পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের (Migrant Workers) স্বনির্ভরতার পথে ইতিমধ্যেই শ্রমশ্রী প্রকল্প (Shramashree Scheme) চালু করেছেন, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এবার আরও বড় প্রকল্পের ঘোষণা হলো। শ্রমশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে ইতিমধ্যে ৫০০০ টাকা করে পাবেন অন্য রাজ্য থেকে ফিরে আসা শ্রমিকেরা। আর ব্যবসা বা স্বনির্ভর হওয়া জন্য এবার ‘উদীয়মান স্বনির্ভর কর্মসংস্থান প্রকল্প’ (USKP Loan Scheme For Migrant Workers). এই Udiyaman Swanirbhar Karmasansthan Prakalpa প্রকল্পের মাধ্যমে ১৮ থেকে ৪৫ বছরের যেকোনো পরিযায়ী শ্রমিক স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য হয়ে সরকারি ভর্তুকি নিয় খুবই কম সুদে ব্যবসায়িক ঋণ (MSME Loan) নিতে পারেন। এই প্রকল্পের সুবিধা, যোগ্যতা ও কিভাবে আবেদন করবেন জেনে নিন।
USKP MSME Loan Scheme for Migrant Workers
বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকরা প্রতিদিন অন্য রাজ্যে গিয়ে কাজের সন্ধানে বিপদের মুখোমুখি হচ্ছেন। দিল্লি, গুজরাতের মতো জায়গায় দুর্ঘটনা, হেনস্থা আর অনিশ্চয়তা তাদের জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। সম্প্রতি কয়েকটি ঘটনায় বাংলাভাষীদের বাংলাদেশি বলে অপমান করে আক্রমণের খবর ছড়িয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য (Migrant Workers) একটি বিশেষ লোন প্রকল্প শুরু করেছেন। এর মাধ্যমে তাদের নিজের জেলায় কাজ করে স্বনির্ভর হওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ পরিযায়ী শ্রমিক লোন প্রকল্প হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
পরিযায়ী শ্রমিক লোন প্রকল্পের লক্ষ্য এবং গুরুত্ব
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই বলেছিলেন যে নিজের এলাকায় থেকে উপার্জন করুন। এখন সেই কথাকে কাজে পরিণত করতে ‘উদীয়মান স্বনির্ভর কর্মসংস্থান প্রকল্প’ চালু হয়েছে। এটি মূলত বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য তৈরি করা হয়েছে যাতে তারা বাইরে না গিয়ে ঘরে ফিরে আসতে পারেন। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো অন্য রাজ্যে যাওয়া কমিয়ে নিজের জেলায় ছোট ব্যবসা শুরু করা। এতে করে শ্রমিকরা নিরাপত্তাহীনতা থেকে মুক্তি পাবেন এবং পরিবারের সঙ্গে থাকতে পারবেন। বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক লোন প্রকল্প এখন অনেকের কাছে আশার আলো হয়ে উঠেছে।
লোনের পরিমাণ, ছাড় এবং শর্তাবলী
এই প্রকল্পে প্রত্যেক যোগ্য পরিযায়ী শ্রমিক ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোন (MSME Loan) পাবেন। এর উপর বিশেষ ছাড় হিসেবে ১২ হাজার ৫০০ টাকা কমিয়ে দেওয়া হবে। ফলে সুদের বোঝা অনেক কম হয়ে যাবে এবং ফেরত দেওয়া সহজ হবে। শ্রমিকরা এই টাকা দিয়ে ছোটখাটো ব্যবসা বা স্ব-উদ্যোগ শুরু করতে পারবেন। আবেদনের জন্য এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জে নাম নথিভুক্ত করতে হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোন প্রকল্প এভাবে শ্রমিকদের স্বনির্ভরতার পথ দেখাচ্ছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এবং যোগাযোগ
এই প্রসঙ্গে পুরুলিয়া জেলার এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের উপ-পরিচালক আহমেদ আলি শাহ বলেছেন যে শ্রমিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা শুরু হয়েছে। ফোনের মাধ্যমে প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য জানানো হচ্ছে। যারা নাম রেজিস্টার করবেন তারা লোনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই লোন দিয়ে শ্রমিকরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবেন এবং বাইরের বিপদ এড়াতে পারবেন। সেপ্টেম্বর মাসে নির্দেশিকা জারি হয়েছে এবং জেলা অফিস থেকে তালিকা তৈরি শুরু হয়েছে। বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক লোন প্রকল্পে ভুয়ো নাম না ঢোকানোর জন্য যাচাই-বাছাই চলছে।
আরও পড়ুন, রেশন কার্ড দিয়ে যারা প্রতিমাসে বিনামূল্যে রেশন তোলেন, তাদের জন্য সরকারের জরুরী সতর্কবার্তা
শ্রমশ্রী প্রকল্প ও পরিযায়ী শ্রমিক লোন
পুরুলিয়ার মতো জেলায় প্রতিবছর অনেক শ্রমিক বাইরে চলে যান বলে এই প্রকল্প বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এখানকার পরিবারগুলোর উপার্জন মূলত বাইরে থাকা সদস্যদের উপর নির্ভর করে। এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে তারা নতুন আশা দেখছেন। শ্রমিকরা ঘরে ফিরে এলে পরিবারের স্থিতি মজবুত হবে। রাজ্য সরকারের এই পরিযায়ী শ্রমিক লোন প্রকল্প অন্য জেলাতেও ছড়িয়ে পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক লোন প্রকল্প এখন স্বনির্ভরতার একটি মডেল হয়ে উঠতে পারে।
Loan Scheme for Migrant Workers
এই প্রকল্প সফল হলে বাংলার অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। শ্রমিকরা নিজের এলাকায় ব্যবসা করলে স্থানীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। তবে আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করতে আরও প্রচার দরকার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোন প্রকল্পে আরও শ্রমিকদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। চ্যালেঞ্জ হলো যাতে লোন ফেরত দেওয়ার চাপ না হয়। বাংলার শ্রমিকরা এতে করে নতুন জীবন শুরু করতে পারবেন।
সামাজিক প্রভাব এবং সরকারী ভর্তুকি
পরিযায়ী শ্রমিক লোন প্রকল্প সমাজে সমতা আনতে সাহায্য করবে। অনেক পরিবার এখন আতঙ্কমুক্ত হয়ে উঠছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা যেতে পারে। এতে করে শ্রমিকদের ব্যবসা সফল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই উদ্যোগ অন্য রাজ্যের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে। বাংলার অন্য রাজ্য থেকে কাজ ছেড়ে আসা শ্রমিকরা এখন স্বপ্ন দেখছেন নিজের গ্রামে সফলতার।
