GST Reforms: স্বাস্থ্য বিমা ও জীবন বিমা থেকে GST উঠে গেল। প্রচুর জিনিসের দাম কমছে, GST Council Meeting থেকে নতুন জিএসটি এর হার জেনে নিন

অবশেষে সকলের দাবি পূরণ করে গতকালের GST Council Meeting এ নতুন GST Rate বা GST Reforms প্রকাশিত হলো। আর প্রত্যাশা মতোই স্বাস্থ্য বিমা ও জীবন বিমার ক্ষেত্রে সম্পুর্ন জিএসটি মকুব করা হলো। আর GST New Slab এ ৩৩টি জীবনদায়ী ওষুধ সহ মোট ১৭৫টি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য থেকে GST এর হার কমানো হলো। শুধু তাই নয় এছাড়া আরও অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাকে অর্থমন্ত্রীর (Nirmala Sitharaman) দিওয়ালী এর উপহার বলে অনেকেই মনে করছেন। GST Council Meeting এ নতুন কি কি সিদ্ধান্ত হলো, কিসের দাম কমলো, কিসের দাম বাড়ছে, জেনে নিন বিস্তারিত।

FM Nirmala Sitharaman GST Reforms on GST Council Meeting

ভারতের অর্থনীতিতে একটি বড় ধরনের সংস্কার এসেছে GST ব্যবস্থায়। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের (Nirmala Sitharaman) ঘোষণায় জানা গেছে যে জীবনবিমা (Life Insurance) এবং স্বাস্থ্যবিমা (Health Insurance) থেকে GST সম্পূর্ণভাবে তুলে নেওয়া হবে। এই পরিবর্তন নবরাত্রির দিন অর্থাৎ ২২ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে। জিএসটি কাউন্সিল মিটিংএ এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা দেশবাসীর জন্য স্বস্তির খবর। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi) এর আগে স্বাধীনতা দিবসে এই ধরনের GST Reforms বা জিএসটি সংস্কারের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এখন থেকে GST-এর হার সীমিত হবে মাত্র দুটি স্তরে, যা অর্থনৈতিক সরলীকরণের দিকে ইঙ্গিত করছে।

GSt new Slab: GST হারের নতুন কাঠামো

পুরনো GST ব্যবস্থায় পাঁচটি হার ছিল, যা ২০১৭ সাল থেকে চালু হয়েছিল। এখন ১২ শতাংশ এবং ২৮ শতাংশ হার সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় প্রধানত ৫ শতাংশ এবং ১৮ শতাংশ হার কার্যকর থাকবে। শুধুমাত্র কয়েকটি বিশেষ ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ হার বজায় রাখা হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে অনেক পণ্যের দাম কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারি সূত্র থেকে জানা গেছে যে এটি অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে।

জিএসটি কাউন্সিল মিটিংএ এই সংস্কারের মাধ্যমে GST এর জটিলতা কমিয়ে আনা হয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য সহজতর হবে। কেন্দ্রীয় সরকার এই পরিবর্তনকে নতুন প্রজন্মের GST হিসেবে বর্ণনা করেছে। বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন যে এটি দীপাবলির আগে দেশবাসীকে উপহার দেওয়ার মতো। পুরনো হারগুলোর মধ্যে শূন্য শতাংশ কয়েকটি পণ্যে বজায় থাকবে। এই পরিবর্তনের ফলে কর সংগ্রহের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হবে। সামগ্রিকভাবে, এটি অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পথ প্রশস্ত করবে।

জিএসটি কাউন্সিল মিটিং এ মূল সিদ্ধান্ত

  • পুরনো GST ব্যবস্থায় পাঁচটি হার কে কমিয়ে ৩টি হার করা হলো
  • নতুন ব্যবস্থায় ৫ শতাংশ এবং ১৮ শতাংশ এবং ৪০ শতাংশ জিএটি হার থাকবে
  • স্বাস্থ্য বিমা ও জীবন বিমা থেকে সম্পূর্ণ GST মকুব
  • GST Reforms এ সম্পূর্ণ GST মকুব হয়েছে পনির, রুটি এর মতো খাদ্যপণ্য থেকেও
  • ৩৩টি জীবনরক্ষক ওষুধ ও ১৭৫টি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমবে
  • বিলাসসামগ্রী ও তামাক জাতীয় পণ্যে ৪০% জিএসটি প্রযোজ্য

বিশেষ ছাড়: জীবনবিমা এবং স্বাস্থ্যবিমায় GST মকুব

জীবনবিমা পলিসিতে এখন থেকে কোনও GST দিতে হবে না, যা লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য স্বস্তি। স্বাস্থ্যবিমা কভারেজও এই ছাড়ের আওতায় আসবে। এই সিদ্ধান্ত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ায় বিমা কোম্পানিগুলো নতুন অফার চালু করতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বপ্রথম গত বছর অক্টোবর মাসে চিঠি লিখে এই দাবি কেন্দ্রকে জানিয়েছিলেন। এখন মোদী সরকার তা মেনে নিয়ে ব্যাক্তিগত স্বাস্থ্য বিমা ও জীবন বিমার জিএসটি মকুব করলেন। এই ছাড়ের ফলে জীবন ও স্বাস্থ্য বিমা প্রিমিয়াম কমবে, যা সাধারণ মানুষের পকেটে সাশ্রয় আনবে।

