শিক্ষার অধিকার আইন অনুযায়ী (RTE 2009) সমস্ত শিক্ষকদের টেট পাশ বাধ্যতামূলক (Compulsory TET Pass for All Teachers). সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের একটি মামলার প্রেক্ষিতে রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India) তথা দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এই রায় মহারাষ্ট্রের একটি মামলার হলেও প্রভাবিত হবেন সারা দেশের সমস্ত সরকারি ও সরকারি সাহায্যপোষিত স্কুলের শিক্ষকেরা। কাদের টেট পাশ বাধ্যতামূলক (TET Mandatory) বা করতে হবে, কাদের ছাড় দেওয়া হয়েছে, কত সালের পর চাকরি পেলে এই রায় তাদের মানতে হবে, এবং এই রায় না মানলে কি হবে, পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষকদের এই রায় মানতে হবে কিনা? বিস্তারিত জেনে নিন।
Supreme Court Verdict on Compulsory TET Pass for All Teachers
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে দেশের সমস্ত শিক্ষক শিক্ষিকাদের টেট পাশ বাধ্যতামূলক (TET Mandatory) হওয়া নিয়ে কার্যত এখন সময়ের অপেক্ষা। কারণ এই রায়টি মহারাষ্ট্রের একটি মামলার হলেও, শীর্ষ আদালতের এজলাসে ওঠায় এই রায় সারা দেশেই কার্যকর হবে। অতীতেও তাঁর প্রমাণ মিলেছে। ২০১৫ সালে হওয়া একটা মামলায় RTE 2009 এর একটি মামলাতে শিক্ষক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দিয়েছিলো। সেই মামলার রায় সারা দেশে ৪ বছরের মধ্যে কার্যকর হয়, এবং ২০১৯ সালের ৩১শে মার্চের মধ্যে সকল শিক্ষকদের শিক্ষক প্রশিক্ষণ (BEd/DElEd) করিয়ে নেয় সারা দেশের রাজ্য শিক্ষা দপ্তর থেকে। তাই কেন্দ্র যদি নির্দেশ দেয়। এই আইন কার্যকর করতে বেশি সময় লাগবে না।
কোন শিক্ষকদের টেট পাশ বাধ্যতামূলক?
শিক্ষার অধিকার আইন ২০০৯ (RTE 2009) সাল থেকে ধরা হয় এবং ২০১০ সাল থেকে চালু হয়। তাই ২০১০ সাল এবং তাঁর আগে যে সমস্ত শিক্ষক শিক্ষিকা চাকরি পেয়েছেন, তাদের সকলকে টেট পাশ (Compulsory TET Pass) করতে হবে। অর্থাৎ ২০১১ সালে চাকরি পেলে তাদের জন্য এই নির্দেশ নয়। তবে ২০১১ সালের পর থেকে অধিকাংশ শিক্ষক ই TET/CTET না NCTE এর কোনও না কোনও পরীক্ষা (Teacher Eligibility Test) দিয়েই চাকরি পেয়েছেন। সুতরাং রাজ্য সরকারের কাছে এই নির্দেশ আসার আগে কেন্দ্র সরকার কে প্রথমে এই বিষয়ে নীতিমালা প্রস্তুত করতে হবে, তারপর গেজেট নোটিফিকেশন হবে। তাঁর পরই সঠিক নিয়ম কানুন জানা যাবে। তার আগে শিক্ষক শিক্ষিকারা অহেতুক টেনশন না করাই ভালো।
কাদের ছাড় দেওয়া হয়েছে?
তবে টেট পাশ না হলেও এই আইনের বাইরে থাকবেন, বেশ কিছু ক্যাটাগরির শিক্ষক শিক্ষিকা।
- যেসমস্ত শিক্ষক শিক্ষিকা ক্যাজুয়াল স্টাফ
- ICDS ও শিক্ষা বন্ধু
- যে সমস্ত স্থায়ী শিক্ষক শিক্ষিকার ৫ বছর বা তার কম সময় চাকরি আছে।
- যেসমস্ত শিক্ষক ইতিমধ্যে TET পাস করেছেন, তাদের আবার পরীক্ষা দিতে হবে না
এই রায় না মানলে কি হবে?
