এবছর সারা দেশে বৃষ্টির হার বেশি। যার জেরে বন্যা পরিস্থিতি ও রাস্তা ঘাট, ঘর বাড়ি জলমগ্ন। এই পরিস্থতিতে একাধিক রাজ্যে স্কুল কলেজ ছুটি ঘোষণা (Holiday) হয়েছে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে ও জরুরী পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে এদিন সাংবাদিক সম্মেলন করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কর্মীদের ছুটি বাতিল সম্মন্ধে কি জানা গেছে, বিস্তারিত জেনে নিন।
টানা বৃষ্টিতে স্কুল কলেজ ছুটি ঘোষণা
টানা বৃষ্টিতে জেরবার উত্তর ভারত। যার জেরে উত্তরপ্রদেশের মিরাটে বর্ষা ও কানওয়ার যাত্রা ২০২৫ উপলক্ষে ১৬ জুলাই থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত সকল সরকারি ও বেসরকারি স্কুল বন্ধ থাকবে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ডঃ ভি. কে. সিং-এর নির্দেশে এই ছুটির ঘোষণা করা হয়েছে। ইউপি বোর্ড, সিবিএসই এবং আইসিএসই স্কুল সহ সকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা প্রতিঠানের জন্য এই নির্দেশিকা। এদিকে তীর্থযাত্রীদের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে প্রশাসনিক সুবিধার্থে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আদেশ অমান্যকারী স্কুলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আগামী ১৬ জুলাই, সোমবার থেকে এই টানা আট দিনের ছুটি শুরু হবে। ছুটি চলবে ২৩ জুলাই, মঙ্গলবার পর্যন্ত। ২৪ জুলাই, বৃহস্পতিবার থেকে স্কুলগুলো পুনরায় খুলবে। এই সময়ে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পঠন-পাঠন বন্ধ থাকবে। ছুটির সময় তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছুটি শেষে স্কুলগুলোতে নিয়মিত ক্লাস পুনরায় শুরু হবে। সরকারের এই নির্দেশিকা সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বাধ্যতামূলক।
পশ্চিমবঙ্গের নিকাশি কর্মীদের ছুটি বাতিল
গত ১ মাস ধরে পশ্চিমবঙ্গে লাগাতার বৃষ্টি চলছে। যার জেরে কলকাতা পুরসভা আগামী অক্টোবর পর্যন্ত নিকাশি বিভাগের প্রায় এগারোশোরও বেশি কর্মী ও ইঞ্জিনিয়ারের ছুটি বাতিল করেছে। আবহাওয়া দফতরের ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ। বর্ষাকালে শহরে জল জমার সমস্যা এড়াতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে, ওয়াটার পকেট হিসেবে চিহ্নিত এলাকায় জল নিষ্কাশন দ্রুত করা লক্ষ্য। পুরসভার এই পদক্ষেপ শহরবাসীর সুবিধার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কর্মীদের সার্বক্ষণিক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে এই নির্দেশ জারি হয়েছে। এদিকে প্রস্তুত থাতে বলা হয়েছে জেলার নিকাসি কর্মী ও দমকল বিভাগ কে।
কাদের ছুটি বাতিল?
বিভিন্ন পুরসভা ও কলকাতার জরুরী পরিষেবার কর্মী যারা প্রধানত নিকাশি কাজের সঙ্গে যুক্ত তাদের অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি না নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “বৃষ্টির সময়ে গাছের নিচে দাড়াবেন না, এবং রাস্তায় বৈদ্যুতিক খুটি বা কোনও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামে হাত লাগাবেন না।” যার জেরে সমস্ত বৈদ্যুতিক কর্মীদের প্রস্তুত থাকার কথা বলা হয়েছে। এবং দমকল কর্মীদের ও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি
আসন্ন দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি এই ছুটি বাতিলের আরেকটি বড় কারণ। পুজোর সময় শহরে জল জমার সমস্যা এড়াতে পুরসভা সতর্ক। গত কয়েক বছরে বৃষ্টির কারণে পুজোর সময় জল জমে ভোগান্তি হয়েছে। এই বছর সেই সমস্যা রোধে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। নিকাশি বিভাগের কর্মীরা পুজোর সময় নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেবেন। এই উদ্যোগ শহরবাসীর উৎসবের আনন্দ নির্বিঘ্ন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন, অবসর সময়ে ঘরে বসে এই কাজ করে প্রচুর টাকা রোজগার করুন।
জল নিষ্কাশনের পরিকল্পনা
কলকাতার নিকাশি ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে পুরসভা বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। জল জমার সমস্যা রোধে চিহ্নিত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হবে। কর্মী ও ইঞ্জিনিয়াররা নিয়মিত নিকাশি ব্যবস্থা পরীক্ষা করবেন। বর্ষার সময় দ্রুত জল নিষ্কাশনের জন্য অতিরিক্ত সরঞ্জাম মোতায়েন করা হবে। পুরসভার লক্ষ্য শহরকে জলমগ্নতা থেকে মুক্ত রাখা। এই পরিকল্পনা সফল হলে শহরবাসী স্বস্তি পাবেন।
আরও পড়ুন, সরকারি কর্মচারীদের সুখবর। একাউন্টে ঢুকবে ২০০০০ টাকা!
উপসংহার
একদিকে বিভিন্ন রাজ্যে অতিবৃষ্টির কারণে স্কুল কলেজ ছুটি দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ও যে সমত স্কুলে আশ্রয় শিবির খোলা হয়েছে, সেই সমস্ত স্কুল আপাতত বন্ধ থাকবে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের পুর দপ্তরের প্রায় ১১০০ জল নিকাশি কর্মী ও কয়েকশো ইঞ্জিনিয়ারদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। কলকাতা পুরসভার এই সিদ্ধান্ত বর্ষাকাল ও দুর্গাপুজোর সময় শহরবাসীর সুবিধার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ছুটির বাতিল এর মাধ্যমে নিকাশি বিভাগের কর্মী ও ইঞ্জিনিয়ারদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করা হবে। এই উদ্যোগ শহরের জল নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। পুজোর সময় জল জমার ভোগান্তি এড়াতে এই পদক্ষেপ সফল হবে বলে আশা করা যায়।