Lakshmir Bhandar Scheme: পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বাজেটে বাড়ছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা? লক্ষ্মীর ভান্ডার নতুন আপডেট জেনে নিন

পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলোর (Social Cecurity Scheme) মধ্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প (Lakshmir Bhandar Scheme) বর্তমানে সর্বাধিক আলোচিত এবং জনপ্রিয় একটি নাম। ২০২১ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের কয়েক কোটি মহিলা মাসিক আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকেন। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল যে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার এই ভাতার পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করতে পারে। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের রাজ্য বাজেটে এই প্রকল্পের টাকা বাড়ানোর বিষয়ে কোনো সরাসরি ঘোষণা না আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

Lakshmir Bhandar Scheme Increase on West Bengal Budget 2026?

বর্তমানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের অধীনে সাধারণ শ্রেণির মহিলারা প্রতি মাসে ১০০০ টাকা এবং তপশিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলারা ১২০০ টাকা করে পান। বিগত বছরের বাজেটে এই ভাতার পরিমাণ ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হয়েছিল, যা মহিলাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের সঞ্চার করেছিল। এরপর থেকেই জল্পনা শুরু হয় যে, পরবর্তী ধাপে এই অঙ্ক ১৫০০ বা ২০০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। যদিও ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পেশ করা রাজ্য বাজেটে মাথাপিছু বরাদ্দ বৃদ্ধির কোনো আনুষ্ঠানিক উল্লেখ পাওয়া যায়নি। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, নির্বাচনের আগে বিশেষ কোনো প্রশাসনিক বৈঠকে বা জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী নতুন কোনো বড় ঘোষণা করতে পারেন।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা

রাজ্য সরকারের (Government of West Bengal) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ২.২১ কোটি মহিলা এই প্রকল্পের সরাসরি সুবিধা পাচ্ছেন। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ১৯,৩৮৫ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে এবং আগামী বছরে এই খাতের জন্য বরাদ্দ আরও বাড়ানো হয়েছে। বিপুল সংখ্যক উপভোক্তা বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের ওপর আর্থিক চাপ বাড়লেও সামাজিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রকল্প চালিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। যদিও কেন্দ্রীয় স্তরে ‘ইকোনমিক সার্ভে’ রিপোর্টে এই ধরনের জনকল্যাণমূলক ভাতা প্রকল্পের কারণে রাজ্যগুলোর আর্থিক ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তবুও তৃণমূল সরকারের দাবি, এই প্রকল্পের টাকা গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখতে এবং মহিলাদের স্বনির্ভর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

লক্ষ্মীর ভান্ডার নতুন আবেদন ও যোগ্যতা

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে (Lakshmir Bhandar Scheme) যারা এখনও নাম নথিভুক্ত করেননি, তাঁদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। সাধারণত ‘দুয়ারে সরকার’ ক্যাম্পের মাধ্যমে বা নির্দিষ্ট সরকারি অফিসে গিয়ে এই প্রকল্পের জন্য আবেদন জানানো যায়। ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী পশ্চিমবঙ্গের যেকোনো স্থায়ী বাসিন্দা মহিলা এই ভাতার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হন। তবে আবেদনকারীর কোনো সরকারি চাকরি থাকা চলবে না এবং তাঁর নিজস্ব সচল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। আধার কার্ডের সাথে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লিঙ্ক থাকা বাধ্যতামূলক, নচেৎ টাকা ঢুকতে সমস্যা হতে পারে।

আরও পড়ুন, কৃষকদের একাউন্টে টাকা দিচ্ছে সরকার। বাংলা শস্য বীমার টাকা একাউন্টে দেওয়া শুরু হলো

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প কবে টাকা ঢুকবে?

অনেকেই প্রশ্ন করেন যে, আবেদন করার কতদিন পর টাকা পাওয়া শুরু হবে এবং টাকা না ঢুকলে কী করণীয়। সাধারণত আবেদনের সঠিক যাচাইকরণের পর পরবর্তী কিস্তি থেকেই টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হতে শুরু করে। যদি দীর্ঘ সময় ধরে টাকা না ঢোকে, তবে স্থানীয় বিডিও অফিস বা মহকুমা শাসকের দপ্তরে যোগাযোগ করা উচিত। পর্ষদ বা সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে সময়ে সময়ে উপভোক্তাদের তালিকা সংস্কার করা হয়, তাই ব্যাঙ্ক ডিটেইলস আপডেট রাখা জরুরি। ভুল তথ্যের কারণে বা বার্ধক্য ভাতার মতো অন্য কোনো প্রকল্প থেকে সুবিধা নিলে অনেক সময় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে টাকা ঢোকা (Lakshmir Bhandar Scheme) বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

রাজ্য বাজেটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা বাড়বে?

ভবিষ্যতে এই প্রকল্পের টাকা ২ হাজার বা ২৫০০ টাকা হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। নির্বাচনের আগে ভোটারদের বিশেষ উপহার হিসেবে এই ভাতার অঙ্ক বাড়ানো হলে তা রাজ্যের রাজনীতিতে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে। রাজ্যের নারী সমাজ এই প্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষুদ্র সঞ্চয় বা নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে সক্ষম হওয়ায় এটি একটি শক্তিশালী ‘ভোটব্যাংক’ হিসেবেও কাজ করে। বিরোধী দলগুলো মাঝে মাঝে এই প্রকল্পের সমালোচনা করলেও সাধারণ মানুষের কাছে এর গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নাতীত। আগামী মাসগুলোতে নবান্ন থেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে নতুন কোনো বড় চমক আসে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে আছে সারা বাংলা।

পরিশেষে বলা যায়, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার কেবল একটি ভাতা প্রকল্প নয়, এটি বাংলার অগণিত মহিলার আত্মমর্যাদার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। সরকার যেভাবে প্রতি বছর বাজেটে এই খাতের বরাদ্দ বজায় রাখছে, তাতে স্পষ্ট যে এই প্রকল্প দীর্ঘস্থায়ী হতে চলেছে। যদিও বর্তমানে টাকা বৃদ্ধির কোনো কাগজ-কলমে ঘোষণা নেই, তবে পরিস্থিতির নিরিখে আগামীতে সুখবর পাওয়ার আশা জিইয়ে রেখেছেন উপভোক্তারা। নতুন কোনো আপডেট এলে বা ভাতার পরিমাণ পরিবর্তিত হলে তা সরকারি পোর্টালে প্রকাশ করা হবে। তাই বিভ্রান্তিকর গুজবে কান না দিয়ে সরকারি ঘোষণার ওপর আস্থা রাখা শ্রেয়।

শেয়ার করুন: Sharing is Caring!