Salary Hike: পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক সরকারি কর্মীদের ফের বেতনবৃদ্ধির ঘোষণা। কাদের কত টাকা বেতন বাড়লো?

শারদোৎসবের ঠিক আগেই পশ্চিমবঙ্গের চুক্তিভিত্তিক ও বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কর্মীদের জন্য Salary Hike বা বেতনবৃদ্ধি নিয়ে বড় ঘোষণা সামনে এল। রাজ্যজুড়ে সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে সরকারি তরফে আর্থিক সহায়তার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। গ্রামীণ স্তরে প্রাণিসম্পদ বিকাশ ও স্বাস্থ্য পরিষেবায় যুক্ত কর্মীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ মেটাতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের কোটি কোটি মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি আর্থিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। পুজোর আগে সরকারি কর্মী ও চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের কাদের কত টাকা বেতন বাড়লো (Salary Hike), এবং অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে সর্বশেষ আপডেট বিস্তারিত জেনে নিন।

Salary Hike: পশ্চিমবঙ্গের কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি

নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরই সরকারি কর্মীদের ডিএ ঘোষণা ও সপ্তম বেতন কমিশন চালু থেকে শুরু করে, পার্শ্ব শিক্ষক, সিভিক ভলান্টিয়ার ও বিভিন্ন চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের জন্য একাধিক ঘোষণা করেছে। এছাড়া লক্ষ্মীর ভান্ডারের পরিবর্তে অন্নপূর্ণা যোজনা চালু হয়েছে। আর বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৬৫ লক্ষ মহিলাকে এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে দাবী আর প্রাপ্তির পার্থক্য কতটা এবং কাদের জন্য কি ঘোষণা হলো, সেই প্রশ্নের উত্তর খুজতেই আজকের এই প্রতিবেদন।

কাদের কত টাকা বাড়ল?

নতুন সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবার সবচেয়ে বড় সুখবর পেয়েছেন রাজ্যের প্রাণীমিত্রা কর্মীরা। প্রাণিসম্পদ দপ্তরের অধীনে কাজ করা এই কর্মীদের মাসিক বেতন একধাক্কায় ২০০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এর পাশাপাশি এই কর্মীরা রাজ্য সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনার মাসিক ভাতাও নিয়মিত পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। নিয়ম অনুযায়ী মাসিক আয় দশ হাজার টাকার কম হওয়ায় তারা এই বাড়তি সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন না। ফলে সব মিলিয়ে প্রাণীমিত্রা কর্মীদের মাসিক আর্থিক প্রাপ্তি আগের তুলনায় অনেকটাই বৃদ্ধি পেল।

ইতিমধ্যে কাদের বেড়েছে?

বর্তমান প্রশাসনের অধীনে এর আগেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের কর্মীদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধি করা হয়েছিল। গত আগস্ট মাস থেকেই অঙ্গনওয়াড়ি তথা আইসিডিএস এবং আশা কর্মীদের বেতন ৫০০০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের প্যারা টিচারদের আর্থিক সুবিধাও আগের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে। একই সাথে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা সহায়তায় থাকা সিভিক ভলান্টিয়ারদের ভাতার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতাও (Dearness Allowance) ধাপে ধাপে বাড়িয়ে কেন্দ্রীয় হারের কাছাকাছি আনার চেষ্টা চলছে। নতুন সরকার আসার পরই সপ্তম বেতন কমিশন গঠিত হয়েছে।

ঘোষণা ও দাবীর পার্থক্য

কর্মীদের সংগঠনগুলি অবশ্য দীর্ঘদিন ধরে আরও স্থায়ীকরণ এবং সম্মানজনক বেতনের দাবি জানিয়ে আসছিল। প্রাণীমিত্রা ও আশা কর্মীদের মূল দাবি ছিল সরকারি কর্মচারীর পূর্ণ মর্যাদা এবং স্থায়ী পে-স্কেলের সুবিধা। সরকার যে হারে বেতন বৃদ্ধি করেছে, তা কর্মীদের দীর্ঘদিনের অভাব সম্পূর্ণ না মেটালেও কিছুটা সুরাহা দেবে। সংগঠনের একাংশের মতে, বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির বাজারে এই বৃদ্ধি ভালো হলেও স্থায়ী সমাধানের লড়াই জারি থাকবে। তবে পুজোর মুখে এই বাড়তি টাকা হাতে পাওয়াকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন, পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের জন্য দ্বিগুন বরাদ্দ বাড়লো।

পুজো বোনাস কাদের বেড়েছে?

উৎসবের মরসুমে শুধু মাসিক বেতন বৃদ্ধিই (Salary Hike) নয়, উৎসব অনুদান বা বোনাস নিয়েও কর্মীদের আগ্রহ তুঙ্গে থাকে। বিশেষ করে চুক্তিভিত্তিক কর্মী, দৈনিক মজুরিভিত্তিতে কর্মরত শ্রমিক এবং প্রকল্প কর্মীদের জন্য বোনাসের অঙ্ক বাড়ানো হয়েছে। আইসিডিএস সহায়িকা, আশা কর্মী এবং প্রাণীমিত্রারাও পুজো উপলক্ষে বাড়তি আর্থিক সুবিধা ও উপহারের তালিকায় রয়েছেন। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার উৎসব অনুদানের আর্থিক বরাদ্দ অনেকটাই বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে সবাই পরিবার নিয়ে আনন্দ করতে পারেন। গ্রামীণ কর্মীরা যাতে কোনোভাবেই বঞ্চিত না হন, সেই নির্দেশও প্রশাসনের প্রতিটি দপ্তরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

১৬৫০০০০০ মহিলাকে অন্নপূর্ণা যোজনা

রাজ্যজুড়ে নারী ক্ষমতায়ন ও স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে বড় প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়িত হচ্ছে অন্নপূর্ণা যোজনা। এই সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের মোট ১ কোটি ৫৬ লক্ষ থেকে প্রায় ১ কোটি ৬৫ লক্ষ যোগ্য মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অর্থ পৌঁছানো শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন তথা বিশেষ অন্নপূর্ণা দিবসের মঞ্চ থেকেই এই সুবিধার সূচনা করা হয়। যেসব পরিবারে সরকারি স্থায়ী চাকরি নেই এবং মাসিক আয় নির্দিষ্ট সীমার নিচে, তারা সবাই এই সুবিধা পাচ্ছেন। গ্রামীণ অর্থনৈতিক পরিকাঠামো মজবুত করতে এবং মহিলাদের হাতে সরাসরি অর্থ তুলে দিতে এই প্রকল্প নজির গড়েছে।

উপসংহার

পুজোর মুখে বেতন বৃদ্ধি (Salary Hike) এবং অন্নপূর্ণা যোজনার প্রসার রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন জোয়ার আনবে। প্রাণীমিত্রা এবং আশা কর্মীদের মতো মাঠপর্যায়ের কর্মীরা এতদিনে তাদের শ্রমের কিছুটা বাড়তি মূল্যায়ন পেলেন। দীর্ঘদিনের দাবির সাথে কিছুটা ফারাক থাকলেও এই বাড়তি উপার্জন বর্তমান বাজারে অনেক পরিবারকেই স্বস্তি দেবে। সরকারি এই পদক্ষেপ উৎসবের দিনে রাজ্যের প্রান্তিক মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে নিঃসন্দেহে বড় ভূমিকা নেবে। আগামী দিনে কর্মীদের অন্যান্য দাবিদাওয়া কতখানি পূরণ হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের সংশ্লিষ্ট মহল।

শেয়ার করুন: Sharing is Caring!