সারা দেশে Aadhaar App চালু করে ভারতের আধার পরিষেবা ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে চলেছে ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (UIDAI). নাগরিকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে গত ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে একটি নতুন এবং অত্যাধুনিক আধার অ্যাপ লঞ্চ (Aadhaar App) করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই অ্যাপটির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আধার কার্ড সংক্রান্ত যাবতীয় ঝক্কি অনেকটাই কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা নতুন অ্যাপের বৈশিষ্ট্য এবং এর প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
UIDAI launch new Aadhaar App for Aadhaar Card Service
আধার কার্ড শুধুমাত্র একটি পরিচয়পত্রই নয়, বর্তমানে এর মাধ্যেম বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা ও বিভিন্ন একাউন্টের লিঙ্কেজ হয়ে থাকে। তাই প্রায় সকলেরই আধার পরিষেবার প্রয়োজন পড়ে। আর সেই কথা মাথায় রেখেই কেন্দ্র সরকার Aadhaar App চালু করেছে। যেখানে একটি অ্যাপ এর মাধ্যমেই সমস্ত পরিষেবা পাওয়া যাবে।
আধার পরিষেবায় ডিজিটাল বিপ্লবের সূচনা
আধার কার্ড বর্তমানে প্রতিটি ভারতীয় নাগরিকের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংকের কাজ থেকে শুরু করে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে এই কার্ডের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। তবে আধার কার্ডের তথ্য আপডেট বা সংশোধনের জন্য আধার সেন্টারে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানো বেশ বিরক্তিকর। সেই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যেই কেন্দ্র সরকার এই উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর অ্যাপটি নিয়ে এসেছে। ২৮ জানুয়ারি এই অ্যাপের পূর্ণাঙ্গ সংস্করণটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে আধার পরিষেবার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে।
নতুন আধার অ্যাপের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ
নতুন এই অ্যাপ্লিকেশনটি অত্যন্ত ব্যবহারকারীবান্ধব এবং আধুনিক ফিচারে ঠাসা থাকবে। ব্যবহারকারীরা এখন থেকে ঘরে বসেই আধারের নাম, ঠিকানা বা জন্ম তারিখ সংশোধন করতে পারবেন। এমনকি নতুন আধার কার্ডের জন্য আবেদন করার প্রাথমিক প্রক্রিয়াটিও এই অ্যাপের মাধ্যমে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। আধার কার্ডের ফিজিক্যাল কপি বা জেরক্স সাথে নিয়ে ঘোরার দিন এবার শেষ হতে চলেছে। ডিজিটাল আধার কার্ডের মাধ্যমেই যেকোনো জায়গায় পরিচয়পত্র হিসেবে প্রমাণ দেওয়া যাবে। মোবাইল নম্বর পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজও এখন হাতের মুঠোয় চলে এসেছে।
তথ্যের সুরক্ষা ও গোপনীয়তায় বিশেষ জোর
এই অ্যাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং আকর্ষণীয় দিক হলো এর উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ডিজিটাল যুগে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিয়ে অনেকেই উদ্বেগের মধ্যে থাকেন। UIDAI জানিয়েছে, এই অ্যাপে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষার জন্য বিশেষ ‘প্রাইভেসি কন্ট্রোল’ ফিচার থাকছে। কোনো জায়গায় পরিচয়পত্র দেখানোর সময় ব্যবহারকারী নির্ধারণ করতে পারবেন তিনি কতটুকু তথ্য শেয়ার করবেন। অর্থাৎ, সম্পূর্ণ আধার নম্বর বা ব্যক্তিগত ডিটেইলস না দেখিয়েও কাজ হাসিল করা সম্ভব। এর ফলে তথ্য চুরির ভয় বা সাইবার জালিয়াতির সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে।
সাধারণ মানুষের জন্য বর্ধিত সুবিধাসমূহ
সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এই অ্যাপে অনেকগুলো ভাষাগত বিকল্প রাখা হতে পারে। গ্রামীণ এলাকার মানুষ যাতে সহজে এটি ব্যবহার করতে পারেন, সেই দিকেও নজর রাখা হয়েছে। অ্যাপটির ইন্টারফেস খুবই সহজ করা হয়েছে যাতে স্মার্টফোন ব্যবহারে খুব দক্ষ না হলেও এটি চালানো যায়। এখন থেকে ভার্চুয়াল আইডি (VID) তৈরি করা বা আধার লক/আনলক করা অনেক বেশি সহজ হবে। বায়োমেট্রিক তথ্য সুরক্ষিত রাখতে ব্যবহারকারীরা অ্যাপ থেকেই তা লক করে রাখতে পারবেন। এই পরিষেবাগুলো আগে ওয়েবসাইটে গিয়ে করা বেশ সময়সাপেক্ষ কাজ ছিল।
কীভাবে ব্যবহার করবেন এই নতুন অ্যাপ?
