পশ্চিমবঙ্গের কৃষকদের আর্থিক নিরাপত্তা দিতে নতুন রাজ্য সরকার মুখ্যমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি (Mukhyamantri Kisan Samman Nidhi) প্রকল্প চালু করেছে। আগে কৃষক বন্ধু নামে যে প্রকল্প ছিলো, তার বদলে এখন কেন্দ্র সরকারের মডেলে মুখ্যমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি এর আবেদন শুরু হয়েছে। যে সমস্ত কৃষক বন্ধু টাকা পেতেন, তারা এখন এই প্রকল্পে আবেদন করলেই যোগ্য কৃষকেরা তাদের একাউন্টে টাকা পাবেন। এই প্রকল্পের সুবিধা, যোগ্যতা ও কিভাবে আবেদন করবেন বিস্তারিত জেনে নিন।
Mukhyamantri Kisan Samman Nidhi – কৃষক বন্ধুর বদলে নতুন প্রকল্প
রাজ্যে পূর্বের কৃষক বন্ধু প্রকল্পের পরিকাঠামোয় কিছু প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হয়েছে। অনেকে কৃষক না থেকেও এই টাকা পেয়েছেন বলে অভিযোগ। অনেক একাউন্টের লোকের অস্তিত্ব ই নাকি পাওয়া যায়নি। তাই রাজ্য সরকার নতুন করে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। প্রশাসনিক নির্দেশ অনুযায়ী আগের প্রকল্পের নাম ও সহায়তা পদ্ধতিতে এই পরিবর্তন এসেছে। তবে যেসমস্ত যোগ্য কৃষক রয়েছেন, তারা এই প্রকল্পেও টাকা পাবেন। ভুয়ো কৃষক সনাক্ত করতেই পুনরায় ভেরিফিকেশন হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি প্রকল্প
কৃষকবন্ধু প্রকল্পের বদলে রাজ্যে কার্যকর হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি প্রকল্প। আগামী ৫ নভেম্বর থেকে যোগ্য চাষিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অনুদানের টাকা পাঠানো শুরু হবে। রাজ্যের প্রায় ৪৮ লক্ষ কৃষক সরাসরি মাথাপিছু ২ হাজার টাকা করে এই সহায়তা পাবেন। হুগলির পুরশুড়া থেকে এই তহবিল বণ্টন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হচ্ছে। অন্যান্য সমস্ত জেলা থেকেও প্রতিনিধি ও কৃষকেরা সরাসরি ভার্চুয়াল মাধ্যমে এতে অংশ নেবেন।
কৃষক বন্ধু ও কিষাণ যোজনার সুবিধা
এই প্রকল্পের মাধ্যমে সময়মতো হাতে নগদ অর্থ পাওয়ায় চাষিদের মহাজনি ঋণের হাত থেকে মুক্তি মিলবে। বীজ, সার ও সেচের মতো মরসুমি খরচ মেটাতে কৃষকদের আর ধারদেনা করতে হবে না। সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকায় কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের প্রভাব থাকছে না। দুর্যোগের সময় এই নিশ্চিত সরকারি আর্থিক সহায়তা লোকসানের বোঝা অনেকটাই লাঘব করবে। ফলে চাষিরা নির্ভাবনায় উন্নত ফলন নিশ্চিত করার কাজে মন দিতে পারবেন।
নতুন করে আবেদন করতে হবে
প্রকল্পের নাম বদল হলেও যোগ্য কৃষকেরা টাকা পাবেন। কৃষক বন্ধু তালিকায় থাকা চাষিদের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়া হয়েছে। তবে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার নম্বর লিঙ্ক ও কেওয়াইসি আপডেট থাকা বাধ্যতামূলক। শুধুমাত্র যাঁরা এখনও পর্যন্ত কোনো প্রকল্পের সুবিধা পাননি, তাঁদেরই নতুন করে আবেদন জমা দিতে হবে। ফলে সাধারণ চাষিদের কোনো বাড়তি হয়রানির মুখোমুখি হতে হবে না।
কীভাবে আবেদন করবেন?
নতুন চাষিরা যারা আবেদন করতে চান, তারা স্থানীয় ব্লক কৃষি আধিকারিক (ADA) অফিস বা বাংলা সহায়তা কেন্দ্রে গিয়ে অফলাইনে আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া কৃষি দপ্তরের অফিসিয়াল পোর্টাল থেকেও সরাসরি অনলাইনে আবেদন ফর্ম জমা দেওয়া সম্ভব। ফরমে ব্যক্তিগত তথ্য, আধার নম্বর এবং জমির বিবরণ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পূরণ করতে হবে। প্রয়োজনীয় নথিপত্রের প্রতিলিপি যুক্ত করে ফর্মটি নির্দিষ্ট দপ্তরে জমা করতে হবে। স্থানীয় আধিকারিকরা সমস্ত তথ্য যাচাই করলেই উপভোক্তার নাম চূড়ান্ত তালিকায় অনুমোদিত হবে।
কী কী নথি লাগবে?
এই প্রকল্পের আবেদনের ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র হিসেবে আধার কার্ড ও ভোটার কার্ডের জেরক্স জমা দেওয়া আবশ্যক। চাষজমির নিজস্ব মালিকানা প্রমাণের জন্য সাম্প্রতিক রেকর্ড বা জমির পরচা দাখিল করতে হবে। ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাওয়ার জন্য ব্যাংকের পাসবইয়ের প্রথম পাতার স্পষ্ট কপি প্রয়োজন। এছাড়া যোগাযোগের জন্য আবেদনকারীর একটি সক্রিয় মোবাইল নম্বর থাকা জরুরি। সবশেষে আবেদনপত্রের নির্দিষ্ট জায়গায় কৃষকের সাম্প্রতিক রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি যুক্ত করতে হবে।