পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের অফিসে উপস্থিতি নিয়ে রাজ্য সরকারের কড়া অবস্থান। রাজ্য সরকার আগামী বুধবারের (৯ জুলাই ২০২৫) দেশব্যাপী ধর্মঘটের বিরোধিতা করে কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে। নবান্ন থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ওই দিন সমস্ত সরকারি ও সরকার পোষিত দফতর খোলা থাকবে। প্রত্যেক সরকারি কর্মীকে বাধ্যতামূলকভাবে অফিসে উপস্থিত থাকতে হবে। ব্যতিক্রমী কিছু ক্ষেত্র ছাড়া কোনও কর্মী ছুটি নিতে পারবেন না।
ধর্মঘটের কারন ও সরকারি কর্মীদের পদক্ষেপ
দশটি শ্রমিক সংগঠন কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন শ্রম কোডের বিরোধিতায় বুধবার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। পুরনো ২৯টি শ্রম আইন পরিমার্জন বা বাতিল করে চারটি নতুন শ্রম কোড চালুর প্রস্তাবের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন। শ্রমিক সংগঠনগুলির আশঙ্কা, এই কোড শ্রমিকদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করতে পারে। এছাড়াও, বেসরকারিকরণ, ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, এবং চুক্তিভিত্তিক কাজ বন্ধ করে স্থায়ী নিয়োগের দাবিতে এই ধর্মঘট।
নবান্নের নির্দেশিকা: কী বলছে?
রাজ্য অর্থ দফতরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী:
- কঠোর ছুটি নীতি: বুধবার কোনও কর্মী ক্যাজুয়াল লিভ বা অর্ধদিবস ছুটি নিতে পারবেন না।
- অনুপস্থিতির শাস্তি: অফিসে অনুপস্থিত থাকলে এক দিনের বেতন কাটা হবে এবং ওই দিনটি কর্মজীবন থেকে বাদ যাবে।
- শো-কজ নোটিস: অনুপস্থিত কর্মীদের কারণ দর্শাতে হবে। সন্তোষজনক উত্তর না পেলে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
- প্রক্রিয়ার সময়সীমা: ৩১ জুলাই ২০২৫-এর মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
কারা ছাড় পাবেন?
কিছু ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে:
- হাসপাতালে ভর্তি থাকা।
- পরিবারে কারও মৃত্যু।
- ৮ জুলাইয়ের আগে থেকে গুরুতর অসুস্থতার কারণে ছুটিতে থাকা।
- মাতৃত্বকালীন ছুটি, চিকিৎসা সংক্রান্ত ছুটি, চাইল্ড কেয়ার লিভ, বা আর্নড লিভে থাকা কর্মীরা এই নির্দেশের আওতায় পড়বেন না।
রাজ্য সরকারের অবস্থান
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী নেত্রী থাকাকালীন ২০০৮ সাল থেকে বনধ বা ধর্মঘটের রাজনীতির বিরোধিতা করে আসছেন। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরও তিনি বারবার এই অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। রাজ্য সরকার অতীতেও ধর্মঘট বা বনধের সময় এ ধরনের কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে।
শ্রমিক সংগঠন ও বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া
সিপিএম
সিপিএমের রাজ্য সরকারি কর্মচারী সংগঠন কো-অর্ডিনেশন কমিটির নেতা বিশ্বজিৎ গুপ্ত চৌধুরী বলেন, “রাজ্য সরকার বারবার কর্মচারীদের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। এই নির্দেশিকা উপেক্ষা করে সরকারি কর্মীরা ধর্মঘটে শামিল হবেন।”
বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতি
নেতা স্বপন মণ্ডল দাবি করেন, “কলকাতা হাই কোর্টের স্ট্যান্ডিং অর্ডার অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীরা নোটিশ দিয়ে ধর্মঘটে অংশ নিতে পারেন। নবান্নের এই নির্দেশ বেআইনি এবং কোর্টের নির্দেশের অমান্য।” তিনি আরও বলেন, “যাঁরা স্বৈরাচারী নীতির বিরোধিতা করেন, তাঁরা এই নির্দেশ উপেক্ষা করে ধর্মঘটে অংশ নেবেন।”
তৃণমূল সমর্থিত ফেডারেশন
তৃণমূল সমর্থিত রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের আহ্বায়ক প্রকাশ নায়েক বলেন, “আমরা নবান্নের নির্দেশিকাকে সম্পূর্ণ সমর্থন করি। ধর্মঘট ব্যর্থ করে আমাদের সদস্যরা অফিস সচল রাখবেন। যাঁরা উন্নয়নের বিরোধিতা করেন, তাঁরাই এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করছেন।”
উপসংহার
পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের বনধের বিরোধিতায় এর আগেও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী আগামী কাল সকলকে অফিসে উপস্থিত থাকতে হবে। তবে যারা আগে থেকেই ছুটিতে রয়েছেন বা ছুটির অনুমোদন রয়েছে তারা ছাড় পাবেন। অন্যদিকে বিভিন্ন কর্মী সংগঠন এই নির্দেশ কে সরকারের স্বৈরাচারী নীতি বলে মনে করেন। তাদের মতে কলকাতা হাই কোর্টের স্ট্যান্ডিং অর্ডার অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীরা নোটিশ দিয়ে ধর্মঘটে অংশ নিতে পারেন। অন্যদিকে নবান্নের এই নির্দেশ কে সমর্থন করেছেন, সরকার সমর্থিত একাধিক কর্মী সংগঠন।