হটাত করে কারোর টাকার দরকার হলেই ব্যাংক একাউন্টে টাকা পাবেন। Loan against Mutual funds স্কিমে মিউচুয়াল ফান্ড থাকলেই আবেদন করুন

জরুরী প্রয়োজনে কারো টাকার দরকার হলে অনেকেই আত্মীয় স্বজনদের কাছে হাত পাতেন। অথবা উচ্চ সুদে Personal Loan নিয়ে থাকেন। তবে Loan against Mutual funds বা মিউচুয়াল ফান্ড লোন স্কিমে আবেদন করলেই অপেক্ষাকৃত কম সুদে খুব সহজেই Mutual Fund Loan পেতে পারেন। তবে কি লোন কিভাবে পাবেন, কি কি নথি লাগবে, আবেদন করার আগে বিস্তারিত জেনে নিন।

Loan against Mutual funds – মিউচুয়াল ফান্ড লোন কী?

মিউচুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগকে জামানত হিসেবে ব্যবহার করে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়া যায়। এই প্রক্রিয়ায় গ্রাহকের মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট অক্ষত থাকে এবং ভাঙতে হয় না। জরুরি আর্থিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য Loan against Mutual funds স্কিমটি একটি কার্যকর সমাধান। লোনের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে আপনাকে বার্ষিক সুদ পরিশোধ করতে হবে। এই ধরনের লোন নেওয়ার ফলে আপনার দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের লক্ষ্য অটুট থাকে। এটি আপনাকে আর্থিক সংকটে বিনিয়োগের ক্ষতি ছাড়াই সমাধানের পথ দেখায়।

পার্সোনাল লোনের সাথে পার্থক্য

মিউচুয়াল ফান্ড লোন একটি সুরক্ষিত ঋণ, যেখানে আপনার বিনিয়োগ জামানত হিসেবে কাজ করে। এটি পার্সোনাল লোনের (Personal Loan) তুলনায় আলাদা, কারণ পার্সোনাল লোন সাধারণত অসুরক্ষিত এবং আয় ও ক্রেডিট স্কোরের ওপর নির্ভর করে। মিউচুয়াল ফান্ড লোনের ক্ষেত্রে ক্রেডিট স্কোরের প্রভাব কম, তাই এটি পাওয়া সহজ। পার্সোনাল লোনে সুদের হার বেশি হতে পারে, বিশেষ করে সিবিল স্কোর কম থাকলে। আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, জামানত হিসেবে মিউচুয়াল ফান্ড থাকায় এই লোনের শর্ত কম কঠিন। ফলে এটি দ্রুত এবং সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া সম্ভব।

কোন ব্যাংক এই লোন প্রদান করে?

ভারতের বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড লোন দেয়। স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া, এইচডিএফসি ব্যাংক, আইসিআইসিআই ব্যাংক, অ্যাক্সিস ব্যাংক এবং ব্যাংক অফ বরোদা এই সুবিধা প্রদান করে। এছাড়া, টাটা ক্যাপিটাল ও বাজাজ ফিনসার্ভের মতো নন-ব্যাঙ্কিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানও এই লোন দেয়। এই মিউচুয়াল ফান্ড লোনে সুদের হার সাধারণত ৬.৫% থেকে ১০.৫% এর মধ্যে থাকে। তুলনায়, পার্সোনাল লোনের সুদ ১১% থেকে ২৪% পর্যন্ত হতে পারে। এই কম সুদের হার এই লোনকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

মিউচুয়াল ফান্ড লোনের সুবিধা

মিউচুয়াল ফান্ড লোন নেওয়ার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো বিনিয়োগ অক্ষত রাখা। আপনার মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট বিক্রি না করে জরুরি প্রয়োজন মেটানো যায়। এই লোন পাওয়ার জন্য ন্যূনতম ক্রেডিট স্কোরের প্রয়োজন হয় না। সুদের হার তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় এটি সাশ্রয়ী। লোনের প্রক্রিয়া দ্রুত এবং কাগজপত্রের ঝামেলা কম। এটি আর্থিক নমনীয়তা প্রদান করে এবং দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যে বাধা সৃষ্টি করে না।

মিউচুয়াল ফান্ড লোনের ঝুঁকি

এই লোন নেওয়া অপেক্ষাকৃত সুবিধার হলেও কয়েকটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখতে হবে।

বাজারের অস্থিরতার প্রভাব

মিউচুয়াল ফান্ডের মূল্য বাজারের ওঠানামার ওপর নির্ভর করে। বাজার কমে গেলে আপনার বিনিয়োগের মূল্য হ্রাস পেতে পারে। এর ফলে মার্জিন শর্টফলের সমস্যা দেখা দিতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ১ লক্ষ টাকার বিনিয়োগে ৫০ হাজার টাকা লোন নিলে এবং বিনিয়োগের মূল্য ৯০ হাজারে নেমে গেলে, ৫ হাজার টাকার শর্টফল হবে। এই শর্টফল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ না করলে ব্যাঙ্ক আপনার মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট বিক্রি করতে পারে। তাই বাজারের অবস্থা নজরে রাখা অত্যন্ত জরুরি।

আরও পড়ুন, টাকা দিচ্ছে সরকার। এইভাবে আবেদন করলেই পাবেন।

 

লোনের শর্ত ও সতর্কতা

সব মিউচুয়াল ফান্ড এই লোনের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। প্রথম সারির বা সুনামধন্য ফান্ডে বিনিয়োগ থাকলে লোন পাওয়া সহজ। তবে নতুন ফান্ড বা দুর্বল পারফরম্যান্সের ফান্ডে সমস্যা হতে পারে। লোন পরিশোধে ব্যর্থ হলে ব্যাঙ্ক আপনার বিনিয়োগের একটি অংশ বিক্রি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, লোন নেওয়ার আগে বাজারের ঝুঁকি এবং শর্ত ভালোভাবে বোঝা উচিত। এই ধরনের লোন নেওয়ার সময় নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণ করা আবশ্যক।

মিউচুয়াল ফান্ড লোন পেতে কীভাবে আবেদন করবেন?

মিউচুয়াল ফান্ড লোনের জন্য ব্যাঙ্ক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করতে হবে। আপনার বিনিয়োগের বিবরণ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। ব্যাঙ্ক আপনার মিউচুয়াল ফান্ডের মূল্য এবং ফান্ডের গুণমান পরীক্ষা করবে। লোনের পরিমাণ সাধারণত বিনিয়োগের ৫০% থেকে ৭০% পর্যন্ত হয়। আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইনে বা শাখায় সম্পন্ন করা যায়। প্রক্রিয়াটি দ্রুত এবং সহজ, তবে শর্তাবলী ভালোভাবে পড়ে নেওয়া উচিত।

আরও পড়ুন, সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য নতুন বিনিয়োগ প্রকল্প। প্রচুর সুদ পাবেন।

উপসংহার

মিউচুয়াল ফান্ড লোন জরুরি আর্থিক প্রয়োজনে একটি স্মার্ট সমাধান। এটি আপনার বিনিয়োগকে অক্ষত রেখে অর্থের জোগান দেয়। কম সুদের হার এবং সহজ প্রক্রিয়া এটিকে আকর্ষণীয় করে। তবে বাজারের ঝুঁকি এবং মার্জিন শর্টফলের বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। লোন নেওয়ার আগে ব্যাঙ্কের শর্ত এবং ফান্ডের পারফরম্যান্স ভালোভাবে যাচাই করুন। এটি আপনাকে আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

শেয়ার করুন: Sharing is Caring!