PORD Scheme: পোস্ট অফিসেও লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প চালু হলো। পুরুষ মহিলা সবাই প্রতিমাসে টাকা পাবেন

ভারতীয় ডাক বিভাগের PORD Scheme তথা Post Office Recurring Deposit Scheme এমন একটি সঞ্চয় প্রকল্প যেখানে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই মাসিক সঞ্চয় করে প্রতিমাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা পেতে পারেন। যার জন্য এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে, পোস্ট অফিস লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প। এই পোস্ট অফিস রেকারিং ডিপোজিট স্কিম টি মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য সত্যিই আকর্ষণীয়। অনেকে এটিকে ‘পোস্ট অফিস লক্ষ্মীর ভাণ্ডার স্কিম’ বলে ডাকছেন কারণ এতে সুদসহ মোট রিটার্ন প্রতিমাসে পাওয়া যেতে পারে।

PORD Scheme: Post Office Recurring Deposit Scheme Details

পোস্ট অফিস রেকারিং ডিপোজিট স্কিম তথা PORD Scheme হলো একটি নির্ভরযোগ্য সঞ্চয় প্রকল্প। আপনি প্রতিমাসে মাসে ন্যূনতম ১০০ টাকা থেকে শুরু করতে পারেন। তবে নিয়মিত ১০,০০০ টাকা মাসিক জমা করলে ফলাফল আরও ভালো হয়। সুদের হার বর্তমানে ৫.৮% চক্রবৃদ্ধি হিসেবে দেওয়া হচ্ছে। মেয়াদ ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে বেছে নেওয়া যায়। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ যা অবসরের পর আর্থিক সুরক্ষা দেয়।

পোস্ট অফিস রেকারিং ডিপোজিট স্কিম হিসাব

দৈনিক ৩৩৩ টাকা মানে মাসে প্রায় ১০,০০০ টাকা। বছরে তা দাঁড়ায় ১,২০,০০০ টাকা। ১০ বছরে আসল টাকা হয় ১২ লাখ। এর সঙ্গে সুদ যোগ হলে মোট পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৬,২৬,৪৭৬ টাকা। সুদের অংশটি ৪,২৬,৪৭৬ টাকা। এই হিসেবটি চক্রবৃদ্ধি সুদের ভিত্তিতে করা হয়েছে।

পোস্ট অফিস লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের সুবিধা

যদিও এই প্রকল্প পুরুষ ও মহিলা সকলেই আবেদন করতে পারেন। তবে, গৃহিণীদের কথা মাথায় রেখে বর্তমানে প্রচার করা হচ্ছে। মাসিক কিস্তি দিয়ে সঞ্চয় করা সহজ। কোনো ব্যাংকের মতো জটিল কাগজপত্র লাগে না। পোস্ট অফিসে অ্যাকাউন্ট খোলা যায় খুব সহজে। সরকারি স্কিম হওয়ায় টাকা ১০০% নিরাপদ। ভবিষ্যতে মাসিক আয়ের উৎস তৈরি করা যায়।

মাসিক আয়ের সুযোগ

১০ বছর পর মোট টাকা একসঙ্গে পাওয়া যায়। এরপর পোস্ট অফিস মান্থলি ইনকাম স্কিম বা POMIS এর মাধ্যমে প্রতিমাসে ১২,০০০ টাকা পর্যন্ত পেতে পারেন। আর মূলত এই কারনেই এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে, পোস্ট অফিস লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প। এটি অবসরপ্রাপ্তদের জন্যও প্রতিমাসের খরচ চালানোর মতো একটি আদর্শ স্কিম। এতে কোনো ঝুঁকি নেই, রিটার্নও স্থিতিশীল। বাজারের ওঠানামা এখানে প্রভাব ফেলে না। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার জন্য উপযুক্ত।

আরও পড়ুন, পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত কৃষক বন্ধুদের জন্য বিরাট সুখবর। একাউন্টে ঢুকবে ডবল টাকা। বেড়ে গেল ধানের সহায়ক মূল্য

যোগ্যতা ও আবেদন প্রক্রিয়া

ভারতের যেকোনো নাগরিক এই প্রকল্পে যোগ দিতে পারেন। বয়সের কোনো বাধা নেই। নাবালকের জন্য অভিভাবক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। একাধিক অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। পোস্ট অফিস সেভিংস অ্যাকাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক নয়। তবে থাকলে সুবিধা হয়।

কীভাবে আবেদন করবেন?

  • নিকটবর্তী পোস্ট অফিসে গিয়ে ফর্ম পূরণ করুন।
  • পরিচয়পত্র, ঠিকানার প্রমাণ ও ছবি জমা দিন।
  • প্রথম কিস্তির টাকা জমা করুন।
  • পাসবুক পেয়ে যাবেন।
  • অনলাইনে আবেদনের সুবিধা এখনও চালু হয়নি।
  • তবে শিগগিরই চালু হবে বলে জানা গেছে।

click here red button

কেন এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করবেন?

পোস্ট অফিসের এই স্কিমে সরকারি গ্যারান্টি থাকে। ব্যাংকের তুলনায় সুদের হার কিছুটা কম হলেও নিরাপত্তা বেশি। কোনো ঝুঁকি নেই। মধ্যবিত্তদের জন্য এটি সেরা বিকল্প। দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলে। ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তামুক্ত থাকা যায়।

উপসংহার

পোস্ট অফিস লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প হলো আসলে একটি RD Scheme বা সাধারণ রেকারিং ডিপোজিট স্কিম। কিন্তু নিয়মিত সঞ্চয়ের মাধ্যমে এটি বড় আর্থিক সুরক্ষা দিতে পারে। মাসে ১০,০০০ টাকা জমানো সম্ভব না হলে ১০০ টাকা দিয়েও শুরু করুন। ১০ বছরে আপনার হাতে থাকবে একটি মজবুত ভিত্তি। নিকটবর্তী পোস্ট অফিসে গিয়ে বিস্তারিত জেনে নিন। ভবিষ্যতের জন্য আজই এক ধাপ এগোন।

শেয়ার করুন: Sharing is Caring!