Personal Loan: লোন নেওয়ার আগে সাবধান! ব্যক্তিগত ঋণ নিয়ে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের নতুন নিয়ম। না জানলে আর্থিক ক্ষতি হবে আপনারই

জরুরী প্রয়োজনে হটাত টাকার দরকার হলে ব্যাংক বা কোনও অর্থলগ্নি সংস্থা থেকে Personal Loan বা ব্যক্তিগত ঋণ নিতে দেখা যায় অনেককেই। আর কারো কাছে হাত না পেতে বা সুদে টাকা ধার না করে, পার্সোনাল লোন নেওয়া যথেষ্ট সম্মানীয় এবং আইনসম্মত সিদ্ধান্ত। তাই প্রয়োজন মতো ব্যাংক বা অনুমোদিত অরথিক সংস্থা থেকে যেকোনো প্রকার লোন নেওয়া যেতেই পারে। তবে নিয়ম না জেনে পার্সোনাল লোন বা যেকোনো লোন নিলে আর্থিক ক্ষতি ও হতে পারে। তাই যেকোনো প্রকার ঋণ নেওয়ার আগে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের নিয়ম (RBI Rules) জেনে নিন।

RBI Rules on Instant Personal Loan

২০২৫ সালে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (RBI) পার্সোনাল লোনের নিয়মে বড় পরিবর্তন এনেছে, যা ঋণগ্রহীতাদের জন্য স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করছে। ২০২৫ অর্থবছর থেকে কার্যকর এই নির্দেশিকাগুলি ব্যাংক, NBFC এবং ডিজিটাল ঋণদাতাদের কার্যপ্রণালীকে আরও সুনির্দিষ্ট করেছে। এই নিয়মগুলি ঋণগ্রহীতাদের সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে আর্থিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে। লোন নেওয়ার প্রক্রিয়া এখন সহজ এবং সুরক্ষিত হয়েছে। এই প্রকল্প ঋণগ্রহীতাদের অধিকার রক্ষা এবং লুকানো খরচ থেকে মুক্তি দেবে। এই প্রতিবেদনে আমরা নতুন নিয়মগুলি সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করব।

ব্যক্তিগত ঋণে স্বচ্ছতা – কী ফ্যাক্ট স্টেটমেন্ট (KFS)

ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছে যে ব্যক্তিগত লোন অনুমোদনের আগে একটি এক পৃষ্ঠার কী ফ্যাক্ট স্টেটমেন্ট (কেএফএস) প্রদান করতে হবে। এই নথিতে ব্যক্তিগত ঋণ সুদের হার (Personal Loan interest rate), ইএমআই, ঋণের পরিমাণ, মেয়াদ এবং সমস্ত চার্জ স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে। এটি ঋণগ্রহীতাদের বিভিন্ন ঋণের প্রস্তাব তুলনা করতে সাহায্য করবে। বার্ষিক শতাংশ হার (APR) সহ সমস্ত খরচ প্রকাশ করতে হবে। এর ফলে লুকানো চার্জের আশঙ্কা কমবে। এই স্বচ্ছতা ঋণগ্রহীতাদের জন্য একটি নিরাপদ আর্থিক পরিবেশ তৈরি করছে।

ক্রেডিট স্কোর বা CIBIL Score মূল্যায়ন

আরবিআই লোন-টু-ইনকাম (LTI) রেশিও ৫০% নির্ধারণ করেছে, অর্থাৎ মাসিক ইএমআই আপনার আয়ের ৫০% এর বেশি হতে পারবে না। ঋণদাতাদের এখন বিদ্যমান ঋণ যাচাই করতে হবে, স্ব-ঘোষণার উপর নির্ভর করা যাবে না। প্রতি ১৫ দিনে ক্রেডিট রিপোর্ট আপডেট করতে হবে, যা আপনার আর্থিক আচরণ দ্রুত প্রতিফলিত করবে। উচ্চ ক্রেডিট স্কোর (৭৫০ বা তার বেশি) থাকলে সহজে ঋণ পাওয়া যাবে। একাধিক ঋণের আবেদন আপনার ক্রেডিট প্রোফাইলের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই নিয়ম আর্থিক শৃঙ্খলা প্রচার করে এবং অতিরিক্ত ঋণের ঝুঁকি কমায়।

