুর ছাড়পত্র দিয়েছে। যার জেরে বিভিন্ন স্কুলে বদলে যাচ্ছে স্কুলের সময়সুচি। তবে এই মুহুর্তে সকল জেলায় সকালে স্কুল শুরু হচ্ছে না। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কাদের জন্য এই নির্দেশিকা জেনে নিন।
গরমের ছুটির বদলে মর্নিং স্কুলের বিজ্ঞপ্তি
পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলির সময়সূচীতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। গ্রীষ্মের ছুটির পর বিদ্যালয়গুলি পুনরায় খোলার সঙ্গে সঙ্গে কিছু জেলায় মর্নিং স্কুল চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপ ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্য রক্ষার পাশাপাশি পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য গৃহীত হয়েছে। ইতিমধেই বেশকিছু জেলায় সকালে স্কুল শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মর্নিং স্কুলের সিদ্ধান্ত ও তারিখ 📅
গ্রীষ্মের ছুটির পর ২রা জুন, ২০২৫ থেকে পশ্চিমবঙ্গের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলি পুনরায় চালু হয়েছে। তবে, তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে কিছু জেলায় স্কুলের সময়সূচীতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাঁকুড়া জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ (DPSC) ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, ৪ঠা জুন, ২০২৫ থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জেলার সমস্ত প্রাথমিক এবং জুনিয়র বেসিক স্কুলগুলি সকালের শিফটে পরিচালিত হবে। এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য হলো ছাত্রছাত্রীদের দিনের উষ্ণতম সময়ে তাপপ্রবাহের প্রভাব থেকে রক্ষা করা।
বাঁকুড়া জেলার পদক্ষেপ ✅
বাঁকুড়া জেলায় তাপমাত্রা বর্তমানে অত্যন্ত উচ্চ স্তরে রয়েছে, যা ছাত্রছাত্রীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ (Bankura DPSC) নিম্নলিখিত নির্দেশ জারি করেছে:
- মর্নিং স্কুল চালু: ৪ঠা জুন থেকে সমস্ত প্রাথমিক ও জুনিয়র বেসিক স্কুল সকালের শিফটে চলবে, যাতে দুপুরের তীব্র গরম এড়ানো যায়।
- ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা: সকালের শীতল সময়ে ক্লাস পরিচালনার ফলে শিশুদের তাপজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি কমবে।
- পরবর্তী নির্দেশের অপেক্ষা: তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এই পদক্ষেপ শিক্ষক এবং অভিভাবকদের মধ্যে স্বস্তি এনেছে, কারণ এটি শিশুদের নিরাপত্তার পাশাপাশি শিক্ষার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে।
পূর্ব মেদিনীপুরে মর্নিং স্কুল করার জন্য আবেদন 🌞
পূর্ব মেদিনীপুর জেলাও তীব্র তাপপ্রবাহের কবলে রয়েছে। বর্তমানে এই অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৮-৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রয়েছে, এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী তা আরও বাড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের কাছে মর্নিং স্কুল করার জন্য আবেদন জানিয়েছে। তারা অন্তত চার সপ্তাহ বা তাপপ্রবাহ কমা পর্যন্ত সকালের শিফটে স্কুল পরিচালনার অনুমতি চেয়েছে। এই আবেদন এখনও পর্ষদের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
আরও পড়ুন, জুন মাসে পশ্চিমবঙ্গে ফ্রি রেশন সামগ্রীর তালিকা। রেশনে কি কি দেবে?
