প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি যোজনা তথা PM Kisan Yojana ভারত সরকারের একটি জনপ্রিয় উদ্যোগ, যা কৃষক বন্ধুদের আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রদানের লক্ষ্যে চালু করা হয়েছে। এই প্রধানমন্ত্রী কিষান যোজনা প্রকল্পের মাধ্যমে যোগ্য কৃষকদের (Farmers) বছরে ৬,০০০ টাকা তিনটি কিস্তিতে (প্রতি কিস্তিতে ২,০০০ টাকা) সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। এই আর্থিক সহায়তা কৃষকদের কৃষি কার্যক্রমে বিনিয়োগ এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচ মেটাতে সহায়তা করে। দেশের কোটি কোটি কৃষক এই যোজনার সুবিধা পেয়ে উপকৃত হচ্ছেন। তবে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না করলে অনেক কৃষক এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি যোজনার ২০তম কিস্তির জন্য যোগ্যতা নিশ্চিত করতে কৃষকদের সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
প্রধানমন্ত্রী কিষান যোজনার ২০ তম কিস্তির তারিখ
প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি যোজনার ২০তম কিস্তির টাকা ২০২৫ সালের জুলাই মাসেই কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, আগামী ১৯ জুলাই, ২০২৫ তারিখে প্রধানমন্ত্রী বিহারের জনসভায় এই কিস্তির টাকা পাঠানোর কথা জানাতে পারেন। তবে এই কিস্তির টাকা পেতে কৃষকদের ই-কেওয়াইসি এবং আধার-লিঙ্কযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক। টাকা সাধারণত প্রতি চার মাস অন্তর তিনটি কিস্তিতে স্থানান্তর করা হয়। কৃষকদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে স্টেটাস চেক করে নিশ্চিত করা উচিত।
কারা পাবেন না কিষান যোজনার ২০তম কিস্তির সুবিধা?
পিএম কিষান যোজনার নিয়ম অনুযায়ী, কিছু কৃষক এই কিস্তির আর্থিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করা এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য বাধ্যতামূলক শর্ত। যদি কোনও কৃষকের আধার কার্ড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংযুক্ত না থাকে, তবে তাঁর কিস্তির অর্থ স্থানান্তরিত হবে না। নিবন্ধনের সময় ভুল তথ্য, যেমন ভুল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর বা নামের বানানে ভুল, থাকলে অর্থ আটকে যেতে পারে। এছাড়া, আয়কর দাতা, সরকারি কর্মচারী, বা ১০,০০০ টাকার বেশি পেনশনপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা এই যোজনার জন্য অযোগ্য। জমির মালিকানার নথিতে অসঙ্গতি থাকলেও কৃষকরা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
কীভাবে চেক করবেন কিষান যোজনার তালিকা?
প্রধানমন্ত্রী কিষান যোজনার সুবিধাভোগীর তালিকায় নিজের নাম আছে কিনা তা জানতে অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (pmkisan.gov.in) পরিদর্শন করতে হবে। হোমপেজে ‘Beneficiary Status’ অপশনে ক্লিক করে আধার নম্বর বা নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর প্রদান করতে হবে। এরপর ওটিপি-র মাধ্যমে যাচাই সম্পন্ন করে স্টেটাস জানা যাবে। যদি নাম তালিকায় না থাকে, তবে স্থানীয় কৃষি দপ্তর বা কমন সার্ভিস সেন্টারে (CSC) যোগাযোগ করা উচিত। ভুল তথ্য সংশোধন না করলে কিস্তির অর্থ পেতে বিলম্ব হতে পারে। নিয়মিত ওয়েবসাইটে স্টেটাস চেক (PM Kisan Status ChecK) করে সর্বশেষ তথ্য জানা গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন, লোন নিয়েছেন? কিস্তির টাকা মাফ করলো সরকার। দেখুন কি সুবিধা পাবেন?
PM Kisan e-KYC & Aadhaar Linking
ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করা পিএম কিষান যোজনার সুবিধা পাওয়ার জন্য অপরিহার্য। কৃষকরা পিএম কিষানের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘e-KYC’ অপশনে ক্লিক করে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন। আধার নম্বর এবং ওটিপি ব্যবহার করে এটি সহজেই করা যায়। এছাড়া, নিকটবর্তী কমন সার্ভিস সেন্টারে গিয়েও ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করা সম্ভব। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার সংযুক্ত করা না থাকলে তা দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। এই প্রক্রিয়াগুলি সময়মতো সম্পন্ন করলে কিস্তির অর্থ নিরবচ্ছিন্নভাবে পাওয়া যাবে।
আরও পড়ুন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কৃষক বন্ধু, কন্যাশ্রী প্রকল্পের টাকা বন্ধ হবে? ভোটের আগে বড় খবর।
সমস্যা সমাধানের জন্য হেল্পলাইন ও সহায়তা
পিএম কিষান যোজনা সম্পর্কিত যেকোনো সমস্যার জন্য কৃষকরা হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন। হেল্পলাইন নম্বরগুলি হলো ১৫৫২৬১, ১৮০০১১৫৫২৬ (টোল ফ্রি), এবং ০১১-২৩৩৮১০৯২। এছাড়া, [email protected] ই-মেইল ঠিকানায় সমস্যা জানিয়ে সহায়তা পাওয়া যায়। স্থানীয় কৃষি দপ্তর বা কমন সার্ভিস সেন্টারে গিয়েও সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয় যে তাঁরা নিয়মিত তথ্য আপডেট রাখুন এবং সময়মতো নথি যাচাই করুন। এই পদক্ষেপগুলি অনুসরণ করলে প্রধানমন্ত্রী কিষান যোজনার ২০তম কিস্তির টাকা পেতে কোনো বাধা থাকবে না।
আরও পড়ুন, আপনার টাকার প্রয়োজনে সরকার টাকা দেবে। এইভাবে আবেদন করুন।
কৃষকদের জন্য পরামর্শ ও সতর্কতা
কৃষকদের উচিত নিয়মিত পিএম কিষানের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে তাঁদের স্টেটাস এবং নথি যাচাই করা। জমির মালিকানার নথি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ এবং আধার সংযুক্তির তথ্য সঠিক রাখা অত্যন্ত জরুরি। যদি কোনও ভুল তথ্য থাকে, তবে দ্রুত স্থানীয় কৃষি দপ্তরে যোগাযোগ করে তা সংশোধন করতে হবে। নিয়মিত ওয়েবসাইটে আপডেট চেক করলে নতুন নির্দেশিকা সম্পর্কে জানা যাবে। কৃষকদের সচেতন থাকতে হবে যেন কোনও মধ্যস্থ বা প্রতারকের ফাঁদে না পড়েন। সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করলে এই যোজনার পূর্ণ সুবিধা পাওয়া সম্ভব।