আরও পড়ুন, বন্ধন ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট আছে? তাহলে আপনার জন্য বিরাট খুশির খবর। ক্লিক করে জেনে নিন

এই পরিবর্তন বিমা শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। স্বাস্থ্যবিমায় GST মকুব হওয়ায় প্রিমিয়াম ও চিকিৎসা খরচ কমবে। জীবনবিমা পলিসি কেনার আগ্রহ বাড়বে এই GST Council এর সিদ্ধান্তের কারণে। সরকার এটিকে সামাজিক সুরক্ষার দিকে একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। বিমা কোম্পানিগুলো এখন নতুন প্রচারণা শুরু করতে পারে। সামগ্রিকভাবে, এটি দেশের স্বাস্থ্য এবং আর্থিক নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করবে। তবে বিমার ক্ষেত্রে GST rate কমানোর পর পশ্চিমবঙ্গের অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘এই সুযোগে অনেক সংস্থাই প্রিমিয়াম বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই GST রেট কমানোর পাশাপাশি বিমা সংস্থা যেন প্রিমিয়াম বাড়াতে না পারে। সেদিকে নজর রাখতে হবে।

GST News: কোন পণ্যের দাম কমলো?

সরকারি তথ্য অনুসারে, ১৭৫টি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমবে এই পরিবর্তনের ফলে। এর মধ্যে ৩৩টি জীবনরক্ষক ওষুধ রয়েছে, যার মধ্যে ক্যানসারের তিনটি ওষুধও অন্তর্ভুক্ত। GST হার কমায় এই পণ্যগুলোর মূল্য হ্রাস পাবে। সাধারণ মানুষের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তি, বিশেষ করে চিকিৎসা খাতে। ওষুধের দাম কমলে স্বাস্থ্যসেবা আরও সুলভ হবে। এছাড়া, অন্যান্য দৈনন্দিন পণ্য যেমন খাদ্যসামগ্রীতেও প্রভাব পড়বে।

GST Reforms এর এই তালিকায় অনেক খাদ্যপণ্য এবং গৃহস্থালী সামগ্রী রয়েছে। GST সংস্কারের কারণে এগুলোর দাম ৫ থেকে ১৮ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। ক্যানসার ওষুধের দাম কমায় রোগীদের চিকিৎসা খরচ হ্রাস পাবে। সরকার এটিকে জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ হিসেবে প্রচার করছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমলে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো উপকৃত হবে। এই পরিবর্তন অর্থনীতির সাম্যতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

কোন পণ্যের দাম বাড়লো?

প্রতিবেদনে দাম বাড়ার বিস্তারিত তথ্য না থাকলেও, কয়েকটি ব্যতিক্রমী পণ্যে ৪০ শতাংশ GST বজায় রাখা হয়েছে। এর মধ্যে বিলাসসামগ্রী, সিগারেট, গুটকা এবং পানমশলা জাতীয় দ্রব্য অন্তর্ভুক্ত। এই পণ্যগুলোর দাম সামান্য বাড়তে পারে GST হারের কারণে। সরকার এগুলোকে স্বাস্থ্যহানিকর বলে বিবেচনা করে উচ্চ কর রেখেছে। তামাকজাত পণ্যের দাম বাড়লে ধূমপান কমতে পারে। অন্যদিকে, বিলাসী পণ্যের উপর উচ্চ কর অর্থনৈতিক সাম্যতা বজায় রাখবে।

আরও পড়ুন, ব্যবসায়ীদের বিরাট সুখবর, পুঁজি নিয়ে আর চিন্তা নেই।

এই উচ্চ হারের ফলে সিগারেটের মতো পণ্যের বাজারে প্রভাব পড়বে। গুটকা এবং পানমশলার দাম বাড়ায় স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়তে পারে। সরকার এই পণ্যগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এই পদক্ষেপ নিয়েছে। বিলাসসামগ্রীর দাম বাড়লে ধনী শ্রেণির উপর প্রভাব পড়বে। তবে সাধারণ পণ্যে দাম না বাড়ায় সামগ্রিক প্রভাব ইতিবাচক। এই সিদ্ধান্ত স্বাস্থ্য এবং অর্থনৈতিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সামগ্রিক প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ

এই GST সংস্কার দেশের অর্থনীতিকে নতুন গতি দেবে। জিএসটি কাউন্সিল মিটিং দু’দিনের, যাতে আরও বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে এই পরিবর্তন জনকল্যাণের দিকে মনোনিবেশ করেছে। বিমা খাতে ছাড়ের ফলে বিনিয়োগ বাড়বে। ওষুধের দাম কমায় স্বাস্থ্যসেবা উন্নত হবে। সামগ্রিকভাবে, এটি ভারতের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎকে উজ্জ্বল করবে।

click here red button

এই পরিবর্তনের ফলে ব্যবসায়ীদের কর প্রক্রিয়া সহজ হবে। সরকার এটিকে দীপাবলির উপহার হিসেবে দেখছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো রাজনৈতিক নেতাদের দাবি পূরণ হয়েছে। GST এর নতুন হার অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পথ প্রশস্ত করবে। দেশবাসী এখন এই সুবিধা উপভোগ করতে পারবে। ভবিষ্যতে আরও সংস্কার আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন: Sharing is Caring!