তাপপ্রবাহের প্রভাব ও প্রয়োজনীয়তা 🔥
তীব্র তাপপ্রবাহ শুধুমাত্র শারীরিক অস্বস্তি নয়, বরং শিশুদের জন্য তাপজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এই পরিস্থিতিতে সকালের শিফটে স্কুলের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে:
- স্বাস্থ্য সুরক্ষা: দিনের উষ্ণতম সময়ে (১১ টা থেকে ৪ টে) স্কুল চালালে শিশুদের হিটস্ট্রোক বা ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি থাকে। সকালের শীতল সময় এই ঝুঁকি কমায়।
- শিক্ষার ধারাবাহিকতা: স্কুল বন্ধ না করে সময়সূচী পরিবর্তনের মাধ্যমে পড়াশোনার ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হচ্ছে।
- অভিভাবকদের সুবিধা: অভিভাবকরাই সর্বপ্রথম মর্নিং স্কুল করার জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন।
অভিভাবক ও শিক্ষকদের জন্য পরামর্শ 📢
এই পরিবর্তিত সময়সূচী সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য অভিভাবক ও শিক্ষকদের কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং সর্বশেষ নির্দেশাবলী অনুসরণ করা জরুরি। অভিভাবকদের উচিত তাঁদের সন্তানদের পর্যাপ্ত জল ও তরল পানীয় পান করানো এবং হালকা পোশাক পরানো, যাতে তাপপ্রবাহের প্রভাব কমানো যায়। শিক্ষকদেরও শ্রেণিকক্ষে শিশুদের স্বাস্থ্যের দিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে।
অন্যান্য জেলার পরিস্থিতি 🌍
বাঁকুড়া এবং পূর্ব মেদিনীপুর ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য জেলাগুলিও তীব্র তাপপ্রবাহের মুখোমুখি। কিছু জেলা ইতিমধ্যেই মর্নিং স্কুল করার জন্য আবেদন জানানো, আবার কিছু জেলা প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক সপ্তাহে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা কম। তাই অন্যান্য জেলাও সকালে স্কুল শুরু হতে পারে। তবে পরিস্থিতি একই রকম চলতে থাকলে গরমে ছুটিও বৃদ্ধি হতে পারে। তবে সরকারি নির্দেশ না আশা পর্যন্ত তেমনটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
আরও পড়ুন, স্মার্ট মিটারে কি বিদ্যুৎ বিল বেশি উঠছে? স্মার্ট মিটার লাগানো কি বাধ্যতামূলক?
উপসংহার 🌟
বিগত কয়েক বছর ধরেই পশ্চিমবঙ্গ তীব্র তাপপ্রবাহের সম্মুখীন হচ্ছে। যার জেরে ছুটির লিস্টে ১ মাসের কম সময় গরমে ছুটি থাকলেও প্রতি বছরই তাপপ্রবাহের কারণে ছুটি ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়েছে। শিক্ষকদের মতে, সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পুজো ও বিভিন্ন কারণে স্কুল ছুটি ও একটানা স্কুল খোলা থাকে না। যার ফলে কয়েকদিন পর পর ই স্কুল ছুটি থাকে। তাই জুন থেকে আগস্ট এই ৩ মাস পড়াশোনার সবচেয়ে মোক্ষম সময়। তাই দীর্ঘকালীন গরমের ছুটি নিরবিচ্ছিন্ন সার্বিক মুল্যায়নে (CCE) এ বাঁধা সৃষ্টি করে। যেটি শিশুদের সামগ্রিক বিকাশের পরিপন্থী।
তাই গরমের ছুটির বদলে মর্নিং স্কুলের সিদ্ধান্ত একটি সময়োপযোগী এবং বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ। এটি ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্য রক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে। এবার এটাই দেখার এই পরিস্থিতিতে সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ স্কুল শিক্ষা দপ্তর কি সিদ্ধান্ত নেয়। পরবর্তী আপডেট পেতে EK24 News ফলো করুন।
নির্দেশিকা বাতিল
গত ২রা জুন বিভিন্ন DPSC থেকে মর্নিং স্কুলের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর, ৩রা জুন পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ থেকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বলা হয় যে, যে সমস্ত DPSC ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের অনুমতি ব্যাতিত মর্নিং স্কুলের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে, তাদের কে স্কুলের সময় পরিবর্তন না করার নির্দেশ দেওয়া হলো। অর্থাৎ ৪ জুন থেকে স্কুলের সময় পরিবর্তিত হচ্ছে না।