আগামী ২ বছরের মধ্যে সমস্ত শিক্ষকদের টেট পাশ বাধ্যতামূলক (Compulsory TET Pass) করেছে মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট। এই রায় অনুযায়ী (TET Compulsory), যদি এই সময়ের মধ্যে কোনও শিক্ষক বা শিক্ষিকাগণ উক্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হন তবে, তাদের হয় ইস্থফা দিতে হবে, অথবা স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করতে হবে। তবে এই বিষয়ে ছাড় দেওয়া হবে কিনা, সেটা স্পষ্ট নয়। কারণ পরীক্ষা দিলেই যে সবাই পাশ করবে, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। যেমন NIOS এর DElEd পরীক্ষায় বেশ কিছু শিক্ষক অকৃতকার্য হয়েছিলেন, তাদের অনেকেই বহু বছর ধরে অপ্রশিক্ষিত হিসাবেই বেতন পেয়েছেন। তাদের যে পুনরায় পরীক্ষা নিয়ে ফের পাশ করার সুযোগ দিতে হবে, সেই ভাবনা ভাবতেই সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ বেমালুম ভুলে যান। এর পর কি হয়েছিলো, সকলেই সেই বিষয়ে অবগত।
আরও পড়ুন, আবার কমলো রান্নার গ্যাসের দাম। পশ্চিমবঙ্গে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের দাম কতো হলো?
শিক্ষকদের চিন্তার মূল কারণ
টেট পাশ বাধ্যতামূলক রায় ঘোষণার (Compulsory TET Pass) পরই, কার্যত অনেক শিক্ষক শিক্ষিকাগণ চিন্তায় পড়ে গেছেন। প্রথমত যেসমস্ত শিক্ষকদের জন্য এই নির্দেশ (TET Mandatory), তারা বেশিরভাগই ৫০ এর ঊর্ধ্বে বয়স। তাদের অনেকেরই ১৫০ মার্ক ও ৫টি বিষয়ের পরীক্ষা দেড় ঘন্টার মধ্যে দেওয়ার মতো মানসিক বল বা আত্মবিশ্বাস নেই। তবে তার মানে কিন্তু এটা প্রমাণ হয়না, তিনি অযোগ্য, এটা অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। শিক্ষকদের একাংশই প্রশ্ন তুলছেন, মহামান্য আইন প্রণেতাদের চাকরির ৩০ বছর পর যদি পুনরায় যোগ্যতার প্রমানে জুডিশিয়াল সার্ভিসের পরীক্ষা দিতে বলা হয়, তাহলে কজন পাশ করবেন? সমস্ত ফেসবুক, ইন্সটাগ্রামে ছয়লাপ হয়েছে, এই পোষ্টে। শিক্ষক অশিক্ষক, সকলেই শেয়ার করছেন এই পোস্ট।
পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর হবে?
এই মামলাটি “Anjuman Ishat-E-Talim Trust vs State of Maharashtra and Others” অর্থাৎ মহারাষ্ট্রের একটি মামলা। এই মামলায় মহামান্য বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি মনমোহনের বেঞ্চ একাধিক সিভিল মামলার শুনানি করতে গিয়ে এই রায় দেন। যেহেতু এটি সুপ্রিম কোর্টের রায়, তাই এই রায়ের পর সংশ্লিষ্ট দপ্তর তথা কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক, এটা নিয়ে অবশ্যই পর্যালোচনা করবেন। এবং NCTE এর নিয়ম মেনে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত হবে। কারণ সুপ্রিম কোর্ট এখনও সমস্ত রাজ্যে এই আইন কার্যকর করতে আলাদা করে নির্দেশ দেন নি। তাই যতক্ষণ পর্যন্ত অর্ডার আসছে, তার আগে কোনও রাজ্যেই চালু হবে না। আর কেন্দ্র আইন করলে পশ্চিমবঙ্গেও চালু হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। অতীতেও শিক্ষক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে এটাই হয়েছিলো।
আরও পড়ুন, সরকারি কর্মীদের টাকার দরকার হলেই, এইভাবে টাকা পাবেন।
পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষকদের কি করণীয়?
সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত না হওয়ার আগে শিক্ষকদের অযথা আতংকিত হওয়ার কারণ নেই। এই নিয়ম চালু হলেও, NIOS এর DElEd কোর্সে যেমন শিক্ষকদের যেভাবে কোর্স করানো হয়েছিলো, বা ব্রিজ কোর্স করানো হয়েছিলো, তেমন সুবিধা এখানেও শিক্ষকদের দেওয়া হবে। তাই আগে অর্ডার হওয়া পর্যন্ত সকলে অপেক্ষা করুন। আর পরীক্ষা (Teacher Eligibility Test) দিতে হলেও শিক্ষকেরা অবশ্যই সকলেই পাশ করবেন, সেই শুভাশিস রইলো। অহেতুক টেনশনে রয়েছেন অনেকেই, তাই সকলের জ্ঞাতার্থে এই প্রতিবেদনটি সকল শিক্ষকদের গ্রুপে শেয়ার করার অনুরোধ রইলো। এই বিষয়ে আরও তথ্য পেতে EK24 News ফলো করুন।