নতুন প্রযুক্তির এই সুবিধা পেতে ব্যবহারকারীকে স্মার্টফোনে অ্যাপটি ইনস্টল করতে হবে। অ্যাপ স্টোর বা প্লে-স্টোর থেকে এটি ডাউনলোড করার পর আধার নম্বর দিয়ে রেজিস্টার করতে হবে। নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি আসবে যা যাচাই করার পর লগ-ইন সফল হবে। একবার প্রোফাইল তৈরি হয়ে গেলে ব্যবহারকারী তার ডিজিটাল আধার কার্ড সেখানে দেখতে পাবেন। প্রয়োজনীয় যেকোনো সংশোধনের জন্য নির্ধারিত নথিপত্র আপলোড করে আবেদন জানানো যাবে। ডিজিটাল আধার কার্ডটি সরাসরি কিউআর (QR) কোডের মাধ্যমে অন্য জায়গায় শেয়ার করার সুবিধাও থাকবে।
আরও পড়ুন, খুচরোর অভাব মেটাতে বাজারে আসছে নতুন এটিএম মেশিন। বিনামূল্যে কি কি সুবিধা পাবেন দেখুন
ডিজিটাল ইন্ডিয়ার পথে আরও এক ধাপ
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ গড়ার লক্ষ্যে এটি একটি বড় পদক্ষেপ। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার করে সরকারি পরিষেবা সাধারণ মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দেওয়াই এর মূল লক্ষ্য। আধার সেন্টারের দীর্ঘ লাইন এবং দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে এই অ্যাপ কার্যকর ভূমিকা নেবে। দেশের কোটি কোটি মানুষের সময় এবং পরিশ্রম দুটোই এই অ্যাপের মাধ্যমে সাশ্রয় হবে। এই উদ্যোগটি তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে ভারতের সক্ষমতাকে বিশ্বদরবারে আরও একবার তুলে ধরবে। ডিজিটাল সাক্ষরতা বৃদ্ধিতেও এই ধরনের অ্যাপগুলো সাধারণ মানুষকে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করে।
উপসংহার: আধার পরিষেবার ভবিষ্যৎ
পরিশেষে বলা যায়, ২৮ জানুয়ারি লঞ্চ হওয়া এই নতুন আধার App টি একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। নাগরিক নিরাপত্তার সাথে আপস না করেই দ্রুত পরিষেবা প্রদান নিশ্চিত করাই এর সার্থকতা। ব্যবহারকারীরা এখন থেকে তাদের পকেটে থাকা স্মার্টফোনেই একটি আধার কেন্দ্র বহন করবেন। তবে অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে এবং ওটিপি শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে এই প্ল্যাটফর্মটি ভারতীয় নাগরিকদের জীবনকে আরও সহজ ও গতিশীল করে তুলবে। আধার পরিষেবার এই বিবর্তন আগামী দিনে আরও নতুন সুযোগ তৈরি করবে।