Lakshmir Bhandar Scheme: পুজোর মাসে লক্ষ্মীর ভান্ডার ও কৃষক বন্ধু টাকা কবে ঢুকবে? মা, বোন ও কৃষকদের সুখবর দিলো পশ্চিমবঙ্গ সরকার

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জনপ্রিয় প্রকল্প লক্ষ্মীর ভান্ডার (Lakshmir Bhandar Scheme) রাজ্য ও দেশ জুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের (Government of west Bengal) এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলার প্রায় দেড় কোটি পরিবারের মা বোনেরা প্রতিমাসে আর্থিক সাহায্য পেয়ে থাকেন। অন্যদিকে কৃষক বন্ধু প্রকল্প (Krishak Babndhu Scheme) কেন্দ্র সরকারের প্রধানমন্ত্রী কিষান যোজনার (PM Kisan Yojana) মতো কৃষকদের আর্থিক সাহায্য প্রদান করে থাকে। পুজোর মাসে এই দুই প্রকল্পের টাকা কবে পাবেন, এই নিয়ে সকলের জিজ্ঞাস্য রয়েছে। তাই এই দুই জনপ্রিয় প্রকল্পের টাকা কবে পাবেন, এই প্রতিবেদনে আলোচনা করা হলো।

Lakshmir Bhandar Scheme Payment date

গতকাল পশ্চিমবঙ্গ সরকার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়ে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নবান্ন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে অর্থ দফতর জানিয়েছে, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হবে। যদিও এর আগে রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছিল সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে টাকা দেওয়া হবে। এবার কবে টাকা পাবেন, সম্ভাব্য দিন তারিখ জেনে নিন।

লক্ষ্মীর ভান্ডার টাকা কবে ঢুকবে?

সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে শারদোৎসবের প্রাক্কালে আর্থিক লেনদেনের চাপ বেশি থাকে। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরে বেতন ও অন্যান্য অনুদানের লেনদেন চলে। এই সময়ে বিপুল সংখ্যক লেনদেনের চাপ কমাতে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নবান্ন নিশ্চিত করেছে, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে টাকা জমা হবে। উপভোক্তারা যাতে কোনও অসুবিধায় না পড়েন, সেজন্য প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। এই পরিবর্তন কেবল প্রশাসনিক সুবিধার জন্য করা হয়েছে।

আপনি টাকা কবে পাবেন, এখানে দেখুন

লক্ষ্মীর ভান্ডারের সুবিধা ও প্রভাব

লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ পরিবারের মহিলারা মাসিক ভাতা পান। সাধারণ শ্রেণির মহিলারা মাসে ১০০০ টাকা এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতির মহিলারা ১৫০০ টাকা পান। এই অর্থ সরাসরি ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের মাধ্যমে তাদের অ্যাকাউন্টে জমা হয়। প্রতি মাসের ১ তারিখে এই টাকা দেওয়া হয়, তবে ছুটির দিন হলে পরবর্তী কর্মদিবসে জমা হয়। এই প্রকল্প বাংলার মহিলাদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। যা সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের আর্থিক চাপ কমাতে অনেকটাই সহায়তা করছে।

কৃষক বন্ধু টাকা কবে ঢুকবে?

অক্টোবর মাসে দুর্গাপুজোর নবমী ও বিজয়াদশমী উপলক্ষে ছুটি থাকবে। ২ অক্টোবর বিজয়া দসমি থাকার ফলে ১ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীও পালিত হবে, ফলে সরকারি দফতর বন্ধ থাকবে। লক্ষ্মীপুজোর পর সরকারি ছুটি শেষ হওয়ার পর লক্ষ্মীর ভান্ডার ও কৃষক বন্ধু টাকা জমা হতে পারে। তবে একটি সুত্র বলছে, ৩ অক্টোবর দুই প্রকল্পের টাকা একাউন্তে ঢুকতে পারে। তবে রাজ্য সরকার পুজোর মধ্যেই টাকা দেওয়ার আপ্রান চেষ্টা করেছিলো, এবার শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয় কিনা সেটাই দেখার। একদিকে পুজোর মরসুমে পরিবারের খরচ বাড়ে, তাই এই অর্থ পুজোর আগে পেলে সমস্ত সুবিধাভোগীদের জন্য বড় সহায়ক হবে। নবান্ন জানিয়েছে, তারিখ সামান্য পিছলেও টাকা সময়মতো পৌঁছে যাবে।

আরও পড়ুন, বাড়ি বসে দিনে ১ ঘন্টা কাজ করে, টাকা ইনকাম করতে এই কাজ শুরু করুন।

জয় বাংলা প্রকল্প টাকা কবে ঢুকবে?

জয় বাংলা প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প। এটি সমাজের দুর্বল ও পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য মাসিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। ২০২০ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রকল্প ঘোষণা করেন। এই প্রকল্পের টাকাও অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে জমা হবে। নবান্নের বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য স্পষ্ট করা হয়েছে। এই প্রকল্পগুলি রাজ্যের আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করছে।

লক্ষ্মীর ভান্ডারে আরও নতুন মহিলা যুক্ত হচ্ছেন

জুলাই ও আগস্টের পাড়ায় সমাধান তথা দুয়ারে সরকার ক্যাম্পের মাধ্যমে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে প্রচুর মহিলা নতুন করে আবেদন করেছেন। তাই, ডিসেম্বর থেকে আরও কয়েক লক্ষ মহিলা লক্ষ্মীর ভান্ডারের সুবিধা পাবেন। এই প্রকল্পের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে সরকার। এটি আরও বেশি মহিলাকে আর্থিক স্বনির্ভর করে তুলবে। নবান্ন নিশ্চিত করেছে, কোনও যোগ্য উপভোক্তার টাকা আটকে থাকবে না। প্রশাসনের লক্ষ্য হল সমস্ত সুবিধাভোগীদের সময়মতো অর্থ প্রদান করা। এই প্রকল্পগুলি রাজ্যের সামাজিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা পালন করছে।

আরও পড়ুন, লোন আছে, কিস্তি চলছে? এই কাজ না করলে সাড়ে সর্বনাশ হবে।

উপসংহার

লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প, কৃষকবন্ধু প্রকল্প এবং জয় বাংলা প্রকল্প বাংলার মানুষের জন্য আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করছে। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে টাকা জমা হওয়ার বিষয়ে নবান্ন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। পুজোর মরসুমে এই অর্থ পরিবারের খরচ মেটাতে সহায়ক হবে। তৃণমূল সরকারের এই উদ্যোগগুলি সাধারণ মানুষ ও বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষমতায়ন ও আর্থিক স্বাধীনতার পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি, কোনও সুবিধাভোগী অর্থ থেকে বঞ্চিত হবেন না। এই প্রকল্পগুলি বাংলার সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত খুলছে। আমাদের লাইক করতে 👍👍🏻 এখানে ক্লিক করুন।

শেয়ার করুন: Sharing is Caring!