ডিজিটাল ঋণের জন্য সুরক্ষা

ডিজিটাল ঋণ প্ল্যাটফর্মে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। ঋণদাতাদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ বা শেয়ার করার জন্য স্পষ্ট সম্মতি নিতে হবে। সমস্ত তথ্য ভারতে সংরক্ষণ করতে হবে, বিদেশে স্থানান্তর নিষিদ্ধ। ঋণ বিতরণের আগে একটি কুলিং-অফ পিরিয়ড বাধ্যতামূলক, যা ঋণগ্রহীতাদের চিন্তা করার সময় দেয়। স্বয়ংক্রিয় ঋণ সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হতে হবে। এই নিয়ম ডিজিটাল ঋণকে আরও নিরাপদ এবং ন্যায্য করে তুলছে।

আরও পড়ুন, বন্ধন ব্যাংকের ১০ বছর পূর্তিতে গ্রাহকদের বিরাট উপহার।

ন্যায্য ঋণ আদায় প্রক্রিয়া

আরবিআই ঋণ আদায়ে কঠোর নির্দেশিকা জারি করেছে। রিকভারি এজেন্টদের নির্দিষ্ট সময়সূচী এবং পেশাদার আচরণ মেনে চলতে হবে। হয়রানি বা ভয় দেখানোর মতো অনৈতিক পদ্ধতি নিষিদ্ধ। ঋণগ্রহীতাদের ঋণ পরিশোধের জন্য যুক্তিসঙ্গত সুযোগ দেওয়া হবে। আইনি পদক্ষেপের আগে সব যুক্তিসঙ্গত প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে হবে। অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য ৩০ দিনের মধ্যে সমাধানের ব্যবস্থা থাকবে।

ঋণগ্রহীতার দায়িত্ব – আর্থিক শৃঙ্খলা ও নথিপত্র

Personal Loan ঋণগ্রহীতাদের সঠিক নথিপত্র জমা দিতে হবে এবং ক্রেডিট স্কোর ৭৫০ বা তার বেশি রাখতে হবে। সময়মতো ইএমআই পরিশোধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিলম্বিত পেমেন্ট জরিমানা বা আইনি পদক্ষেপের কারণ হতে পারে। প্রিপেমেন্ট বা ফোরক্লোজারের সুযোগ রয়েছে, তবে চার্জ সম্পর্কে আগে থেকে জেনে নিতে হবে। নেগোসিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টের অধীনে ডিফল্টের ফলে মামলা হতে পারে। আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখলে ঋণ পাওয়া সহজ হবে।

২০২৫ সালের পার্সোনাল লোনের নতুন নিয়ম

  • লোন-টু-ইনকাম রেশিও: মাসিক ইএমআই আয়ের ৫০% এর বেশি হবে না।
  • ক্রেডিট স্কোর আপডেট: প্রতি ১৫ দিনে ক্রেডিট রিপোর্ট আপডেট করতে হবে।
  • ডেটা গোপনীয়তা: তথ্য ব্যবহারে সম্মতি এবং ভারতে সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক।
  • কুলিং-অফ পিরিয়ড: ঋণ বিতরণের আগে অপেক্ষার সময়।
  • ঋণ আদায়: নৈতিক পদ্ধতিতে যুক্তিসঙ্গত প্রচেষ্টার পর আইনি পদক্ষেপ।
  • অভিযোগ নিষ্পত্তি: ৩০ দিনের মধ্যে সমাধান, এসক্যালেশনের সুযোগ।

আরও পড়ুন, রিলায়েন্স জিও গ্রাহকদের কম সুদে লোন দিচ্ছে। নিয়ম জেনে নিন।

উপসংহার

ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের এর ২০২৫ সালের পার্সোনাল লোন নিয়ম ঋণগ্রহীতাদের জন্য একটি নিরাপদ ও স্বচ্ছ পরিবেশ তৈরি করেছে। এই নির্দেশিকাগুলি স্বচ্ছতা, ন্যায্য আদায় প্রক্রিয়া এবং ডেটা সুরক্ষার উপর জোর দিয়েছে। Personal Loan ঋণগ্রহীতাদের দায়িত্ব হল সঠিক তথ্য প্রদান এবং আর্থিক শৃঙ্খলা মেনে চলা। এই নিয়মগুলি ঋণ প্রক্রিয়াকে আরও নির্ভরযোগ্য ও বোধগম্য করেছে। সঠিক জ্ঞান এবং দায়িত্বের সঙ্গে ঋণ নিলে আর্থিক স্বাধীনতা অর্জন করা সম্ভব। আরবিআই-এর এই পদক্ষেপ ভারতের ঋণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করছে।

শেয়ার করুন: Sharing is Caring!