MMSBY: পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্যসাথীর বদলে চালু হলো, মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বীমা যোজনা। কীভাবে আবেদন করবেন?

পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্যসাথী চালু ছিলো। এবার তা বদলে চালু হলো মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বীমা যোজনা তথা MMSBY. মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা প্রকল্পে (West Bengal Mukhyamantri Swasthya Bima Yojana) কি কি সুবিধা পাবেন, কারা আবেদন করতে পারবেন, কি কি নথি লাগবে, কীভাবে আবেদন করবেন, বিস্তারিত জেনে নিন।

MMSBY: মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বীমা যোজনা

মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বীমা যোজনা বা এমএমএসওয়াই (Health Insurance) হলো সাধারণ মানুষের চিকিৎসার খরচ কমানোর একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। যারা অন্যান্য কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আওতায় আসতে পারেননি, তাদের জন্য এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় তালিকাভুক্ত পরিবারগুলো প্রতি বছর নির্দিষ্ট অঙ্কের ক্যাশলেস চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ পাবে। এর ফলে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষকে চিকিৎসার জন্য জমি বা গয়না বিক্রি করতে হবে না। এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে পরিবারের প্রতিটি সদস্যের তথ্য ডিজিটাল মাধ্যমে নথিভুক্ত করা আবশ্যিক।

স্বাস্থ্যসাথী বনাম মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা

রাজ্যে ইতিপূর্বে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসার পরিষেবা পেয়েছেন। তবে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা (MMSBY) প্রক্রিয়াটিকে আরও আধুনিক এবং কেন্দ্রীয় কাঠামোর সাথে সমন্বয় করে তৈরি করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে মূলত স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে হাসপাতালে গিয়ে সরাসরি চিকিৎসা করানো যেত। অন্যদিকে নতুন এই ব্যবস্থায় ডিজিটাল আধার ও রেশন কার্ডের উপর ভিত্তি করে অনলাইন কেওয়াইসি করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে চিকিৎসা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা অনেক বাড়বে এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীরা কোনো প্রকার ঝামেলা ছাড়াই সেবা পাবেন।

কি কি সুবিধা পাবেন?

এই প্রকল্পের আওতায় আবেদনকারী পরিবার বছরে সর্বোচ্চ পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ ক্যাশলেস স্বাস্থ্য বীমার কভারেজ পাবেন। তালিকাভুক্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে কোনো নগদ টাকা ছাড়াই জটিল রোগের চিকিৎসা করানো সম্ভব হবে। সাধারণ ওষুধপত্র থেকে শুরু করে বড় অপারেশন ও চিকিৎসার যাবতীয় খরচ এই প্রকল্পের অধীনে মেটানো যাবে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, হাসপাতালে ভরতি হওয়া থেকে শুরু করে ছাড়া পাওয়া পর্যন্ত কোনো অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ থাকবে না। এর ফলে রাজ্যের মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো অত্যন্ত নিশ্চিন্তে উন্নতমানের স্বাস্থ্য পরিষেবা গ্রহণ করতে পারবে।

কারা আবেদন করবেন?

পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা যেকোনো পরিবার এই বিশেষ স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় আসার যোগ্য। যে সমস্ত পরিবার কেন্দ্রীয় আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের তালিকায় নাম তুলতে পারেননি, তারা এখানে অগ্রাধিকার পাবেন। পরিবারের বার্ষিক আয় যাতে নির্ধারিত অর্থনৈতিক সীমার মধ্যে থাকে, সেই দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত, দিনমজুর ও প্রান্তিক পরিবারের সদস্যরা সরাসরি এই সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবেন। মূলত যাদের কাছে আর্থিক অনটন চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাদের জন্যই এই প্রকল্পের দরজা খোলা রয়েছে।

আরও পড়ুন, SBI গ্রাহকদের জন্য দুঃসংবাদ। কোটি কোটি গ্রাহকদের বিরাট লস

প্রয়োজনীয় নথিপত্রের তালিকা

অনলাইনে আবেদন ও কেওয়াইসি সম্পন্ন করার জন্য প্রতিটি সদস্যের বৈধ আধার কার্ড থাকা আবশ্যক। পরিবারের অর্থনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে রাজ্য সরকারের ডিজিটাল রেশন কার্ড হাতের কাছে রাখতে হবে। পরিবারের বার্ষিক আয় আট লক্ষ টাকার নিচে রয়েছে তা বোঝাতে স্বঘোষিত আয়ের প্রমাণপত্র প্রয়োজন। আধার কার্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকা একটি চালু মোবাইল নম্বর ওটিপি যাচাইয়ের জন্য বাধ্যতামূলক। এর পাশাপাশি আবেদনকারীর সাম্প্রতিক তোলা এক কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি এবং ঠিকানার প্রমাণপত্র তৈরি রাখতে হবে।

কীভাবে আবেদন করবেন?

  • প্রথমে ন্যাশনাল হেলথ অথরিটির অফিসিয়াল বেনিফিশিয়ারি পোর্টাল অথবা মোবাইলের আয়ুষ্মান অ্যাপ ওপেন করতে হবে।
  • এরপর নিজের বৈধ মোবাইল নম্বর ও ওটিপি দিয়ে পোর্টালে লগিন করুন
  • এরপর নিজের রাজ্য, জেলা এবং ব্লকের নাম সিলেক্ট করুন
  • এবার আধার নম্বর কিংবা ডিজিটাল রেশন কার্ড নম্বর টাইপ করে পরিবারের সদস্যদের নামের তালিকা খুঁজে বের করুন।
  • নামের পাশে থাকা কেওয়াইসি অপশনে ক্লিক করে আধার ওটিপি এবং নিজস্ব ছবি আপলোড করে আবেদনটি সাবমিট করে দিন।

click here red button

উপসংহার

চিকিৎসা খরচ বাঁচাতে এবং পরিবারকে নিশ্চিন্ত রাখতে এই স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রকল্প এক বিরাট ভরসা। এখন আর পঞ্চায়েত বা সরকারি অফিসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট করার দরকার নেই। নিজের হাতের স্মার্টফোন ব্যবহার করে মাত্র দশ মিনিটেই ঘরে বসে পরিবারের সবার কেওয়াইসি শেষ করা সম্ভব। তাই অযথা দেরি না করে অতি দ্রুত প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে নিজের নাম নথিভুক্ত করে নিন। সঠিক সময়ে সচেতন হয়ে এই বীমার সুবিধা গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে আপনার পরিবার সুরক্ষিত থাকবে।

শেয়ার করুন: Sharing is Caring!